সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউটে বহুতল ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছিল ২০১২ সালে। এতে ব্যয় হয় প্রায় ১৪ কোটি টাকা। বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ে নির্মিত ভবনটির বিভিন্ন ত্রুটি ধরা পড়ে চলতি বছর।
কারিগরি ত্রুটির প্রমাণ পাওয়ায় ভবনটির সম্প্রসারণ প্রকল্প বাতিল করে নতুন ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। তবে এ অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি এখন পর্যন্ত।
.png)
বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট (বিওআরআই) বাংলাদেশের প্রথম ও একমাত্র সমুদ্রবিদ্যা বিষয়ক জাতীয় প্রতিষ্ঠান। এটি কক্সবাজারের রামুতে অবস্থিত একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান, যেটি সমুদ্র বিষয়ক গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা, ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণে সরকারকে সহায়তা ও পরামর্শ প্রদান করে। সামুদ্রিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিতের লক্ষ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতায় এ প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয়।
সরেজমিন দেখা গেছে, ৬ তলা ভিত্তি বা ফাউন্ডেশন দিয়ে তিনতলা পর্যন্ত নির্মাণ শেষ হয়েছে। ভবনটি সম্প্রসারণ করে ৬ তলা নির্মার্ণের জন্য বেশ কয়েকটি কলাম এবং বিম ভাঙা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।
প্রতিষ্ঠানটির একজন কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশে সুমদ্র গবেষণার জন্য একমাত্র প্রতিষ্ঠান ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট (বিওআরআই)। তবে প্রতিষ্ঠানটির ভবন নির্মাণে বড় ধরনের একাধিক ত্রুটি ধরা পড়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক ভবনের সম্প্রসারণের কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। এরপর থেকে এভাবে পড়ে আছে। এতে প্রচণ্ড ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে ভবনটি।
জানা যায়, ভবনের চতুর্থ থেকে ষষ্ঠতলা পর্যন্ত বর্ধিতকরণ কাজের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ২০২৩ সালের ৫ এপ্রিল ডেল্টা ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনসোর্টিয়াম লিমিটেড নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নির্মাণ কাজের চুক্তি হয় গণপূর্ত অধিদফতরের। চুক্তি অনুযায়ী ১৫ কোটি ৯৭ লাখ টাকা মূল্যের এ প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা রয়েছে ২০২৫ সালের মার্চের মধ্যে। প্রথম ধাপে তিনতলার কাজও এ প্রতিষ্ঠানটিই করেছিল।
সংশ্লিষ্টরা বলেন, কাজ পাওয়ার পর সম্প্রতি নির্মাণকাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এরই মধ্যে নির্মাণকাজ তদারকি করতে গিয়ে বিওআরআই-এর মহাপরিচালক ড. তৌহিদা রশীদের নজরে পড়ে পুরাতন ভবনের বেশ কিছু কারিগরি ত্রুটি। তিনি তাৎক্ষণিক নতুন প্রকল্পের নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন এবং পুরাতন ভবনের সার্বিক নির্মাণকাজের মান নিয়ে সরেজমিন তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার অনুরোধ জানান।
ভবনটির প্রথম পর্যায় নির্মাণের টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় ২০১১-১২ অর্থবছরে। গণপূর্ত অধিদফতরের তত্ত্বাবধানে ১৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ভবনটি নির্মাণ করা হয়। ত্রুটির বিষয়ে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ড. তৌহিদা চিঠি লেখেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে।
চিঠিতে তিনি বলেন, স্ট্রাকচার ডিজাইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে। নির্মাণকাজে অনেক কারিগরি ত্রুটি ধরা পড়েছে। স্থাপত্য নকশাবহির্ভূত ব্রিক ওয়ালের বিচ্যুতি পাওয়া গেছে। এছাড়া কলাম ও বিমে রডের সংখ্যাও কম দেখা গেছে বলে তিনি চিঠিতে উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে গত মার্চে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সভায় কারিগরি ত্রুটি ধরা পড়ায় নতুন করে তিনতলা বিশিষ্ট আরেকটি ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়।
কক্সবাজার গণপূর্ত অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, পুরাতন ইনস্টিটিউট ভবনে বেশ কিছু কারিগরি ত্রুটি ধরা পড়েছে। এসব ত্রুটি সমাধান করে ভবনটির ঊর্ধ্বমুখী নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু বিওআরআই কর্তৃপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তিনতলা বিশিষ্ট নতুন আরেকটি ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।