ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ জাতীয় ]

পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে তিন জেলার অসংখ্য পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৩৭, ২৮ মে ২০২৪
পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে তিন জেলার অসংখ্য পরিবার
ফাইল ছবি

ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে দেশজুড়ে দমকা হাওয়াসহ ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে পার্বত্য জেলাসমূহে ভূমিধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে পাহাড় ধসের বিষয়ে পাহাড়ি এলাকাগুলোতে সতর্ক করতে মাইকিং শুরু হয়েছে। এছাড়া প্রস্তুত করা হয়েছে আশ্রয়কেন্দ্র।

পাহাড়ি এলাকায় সাধারণত বেশি বৃষ্টি হলে পাহাড়ধস হয়। এর আগে ২০১৭ সালের ১২ থেকে ১৩ জুন পার্বত্য তিন জেলাসহ ছয় জেলায় পাহাড় ধসে ১৬৮ জন নিহত হয়। ১৩ জুন শুধু রাঙামাটিতেই নিহত হয় ১২০ জন। পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসে পাহাড় ধসে এত প্রাণহানির ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি।

একনজরে দেখে নিন পাহাড়ি জেলাগুলোর সবশেষ অবস্থা-

Advertisement

রাঙামাটি: ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে রাঙামাটিতে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। অতি বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড় ধসের আশঙ্কা করছে জেলা প্রশাসন। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

২০১৭ সালে ১৩ জুন রাঙামাটিতে পাহাড় ধসে ১২০ জন নিহত হয়। প্রতিবছর ভয়াল স্মৃতির দিনটি ফিরে এলেও থামেনি পাহাড়ের পাদদেশে মানুষের ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস। বরং আরও বেড়েছে নতুন করে বসতি স্থাপন। গত রোববার থেকে রাঙামাটিতে হালকা ও মাঝারি আকারে থেমে থেমে বৃষ্টিপাত শুরু হলেও পাহাড় ধসের খবর পাওয়া যায়নি। 

জেলার আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গতকাল সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রাঙামাটিতে ৭২ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। যাকে ভারী বর্ষণ হিসেবে ধরে নেয়া যায়। এ বৃষ্টিপাত আরো দুয়েক দিন থাকতে পারে। ফলে পাহাড় ধসের আশঙ্কা রয়েছে। 

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন খান জানান, ঘূর্ণিঝড় রেমালের ক্ষতি এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে। এ ছাড়াও ৩৩২টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলা সদরসহ প্রতিটি উপজেলায় কনট্রোল রুম খোলা হয়েছে। এ ছাড়া পুলিশ, আনসার, রেড ক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন দপ্তরসমূহকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। 

বান্দরবান: সোমবার (২৭ মে) সকাল থেকে বান্দরবানে বাতাসের সঙ্গে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়েছে। কখনো মাঝারি ঝড়-বৃষ্টি হয়েছে। বিকেলে পৌরসভা ও ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জেলার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হয়েছে। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলা শহরের বনরুপা, লাঙ্গি পাড়া, কালাঘাটা, বালাঘাটাসহ বিভিন্ন স্থানে ঝুঁকিপূর্ণভাবে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করছেন অধিকাংশ মানুষ। ফলে ঘূর্ণিঝড় কিংবা অতিবৃষ্টির প্রভাবে পাহাড় ধসের আশঙ্কা রয়েছে।

গত বছর বান্দরবান জেলায় ভারী বৃষ্টি ও পাহাড় ধসে অন্তত ১০ জন প্রাণ হারিয়েছে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসরত বাসিন্দাদের বার বার সরে যেতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং ও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। 

জেলা প্রশাসক শাহ্ মোজাহিদ উদ্দিন বলেন, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় বান্দরবানে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে প্রশাসন। জেলার ৭ উপজেলায় ২১৪টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড়াও শুকনো খাবার, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও ফায়ার সার্ভিস, রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবক টিমের কুইক রেসপন্সসহ টিম প্রস্তুত রয়েছে।

খাগড়াছড়ি: ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে খাগড়াছড়িতে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। এতে পাহাড় ধসের শঙ্কায় প্রায় সাড়ে ৩ হাজার পরিবার। এরই মধ্যে প্রশাসন পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। পাহাড় ধস হলে যেন সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন না হয় সেজন্য কাজ করছে সড়ক ও জনপদ বিভাগ।

বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে জেলার সবুজবাগ, শালবাগান, কুমিল্লটিলা, কলাবাগানসহ শহরতলীর বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধস হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এসব জায়গায় ধসের আশঙ্কা করছে প্রশাসনও। পাহাড় ধসের আতঙ্ক নিয়ে স্থানীয়রা বসবাস করছে।

সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাকসুদুর রহমান জানান, খাগড়াছড়ির দীঘিনালা-মারিশ্যা ও মহালছড়ি-সিন্দুকছড়ি সড়কে পাহাড়ধস মোকাবিলায় কাজ করছে সড়ক বিভাগ। পাহাড় ধসে যাতে যানচলাচল বিঘ্নিত না হয় সে ব্যাপারে প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. সহিদুজ্জামান বলেন, পাহাড় ধসের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে এবং দুর্যোগ কবলিতদের জন্য সার্বিক প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখা হচ্ছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে ১০০ আশ্রয়কেন্দ্র।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এএল
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!