আমা দাব্লামের খাড়া রিজ ও ঢালু দেয়ালের জন্য অনেকেই একে ডাকেন ‘হিমালয়ের ম্যাটারহর্ন’ নামে। ৭০ থেকে ৯০ ডিগ্রি ঢালু পথ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে নেপালের থুম্বু এলাকায় অবস্থিত এই পর্বতকে সম্মানের চোখে দেখেন পৃথিবীর বাঘা বাঘা পর্বতারোহীরা। এই পর্বত এতই সমীহের যে এর ছবি দেখা যায় নেপালের এক রুপির ব্যাংক নোটে।
শনিবার নেপালের স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টায় এই সমীহ জাগানিয়া পর্বত শিখরে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা উড়িয়েছেন তরুণ পর্বতারোহী তানভীর আহমেদ শাওন।
.png)
গত ১৩ অক্টোবর অভিযানের জন্য নেপালের পথে দেশ ছাড়েন তানভীর। ১৪ অক্টোবর প্রয়োজনীয় অনুমতি এবং অন্যান্য প্রস্তুতি সম্পন্ন করে পরদিনই পৌঁছে যান রামেছাপ বিমানবন্দরে। কিন্তু বৈরী আবহাওয়াতে সেখান থেকে লুকলার নিয়মিত বিমান না চলাতে সেখানেই দুইদিন আটকে থাকতে হয়।
এতবড় স্বপ্ন চোখে নিয়ে কি বসে থাকা যায়! তাই তানভীর পরদিনই সড়ক পথে যাত্রা করেন বেস ক্যাম্পের পথে। কিছু পথ গাড়িতে এবং বাকিটা হেঁটে ২৪ অক্টোবর আমা দাব্লাম বেস ক্যাম্পে পৌঁছে যান তিনি। সেখানে থেকে একবার তিনি ঘুরে আসেন ক্যাম্প-২ থেকে, যা উচ্চতায় স্বল্প অক্সিজেন থাকা আবহাওয়ায় শরীরকে মানিয়ে নেয়ার জন্য অতীব প্রয়োজনীয়। এরপর বেস ক্যাম্পে নেমে এসে শুরু হয় উপযুক্ত আবহাওয়ার জন্য অপেক্ষা। অবশেষে আসে সেই কঠিনতম মাহেন্দ্রক্ষণ।
১ নভেম্বর তানভীর উঠে যান ক্যাম্প-২ এ। মধ্য রাতে শুরু হয় তার চূড়ার লক্ষ্যে চূড়ান্ত যাত্রা। ২ নভেম্বর সকালে তিনি এই পর্বত শীর্ষ স্পর্শ করেন। পুরো পথেই তার সঙ্গে ছিলেন পর্বতারোহী বন্ধু ও গাইড বীরে তামাং।
অভিযানের অপারেটর স্লোয়ি হরাইজন ট্রেক্স অ্যান্ড এক্সপিডিশন নামক প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী বোধা রাজ ভান্ডারির সূত্র দিয়ে এই খবর নিশ্চিত করেন তানভীরের ক্লাব ‘ভার্টিক্যাল ড্রিমার্স’ এর পক্ষ থেকে অভিযানের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ফারহান জামান।
তিনি বলেন, এ নিয়ে দ্বিতীয়বার আমা দাব্লাম সফল হলাম। আমরা গর্বিত এবং উচ্ছ্বসিত। তবে তানভীরের বেস ক্যাম্পে নেমে আসতে দুইদিন সময় লাগবে বলে আমরা ধারণা করছি। তার নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য দোয়াপ্রার্থী।
হিমালয়ের এই অন্যতম কঠিন চূড়ায় প্রথম বাংলাদেশি সফলতা আসে ২০২২ সালে ভার্টিক্যাল ড্রিমার্সের অন্যতম পর্বতারোহী ডা. বাবর আলীর হাত ধরে। এরপর ২০২৩ সালে নিশাত মজুমদার এবং কাউসার রূপক এবং এ বছর তোফিক তমাল এই পর্বত সামিট করেন। তানভীর পঞ্চম বাংলাদেশি হিসেবে অর্জন করলেন এই বিরল কীর্তি।
তানভীর আহমেদ শাওন কিশোরগঞ্জ সদরের খরমপট্টির তারেক উদ্দিন আহমেদ আবাদ এবং শিরীন আহমেদ শিউলির সন্তান। তানভীর কর্মরত আছেন ভিএফ এশিয়া বাংলাদেশের সিনিয়র প্ল্যানার হিসেবে।