সারাদেশে একযোগে জাতীয় সংগীত পরিবেশন
সারাদেশে একযোগে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীত পরিবেশন কর্মসূচি পালন করেছে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের বিপরীতে উদীচীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীত পরিবেশন কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক বজলুর রহমান। এ সময় উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগের সম্পাদক কংকন নাগসহ ১০০-১২০ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, ৪ সেপ্টেম্বর ঐতিহ্যবাহী এ সাংস্কৃতিক সংগঠনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধ, জাতীয় পতাকা, জাতীয় সংগীতসহ এদেশের সর্বস্তরের জনসাধারণের প্রাণের সব বিষয় নিয়ে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র দেখা যাচ্ছে।
.png)
গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, একটি ধর্মান্ধ স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব গণঅভ্যূত্থানের মূল সুরকে বিকৃত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। এরা মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনার বিরোধিতা করা থেকে শুরু করে জাতীয় সংগীত, জাতীয় পতাকার উপর আঘাত হানতে শুরু করেছে। এই হীন চক্রান্তের প্রতিবাদ এবং এর সঙ্গে জড়িতদের রুখে দেয়াওর প্রত্যয় নিয়ে দেশের সর্বত্র একযোগে ‘উন্মুক্ত স্থানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং জাতীয় সংগীত পরিবেশন কর্মসূচি’ হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী।
জানা গেছে, জাতীয় প্রেস ক্লাবে গত মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে শহীদের প্রকৃত সংখ্যা ও জাতীয় সংগীতের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে কথা বলেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (বরখাস্ত) আবদুল্লাহিল আমান আযমী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত যেন নতুন করে লেখা হয়। বর্তমানে যে জাতীয় সংগীত চলছে, তা করেছিল ভারত। দুই বাংলাকে একত্র করার জন্য করা হয়েছিল এই জাতীয় সংগীত। বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। তাই বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত নতুনভাবে হওয়া উচিত।
আমান আযমী বলেন, জাতীয় সংগীত করার জন্য অনেক গান রয়েছে। এই সরকারের উচিত, নতুন কমিশন গঠন করে একটি নতুন জাতীয় সংগীত তৈরি করা।
তার এই বক্তব্য নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে বিতর্ক চলছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এলো উদীচীর কর্মসূচি।