ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ ভ্রমণ ]

বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পিগমি জলহস্তী, জন্ম নিল নতুন শাবক

পর্তুগালের চিড়িয়াখানায় বিরল প্রজাতির নতুন অতিথি
ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ২১:০৮, ১০ আগস্ট ২০২৬
বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পিগমি জলহস্তী, জন্ম নিল নতুন শাবক
ছবি ইন্টারনেট

বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা বিরল পিগমি জলহস্তীর একটি শাবকের জন্ম হয়েছে পর্তুগালের উত্তরাঞ্চলের একটি চিড়িয়াখানায়।সম্প্রতি দেশটির ভিলা নোভা দে গাইয়ার সান্তো ইনাসিও চিড়িয়াখানাতে নতুন এই শাবকের জন্ম হয়।

পিগমি জলহস্তী সাধারণ জলহস্তীর তুলনায় আকারে অনেক ছোট। পশ্চিম আফ্রিকার বন ও জলাভূমি এ প্রাণীর প্রাকৃতিক আবাসস্থল। বর্তমানে লাইবেরিয়া, সিয়েরা লিওন, গিনি ও আইভরি কোস্টের কিছু এলাকায় এদের দেখা যায়। বন উজাড়, কৃষি সম্প্রসারণ, খনন ও মানুষের বসতি বিস্তারের কারণে প্রাণীটির প্রাকৃতিক আবাসস্থল ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে।

Advertisement

আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা আইইউসিএন পিগমি জলহস্তীকে ‘বিপন্ন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। বন্য পরিবেশে এ প্রজাতির সংখ্যা আনুমানিক ২ হাজার থেকে ৩ হাজারের মধ্যে বলে সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পিগমি জলহস্তী মূলত নিশাচর প্রাণী। সাধারণ জলহস্তীর মতো এরা পানিনির্ভর হলেও দিনের বড় একটি সময় ঘন বন ও জলাভূমির আশপাশে লুকিয়ে থাকে। তুলনামূলক ছোট আকার এবং বনভিত্তিক জীবনযাপনের কারণে বন্য পরিবেশে এদের পর্যবেক্ষণ করাও বেশ কঠিন।

চিড়িয়াখানায় প্রজনন এ প্রজাতির সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিভিন্ন চিড়িয়াখানায় পরিকল্পিত প্রজনন কর্মসূচির মাধ্যমে পিগমি জলহস্তীর একটি সুরক্ষিত বংশধারা ধরে রাখার চেষ্টা চলছে। সান্তো ইনাসিও চিড়িয়াখানাতেও এর আগে এ প্রজাতির শাবকের জন্ম হয়েছে। চিড়িয়াখানাটির তথ্য অনুযায়ী, পিগমি জলহস্তীকে আইইউসিএন ‘বিপন্ন’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে এবং বিশ্বে এদের সংখ্যা ২ হাজার ৫০০-এরও কম বলে সংস্থাটি উল্লেখ করেছে।

শুধু পর্তুগাল নয়, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন চিড়িয়াখানায় পিগমি জলহস্তীর নতুন শাবকের জন্মের খবর এসেছে। গত ২ আগস্ট কানাডার টরন্টো চিড়িয়াখানাতেও একটি স্ত্রী পিগমি জলহস্তীর জন্ম হয়েছে। ২০ বছর বয়সী মা কিনদিয়ার এটি তৃতীয় শাবক। জন্মের মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে শাবকটি দাঁড়ানোর চেষ্টা শুরু করে এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মায়ের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে দেখা যায়।

টরন্টো চিড়িয়াখানার প্রধান নির্বাহী ডলফ ডি-জং বলেন, পিগমি জলহস্তীর একটি শাবকের জন্ম শুধু নতুন প্রাণের আগমন নয়; এটি বিপন্ন প্রজাতিটির দীর্ঘমেয়াদি টিকে থাকার জন্য চিড়িয়াখানাগুলোর সংরক্ষণমূলক ভূমিকার গুরুত্বও তুলে ধরে।

বন্য পরিবেশে সংখ্যা কমতে থাকায় চিড়িয়াখানায় জন্ম নেওয়া প্রতিটি নতুন শাবক এখন সংরক্ষণবিদদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। তবে শুধু চিড়িয়াখানায় প্রজনন বাড়ানোই যথেষ্ট নয়। পিগমি জলহস্তীর টিকে থাকার জন্য পশ্চিম আফ্রিকার বন ও জলাভূমির প্রাকৃতিক আবাসস্থল রক্ষা করাও জরুরি।

একদিকে নতুন শাবকের জন্ম যেমন আশার খবর, অন্যদিকে বন্য পরিবেশে পিগমি জলহস্তীর সংখ্যা কমে যাওয়া মনে করিয়ে দিচ্ছে—প্রাণীটির ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে প্রাকৃতিক আবাসস্থল রক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ উদ্যোগের ওপর।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এস আর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!