শুক্রবার বেলা ৩টার দিকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর।
আবদুল গফুরের ছেলে তারিক আল বান্না মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
.png)
সুদীর্ঘ বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী প্রবীণ ভাষা সৈনিক, সাংবাদিক, প্রাবন্ধিক, সংস্কৃতি সংগঠক, সাবেক কলেজ শিক্ষক ১৯২৯ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি রাজবাড়ী জেলার খানগঞ্জ ইউনিয়নের দাদপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যানরত সময়ে তিনি মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার আন্দোলনের ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। ২০০৫ সালে তিনি একুশে পদক লাভ করেন।
আব্দুল গফুরের পিতার নাম হাজী হাবিল উদ্দিন মুন্সী ও মায়ের নাম শুকুরুন্নেসা খাতুন। ১৯৪৫ সালে স্থানীয় মইজুদ্দিন হাই মাদরাসা থেকে মাধ্যমিক ও ১৯৪৭ সালে কবি নজরুল সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে ভর্তি হন। ৬২ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
পেশাজীবনে আব্দুল গফুর ১৯৫৯ থেকে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের দারুল উলুমের (ইসলামিক একাডেমি) সুপারিনটেনডেন্ট হিসেবে কাজ করেন। পরে এক বছর চট্টগ্রামে জেলা যুবকল্যাণ অফিসার হিসেবে কাজ করেন।
১৯৬৩ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ এবং ১৯৭২ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত আবুজর গিফারী কলেজে শিক্ষকতা করেন। ১৯৮০ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের প্রকাশনা পরিচালক ছিলেন।
তিনি পঞ্চাশের দশকে ও পরবর্তীতে পাক্ষিক জিন্দেগী পত্রিকা, সাপ্তাহিক সৈনিক, দৈনিক মিল্লাত, দৈনিক নাজাত, দৈনিক আজাদ, দ্য ডেইলি পিপল প্রভৃতি পত্রিকার সম্পাদক, সহকারী সম্পাদক ও সহ-সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
আধ্যাপক আবদুল গফুর তমদ্দুন মজলিসের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সহযোগী ও ভাষা আন্দোলনের প্রত্যক্ষ সৈনিক। তিনি বহু সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন ছাড়াও ভাষা আন্দোলনের স্থপতি সংগঠন তমদ্দুন মজলিসের অভিভাবক পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। একুশে পদকসহ অসংখ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পদক লাভ করেছেন তিনি।