নোমান রামগতি উপজেলার চর আলগী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের চর মেহের গ্রামের মৃত আবু তাহের মিয়ার ছোট ছেলে। তার স্ত্রীর নাম সাফিয়া সুলতানা স্বর্ণা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্বর্ণা ঢাকার মিরপুরে শিক্ষা অধিদফতরে চাকরি করতেন। বর্তমানে তিনি একজন গৃহিণী।
নোমানের বড় ভাই চর আলগী ইউনিয়নের রামদয়াল বাজারের ওষুধ ব্যবসায়ী মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘নোমান উপজেলার চর মেহের আজিজিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৯৬ সালে এসএসসি পাস করেন। ১৯৯৮ সালে সেনাবাহিনীতে সাধারণ সৈনিক (জিডি) হিসেবে যোগ দেন তিনি। ১৯ বছর সেনাবাহিনীতে চাকরির পর তিনি অবসর গ্রহণ করেন। ২০০৭ সালে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা শহরের বিদ্যুৎ কর্মকর্তা শাহাব উদ্দিনের মেয়ে সাফিয়া সুলতানা স্বর্ণাকে বিয়ে করেন। সাফিয়া সুলতানা স্বর্ণা ঢাকার মিরপুরে শিক্ষা অধিদফতরে চাকরি করতেন। বর্তমানে তিনি গৃহিনী। বিয়ের পর থেকে নোমানের সঙ্গে পরিবারের কারো সম্পর্ক নেই।
.png)
তিনি আরো বলেন, বাবা আবু তাহের মিয়া জীবিত যখন ছিলেন তখন মাঝে-মধ্যে গ্রামে আসতেন নোমান। বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে বাড়িতে তিনি আসতেন না। স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় বসবাস করছিলেন। তার নামে যত সম্পত্তি রয়েছে তার চেয়ে বেশি সম্পত্তি স্ত্রীর নামে পাবনার ঈশ্বরদীতে থাকতে পারে। তিনি যা কিছু করেছেন, সবই স্ত্রীর কথায় করেছেন। স্ত্রীর কথা ছাড়া কোনো কাজই করতো না নোমান।
নোমান সিদ্দিকীর গ্রামের বাড়িতে দেখা যায়, নোমানের বাড়িটি আধাপাকা। বাড়িটি তার বাবা আবু তাহের মিয়া তৈরি করেছেন। এর পাশেই রয়েছে একটি টিনশেডের বাড়ি। এখানে বর্তমানে বসবাস করেন নোমানের দুই ভাই মো. ফারুক মিয়া ও মেজো ভাই মো. সালা উদ্দিন। বাড়ির পশ্চিমে মেঘনা নদী। গ্রামে নোমানের একটি মাছ চাষের পুকুর ছাড়া অন্য কোনো সম্পত্তির তথ্য দিতে পারেননি এলাকাবাসী।
চর আলগী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান জাকির হোসেন লিটন চৌধুরী জানান, নোমান সিদ্দিকী তার প্রতিবেশী। গ্রামে তার একটি মাছ চাষের পুকুর ছাড়া আর কোনো সম্পত্তি আছে বলে জানা নেই। নোমানের এত সম্পদ ও জাল জালিয়াতির কথা তিনি আগে কখনো জানতেন না। ভাই বোন ও ভগ্নিপতিদের কারো সঙ্গেই তার সম্পর্ক ভাল ছিল না।
গ্রামের স্কুল শিক্ষক সাহাব উদ্দিন জানান, ঈদে নোমান ছিদ্দিকী বাড়িতে এলে ২-৩দিন থেকে চলে যেতেন। কারো সঙ্গে মিশতেন না। তিনি গ্রামে তেমন সম্পত্তি করেননি। তার বাবা মৃত আবু তাহের ছিলেন সাধারণ মানুষ। তিনি কৃষি কাজ করতেন। তারা তিন ভাই। বড় ভাই মো. ওমর ফারুক রামদয়াল বাজারে ফার্মেসি ব্যবসা করেন ও মেজো ভাই মো. সালা উদ্দিন সেনাবাহিনীতে ওয়ারেন্ট অফিসার হিসেবে কর্মরত রয়েছে। নোমান সিদ্দিকী ভাইদের মধ্যে ছোট।
নোমানের ভাই ওমর ফারুক বলেন, পারিবারিকভাবে নোমানের সঙ্গে কারও যোগাযোগ নেই। বিয়ের পর থেকে তিনি ঢাকায় থাকেন। তার তিন সন্তান রয়েছে। বাবা মারা যাওয়ার আগ থেকে পারিবারিক সম্পর্ক বিছিন্ন রয়েছে। কখনো বাড়িতে এলে তিনি একা থাকতেন। পরিবারের কারো সঙ্গে কথা পর্যন্ত বলতেন না। গ্রামের তার তেমন কোনো সম্পত্তি নেই। যা কিছু রয়েছে বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তি। এছাড়া তার ব্যাপারে তোমন কিছুই জানা নেই আমাদের।
বিপিএসসি প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত থাকার অভিযোগে সারাদেশে পুলিশের অভিযানে ১৭ জন গ্রেফতার হয়েছেন। তাদের একজন নোমান সিদ্দিকী। নোমানের নামে অভিযোগ, সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সাবেক চেয়ারম্যানের গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলীর কাছ থেকে প্রশ্নপত্র নিয়ে মোটা অংকের টাকায় বিক্রি করতেন।