ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ জাতীয় ]

বেরিয়ে এলো মতিউরের বান্ধবী আরজিনা, তারও অঢেল সম্পদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৪:৪২, ৫ জুলাই ২০২৪
বেরিয়ে এলো মতিউরের বান্ধবী আরজিনা, তারও অঢেল সম্পদ
আরজিনা খাতুন ও মতিউর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

এবার ছাগলকাণ্ডে আলোচিত ওএসডি রাজস্ব কর্মকর্তা মতিউর রহমানের এক বান্ধবীর সন্ধান পাওয়া গেছে। মতিউরের অধস্তন এই কর্মকর্তার নাম আরজিনা খাতুন। বন্ধুর সহায়তায় তিনিও বানিয়েছেন অবৈধ সম্পদের পাহাড়! 

কী নেই এই আরজিনা খাতুনের? রাজধানীতে ফ্ল্যাট, গ্রামে আলিশান বাড়ি, পরিবারের সদস্যদের নামে-বেনামে জমি, বাসায় বিলাসবহুল ইন্টেরিয়র এবং দামি সব আসবাবপত্র রয়েছে তার। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে আরজিনা খাতুনের বিরুদ্ধে এসেছে এসব অভিযোগ।

জানা গেছে, মাত্র তিন বছরে আরজিনা খাতুন ৫০০ ভরি স্বর্ণালঙ্কারের মালিক হয়েছেন। এর ২০০ ভরিই চোরাচালানের মাধ্যমে আনা হয়েছে বলে দুদকের কাছে রয়েছে অভিযোগ। এদিকে মতিউরের সঙ্গে আরজিনার কিছু ফোনালাপও এরই মধ্যে গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। 

Advertisement

রাজস্ব বোর্ডের মূসক মনিটরিং, পরিসংখ্যান ও সমন্বয়ের দ্বিতীয় সচিব এই আরজিনা খাতুন। এর আগে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে তিনি ছিলেন উপ-কমিশনার।

এদিকে এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অভিযোগ করেছেন, এই নারী কর্মকর্তা শুধু মতিউর রহমানের বান্ধবী হিসেবে বহু অনৈতিক সুবিধা আদায় করেছেন।

গত ১০ জুন দুদকে আরজিনা খাতুনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন একজন। এতে বলা হয়, মিথ্যা তথ্য দিয়ে পণ্য আমদানি, মানিলন্ডারিং, স্বর্ণ চোরাচালান চক্রের সঙ্গে যোগসাজস আর দুর্নীতি করে বিপুল সম্পদের মালিক বনেছেন আরজিনা খাতুন।

দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, চট্টগ্রামে বদলির পর ২০২২ সালেই গ্রামে তার পরিবারের সদস্যদের নামে কিনেছেন ৫টি জমি। এর বাজারমূল্য অর্ধকোটি টাকা। সেসব জমির দলিলও পাওয়া গেছে। এছাড়া গ্রামে আরো প্রায় এক কোটি টাকার জমি বন্ধক নিয়েছেন আরজিনা। 

আরজিনা খাতুনের ঘনিষ্ঠজনরা জানান, তার ব্যবহৃত বেশিরভাগ গহনাই অনেক দামি। আরজিনা খাতুনের অন্তত ১০ লাখ টাকা মূল্যমানের হীরার গহনা রয়েছে।

জানা গেছে, ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে আরজিনা খাতুন নগদ টাকায় অন্তত ৫০০ ভরি স্বর্ণ আর ডায়মন্ডের অলংকার কিনেছেন। যার ২০০ ভরি এক সিএন্ডএফ ব্যবসায়ীর মাধ্যমে ৩ ধাপে চোরাচালানের মাধ্যমে আনার তথ্য ও দালিলিক প্রমাণ দুদকে করা অভিযোগের সঙ্গে জমা দেওয়া হয়েছে। ২০২২ থেকে শেয়ার ব্যবসাও করেছেন তিনি। এক দিনে ১০ লাখ টাকা বিনিয়োগে দ্বিগুণ লাভের নজিরও আছে তার। তার তিনটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বিপুল নগদ টাকা ও সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগও রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, মতিউর রহমানের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কে জড়ানোর পর থেকেই দ্রুত বাড়তে থাকে তার সম্পত্তি। মতিউরের সঙ্গে একই ব্রোকারেজ হাউজে শেয়ার ব্যবসায় বিনিয়োগ ছিল আরজিনার। অভিযোগ আছে, কারসাজি করে আরজিনাকে শেয়ার বাজারে মুনাফা তুলে দেন মতিউরই। 

এদিকে মতিউর-আরজিনার মোবাইল ফোনালাপের অডিও রেকর্ড অতি সম্প্রতি ফাঁস হয়েছে। এতে তাদের মধ্যে স্পর্শকাতর অশ্লীল কথাবার্তার ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে, যা সামাজিক  যোগাযোগমাধ্যমে এরই মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেডআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!