বুধবার দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীরদ্বীপ এলাকার গোলারচর এলাকা তথা নাফ নদীর মোহনা অতিক্রমকালে এ ঘটনা ঘটে। টেকনাফগামী ঐ দুটি ট্রলারে ৬০-৭০ জন যাত্রী ছিলেন।
ট্রলার মালিকরা হলেন- টেকনাফ উপজেলার সেন্টমার্টিনের ৩-নং ওয়ার্ডের পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত ইব্রাহিমের ছেলে মো. রশিদ ও শামসুল আলমের ছেলে মো. রুবেল।
.png)
এ বিষয়ে শাহপরীর দ্বীপ আউটপোস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা জানান, মিয়ানমারের ভেতর থেকে বাংলাদেশি দুটি যাত্রীবাহী কাঠের ট্রলার লক্ষ্য করে গুলি চালানোর সময় মিয়ানমারের দক্ষিণ জলসীমা থেকে নাফ নদী পথে উত্তর দিকে একটি নীল ত্রিপল দিয়ে ঢাকা বড় কাঠের ট্রলার যাচ্ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, নীল ত্রিপল দিয়ে ঢাকা বড় কাঠের ট্রলারটি উদ্দেশ্য করে মিয়ানমারের ভেতর থেকে এলোপাতাড়ি গুলি চালানো হয়েছে। ফলে সেই গুলি এসে বাংলাদেশি যাত্রীবাহী কাঠের ট্রলার এবং শাহপরীরদ্বীপ জেটিতে আঘাত করে।
উল্লেখ্য, বিআইডব্লিউটিএ কিছুদিন আগে নাফ নদীর মোহনায় দুটি বয়া স্থাপন করে, যাতে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন রুটে গমনাগমন করা জলযান ঐ বয়া ফলো করে। ফলে মিয়ানমারের কোনো ক্ষুদ্র অস্ত্রের গোলা বাংলাদেশি নৌযানে আঘাত করতে না পারে। কিন্তু আজ সেন্টমার্টিন থেকে টেকনাফে আগত দুটি যাত্রীবাহী কাঠের ট্রলার ঐ বয়া অনুসরণ না করে অতীতের প্রচলিত পথে আসার ফলেই গুলি যাত্রীবাহী ট্রলারে লাগে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জানা গেছে, পরবর্তীতে নীল ত্রিপল দিয়ে ঢাকা মিয়ানমারের বড় কাঠের ট্রলারটি আজ ৬টা ৩০ মিনিটে ৬ জন রোহিঙ্গা মাঝি, ১ জন মগ সম্প্রদায়ের মাঝি এবং খাদ্যরশদসহ বাংলাদেশের জল সীমায় প্রবেশ করে। পরে টেকনাফ কোস্টগার্ডের টহল টিম ট্রলার এবং মাঝিদেরকে আটক করে।
ঐ ট্রলারে থাকা মাঝিরা জানায়, তারা সিটওয়ে/আকিয়াব থেকে সাধারণ রোহিঙ্গা ও BGP 5 Bn এর জন্য সরকারের অনুমতিতে খাদ্য রশদ নিয়ে মংডু শহরের সংলগ্ন কিয়াং চং জেটিতে আগমন করলে আরাকান আর্মির সদস্যরা তাদেরকে উদ্দেশ্য করে গুলি করে। তখন তারা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে। বর্তমানে টেকনাফ কোস্টগার্ডের টহল টিম ট্রলারটি যাচাই-বাছাই করছে।
টেকনাফ কোস্টগার্ড জানায়, যাচাই-বাছাই শেষে ট্রলারে কোনো অস্ত্র-গোলাবারুদ পাওয়া না গেলে তাদেরকে সিটওয়ে/আকিয়াবের উদ্দেশে ছেড়ে দেওয়া হবে।