ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ ভ্রমণ ]

ঈদের ছুটিতে ঘুরে আসুন মৈনট ঘাট 

ভ্রমণ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৯:২৫, ১৪ মার্চ ২০২৬
ঈদের ছুটিতে ঘুরে আসুন মৈনট ঘাট 
ছবি: সংগৃহীত

চলছে সিয়াম সাধনার মাস রমজান। আর মাত্র কিছুদিন পরই উদযাপিত হবে মুসলিম উম্মাহর খুশীর উৎসব ঈদুল ফিতর।

প্রিয় পাঠক, ঈদের ছুটিকে দ্বিগুণ করতে প্রথম দিনই পরিবার-পরিজন নিয়ে একদিনের জন্য ঘুরে আসতে পারেন দোহারের মৈনট ঘাট থেতে। যেখানে গেলে পদ্মার সৌন্দর্য্য আপনাকে মোহিত করবে।

দোহার উপজেলার মৈনট ঘাটকে স্থানীয়ভাবে ‘মিনি কক্সবাজার’ বলা হয়। ঢাকার নবাবগঞ্জ থেকে সোজা রাস্তা চলে এসে মিলেছে এই ঘাটে। পদ্মা নদীর এক পাড়ে দোহার, অন্যপাড়ে ফরিদপুর। মৈনট ঘাট থেকে লোকজন নদী পার হয়ে ফরিদপুরের গোপালপুরে যায়।

Advertisement

ঘাটের পূর্ব দিকের বিশাল চর দেখে মনে হয় যেন সাগরের বেলাভূমি, আর সামনে প্রশস্ত পদ্মা নদী সাগরের মতোই বিরাট। এখানে নৌকায় চেপে পদ্মায় ভ্রমণ করা যায়, কিংবা পাড় ধরে ইচ্ছেমতো হেঁটে বেড়ানো যায়।

> যা যা দেখবেন
ঢাকার খুব কাছেই অবস্থিত মৈনট ঘাট দিনে গিয়ে দিনেই ফিরে আসার সুবিধার কারণে ভ্রমণপ্রেমীদের মধ্যে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এখানে স্পিড বোটে চড়ে পদ্মার বিশাল জলরাশির ওপর দিয়ে ঘুরে বেড়ানো যায়। ছোট-মাঝারি আকারের ট্রলার ভাড়া পাওয়া যায়, যার ঘণ্টাপ্রতি ভাড়া পড়ে ৮০০ থেকে ১৫০০ টাকার মধ্যে। চাইলে পদ্মার নির্মল পানিতে সাঁতার কেটে বা গা ভিজিয়ে প্রশান্তি নেয়া যায়। আর সন্ধ্যাবেলার মোহনীয় সূর্যাস্তের দৃশ্য তো রয়েছেই—প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এটি এক অনন্য অভিজ্ঞতা।

> যেভাবে যাবেন মৈনট ঘাট 
গুলিস্তানের গোলাপ শাহ মাজারের সামনে দিয়ে দোহারগামী অনেক বাস চলাচল করে, তবে সবগুলো বাস দোহারের মৈনট ঘাট পর্যন্ত যায় না। কেবল যমুনা ডিলাক্স পরিবহণের বাসেই সরাসরি মৈনট ঘাট পর্যন্ত যাওয়া যায়। তাই বাসে ওঠার আগে জেনে নিন যে বাসটি মৈনট ঘাট পর্যন্ত চলাচল করে কিনা। গুলিস্তান থেকে মৈনট ঘাট যেতে সময় লাগে মাত্র দুই ঘণ্টা।

মৈনট ঘাট থেকে ঢাকাগামী শেষ বাস সন্ধ্যা ৬টায় ছেড়ে যায়। তাই যাত্রা করতে চাইলে অবশ্যই ৬টার আগেই বাসে উঠতে হবে।

> বিকল্প রুট
গুলিস্তানের গোলাপ শাহ মাজারের সামনে থেকে এন মল্লিক পরিবহণে আসতে চাইলে আপনাকে নবাবগঞ্জের মাঝিরকান্দা নামক স্থানে নামতে হবে। এখানে ভাড়া পড়বে ১০০ টাকা। এরপর মাঝিরকান্দা থেকে ২০ টাকা ভাড়ায় অটোতে করে দোহারের বাঁশতলা পৌঁছাতে হবে। বাঁশতলা থেকে কার্তিকপুর যেতে অটো ভাড়া ২০ টাকা। কার্তিকপুর বাজার থেকে মৈনট ঘাট যাওয়ার জন্য অটো ভাড়া ১০ টাকা, আর রিকশা নিলে ভাড়া ২০ টাকা লাগবে। এইভাবে আপনি সহজেই দোহারের মৈনট ঘাট পর্যন্ত পৌঁছাতে পারবেন।

> কোথায় খাবেন
মৈনট ঘাটের পাশে ২টি ভাতের হোটেল রয়েছে। এখানে দুপুরে পদ্মার তাজা মাছ দিয়ে ভাত খাওয়ার অভিজ্ঞতা নিতে পারেন। ইলিশের স্বাদ নিতে চাইলে ৬০ থেকে ৯০ টাকায় ছোট আকারের ইলিশ পাওয়া যায়। তবে এখানে খাবারের বিশেষ কোনো ভালো ব্যবস্থা নেই। হালকা নাস্তা হিসেবে ইনস্ট্যান্ট পাপড় ভাজা বা ফুচকা খেতে পারেন।

> সতর্কতা
হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ভাড়া ও অন্যান্য খরচ সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন হয়। আর তাই অনুগ্রহ করে আপনি কোথাও ভ্রমণে যাওয়ার পূর্বে বর্তমান তথ্য জেনে পরিকল্পনা করবেন। এছাড়া আপনাদের সুবিধার জন্যে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে নিয়ে হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ও নানা রকম যোগাযোগ এর মোবাইল নম্বর দেওয়া হয়। এইসব নম্বরে কোনোরূপ আর্থিক লেনদেনের আগে যাচাই বাচাই করার জন্য অনুরোধ করা হলো।

> উল্লেখ্য
যেকোনো পর্যটন স্থান আমাদের দেশের সম্পদ। প্রকৃতি ও সৌন্দর্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন। অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। মনে রাখবেন, দেশ আমাদের, দেশের সব কিছুর প্রতি যত্নবান হওয়ার দায়িত্বও আমাদেরই।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জিআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!