শনিবার (৭ মার্চ) সাপ্তাহিক বন্ধের দিন থাকাতে শিশুপ্রহরে জমে উঠতে শুরু করে বইমেলা। পূর্বের দিনের তুলনায় উপস্থিতি বাড়লেও বিক্রি সেভাবে নেই। চার বছর ধরে কাজ বইমেলায় কাজ করে আসছেন কিডস বুকসের তৌসিফ হাসান। তার ভাষ্য, বিগত মেলাগুলোর তুলনায় খুব কম বিক্রি দেখছেন।
তিনি বাংলাদেশ গার্ডিয়ানকে বলেন, আমি চার বছর ধরে বইমেলায় বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করছি। সচারাচর শিশুপ্রহরে বইমেলা বেশ জমজমাট থাকে কিন্তু এবারের বইমেলার অবস্থা একেবারেই খারাপ, বিক্রি একেবারেই নেই। জানি না, সামনের বিক্রি কেমন হবে!
.png)
রমজানে বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বিক্রিতে কিছুটা প্রভাব রাখছে উল্লেখ করে কিশোর ভুবনের প্রকাশক সন্তোষ রায় বাংলাদেশ গার্ডিয়ানকে বলেন, এবারের আমাদের ৩টার মতো নতুন বই আসবে। অন্য সময় এই সংখ্যা দ্বিগুণ থাকত। তাছাড়া মেলা হওয়া-না হওয়া নিয়ে একটি দোটানা ছিল। যার ফলে প্রস্তুতিও কম এবার। এদিকে রমজানের কারণে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও আসছে না। আগে দেখা যেতে দল বেঁধে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মেলা আসতো। এমনটা কিন্তু এবার চোখে পড়েনি। বিশেষ করে শুক্রবার-শনিবার শিশুপ্রহরে উপচে পড়া ভিড় থাকতো, আমরা প্রকাশক হিসেবে; সেই দিনটাকে ভীষণ মিস করছি। তবে আশা করি, রোজার মধ্যে হলেও এবারের মেলা জমে উঠবে।
এদিকে প্রগতি পাবলিশার্সের প্রকাশক আশরাফ মাসুদের প্রত্যাশা একটি ভালো মেলার। আগামীর দিনগুলোতে মেলা আরও জমে উঠবে উল্লেখ করে বাংলাদেশ গার্ডিয়ানকে তিমি বলেন, বিক্রি এবার তুলনামূলক কম। তাছাড়া মেলার একটি চিরায়ত বৈশিষ্ট্য, দিন যত এগোয় তত বিক্রি বাড়ে। তবে এটি বাচ্চাদেরদের বই বিক্রির ক্ষেত্রে সেইভাবে প্রযোজ্য হয় না। তাদের বইগুলো সাধারণ বন্ধের দিন, বিশেষ করে শিশু প্রহরের সময় ভালো বিক্রি হয়। এবারের মেলার প্রথম দুটি শিশুপ্রহরে, সেরকম বিক্রি নেই। তবে সমানের শিশুপ্রহরগুলোতে বেড়ে যাবে, বলে মনে হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া বইমেলা ১৫ মার্চ পর্যন্ত ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন বেলা ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। রাত সাড়ে ৮টার পর নতুন করে কেউ মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারবেন না। ছুটির দিন বইমেলা চলবে সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত।