দেশকে এগিয়ে নিতে কৃষক ও কৃষিকে গুরুত্ব দিতে হবে: মৎস্য ও কৃষিমন্ত্রী
দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে কৃষক ও কৃষিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, দেশের ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ মানুষ কৃষক বলে ধারণা করা হলেও তার মতে, ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই দেশের উন্নয়নে কৃষি ও কৃষকের অবদানকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে চাঁদপুর মৎস্য ডিপ্লোমা ও মৎস্য প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের হলরুমে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, যারা আগামী দিনে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেবে, তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করতেই তিনি এখানে এসেছেন। আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর দেশ গড়ে তোলা বর্তমান প্রজন্মের দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, ‘আমরা মাছে-ভাতে বাঙালি। পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে, একই সঙ্গে মাছের চাহিদাও বাড়ছে। তাই প্রতিটি খাতে আধুনিকতার ছোঁয়া আনতে হবে।’ নিজেকে কাজপাগল মানুষ উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেন, তাদের তিনি পছন্দ করেন, প্রশংসা করেন এবং উৎসাহ দিতে ভালোবাসেন।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এমন একটি দেশ, যেখানে সারা বছর ফসল উৎপাদনের পাশাপাশি মাছেরও ব্যাপক সমাহার রয়েছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে কৃষি ও মৎস্য খাতের উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব। এ জন্য আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা এবং উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণ এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে কৃষি ও মৎস্য খাতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ খাতের সঙ্গে যুক্ত মানুষের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে হবে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মকে আধুনিক জ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে দেশের মৎস্যসম্পদ উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।
দেশের মৎস্য খাতের সম্ভাবনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের নদ-নদী, খাল-বিল, পুকুর ও অন্যান্য জলাশয়ে মাছ উৎপাদনের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি এবং প্রশিক্ষিত জনবল নিশ্চিত করা গেলে এ খাতকে আরও সমৃদ্ধ করা সম্ভব। এ জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সময়োপযোগী করে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন এবং মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক।
চাঁদপুর মৎস্য ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউটের ফিশারিজ অফিসার মো. হাসিব রানার সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ বাবুল কৃষ্ণ ওঝা, মৎস্য প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ বি. এম. মোস্তফা কামাল এবং অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী সুচিত্রা রানী দাস।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এ কে এম সলিম উল্যা সেলিম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) একরামুল সিদ্দিক, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএমএন জামিউল হিকমা, জেলা বিএনপির সহসভাপতি খলিলুর রহমান গাজী, ফেরদৌস আলম বাবুসহ মৎস্য বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।