আইনজীবী সাইফুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার এবং বিচারের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভে অংশ নেয় বিভিন্ন সংগঠন এবং সাধারণ জনগণ।
সনাতন জাগরণ জোটের কেন্দ্রীয় মুখপাত্র চিন্ময় দাসের মুক্তির দাবিতে সনাতনীদের বিক্ষোভ এবং পরবর্তীতে আইনজীবী সাইফুল ইসলামের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে গতকাল বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর মেডিকেল কলেজ এবং রংপুর মহানগর ছাত্রদল বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এ সময় তারা আইনজীবী হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার এবং বিচারের দাবি জানায়। পাশাপাশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ইসকনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার দাবি তোলে।
.png)
এদিকে আইনজীবী সাইফুল ইসলামের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে আজও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং সংগঠন প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে। ইসলামী ছাত্রশিবিরও বিভাগীয় পর্যায়ে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করেছে।
অপরদিকে চিন্ময় দাসের গ্রেফতারের প্রতিবাদে সনাতনীরা বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে। হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ চিন্ময় দাসের মুক্তির দাবিতে আগামী ৩০ নভেম্বর থেকে প্রতিটি হিন্দু পরিবারে উপবাস এবং মন্দিরগুলোতে প্রার্থনা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
গতকাল ঠাকুরগাঁওয়ে সনাতনীদের একটি মিছিল শেষে সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তার গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় ১৫-১৬ জন দুষ্কৃতিকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গতকাল মঙ্গলবার চিন্ময় দাসের গ্রেফতারের প্রতিবাদে চট্টগ্রামে সনাতন অনুসারীরা আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করে, সেখানে আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এ ঘটনা দেশব্যাপী নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে এবং জনসাধারণের মধ্যে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র দফতর চিন্ময় দাসের জামিন বাতিলের প্রতিবাদে একপাক্ষিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, যা স্থানীয় জনগণের মধ্যে আরো ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
সনাতন জাগরণ জোটের কর্মকাণ্ড এবং তাদের সাম্প্রতিক প্রতিবাদ কর্মসূচি দেশব্যাপী বিশৃঙ্খলা এবং হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা সৃষ্টি করার আশঙ্কা তৈরি করেছে বলে বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন।