তোমাকে এভাবে দেখিনি কখনো প্রিয়া—
মাথার চারপাশে বাঁক খেয়ে থাকা কালো বাদামি ঘন চুলের সরলতা,
বহুদিন বন্ধ থাকা কোনো পারস্যদ্বারের শেকল খুলে
হঠাৎ বেরিয়ে এসেছে কেশর, ধূপ, নির্বাসন আর অপ্রকাশিত রুবাই।
তুমি বৃষ্টির কাছ থেকে ফিরে আসা এক অচেনা সারস,
শরীরে লেগে থাকা জলের প্রলেপ
ধীরে ধীরে ক্যাফের কাচে, কাচ থেকে সন্ধ্যায়, সন্ধ্যা থেকে আমার বহু জন্মের অনাদায়ে ছড়িয়ে যাচ্ছিল—
.png)
আমি একটি ফুল তোলা বাংলা রুমাল এগিয়ে দিয়েছিলাম দুগ্ধবর্ণ হাতের তালুতে,
বিনিময়ে তুমি দিয়েছিলে
জাফরানের গন্ধে ভেজা এক অসমাপ্ত পারস্য সন্ধ্যা...
একদিনই।
মাত্র একদিনের জন্য
তোমার হিজাবহীন চুলের কাছে পরাজিত হয়েছিল
সমস্ত যুক্তি, নাগরিকতা, আমার ভবিষ্যৎ জন্মের প্রস্তুতি—
তারপর আবার তুমি তোমার গোপন নক্ষত্রের নিচে মুখ ঢেকে নিয়েছো,
আর আমি এই শহরের ভিড়ে
এক টুকরো রুমালের মতো অনর্থক উড়ে বেড়িয়েছি।
এখন বৃষ্টি হলে মনে হয়
দুই দেশের মাঝখানে অদৃশ্য কারাভান পথ খুলে বসে আছে—
সেখান থেকে উড়ে আসে কালো বাদামি চুলের গন্ধ
বহন করে অসংখ্য নির্বাসিত সন্ধ্যা...
আচ্ছা, জাফরান কি আগুনের কাছাকাছি জন্মায়?
আমি জানি না।
তোমার ভেজা চুলের ভেতর
একটি অগ্নিময় মরুভূমি ঘুমিয়ে ছিল যেন সেদিন।
আর আজও আমার কাছে
পারস্য দেশের নিদৃষ্ট কোনো মানচিত্র নেই,
কোনো পতাকা নেই,
তোমার পারস্য মানেই বৃষ্টির পরে মৃত্তিকার মতো হিজাব রমনীর খুলে যাওয়া এক মাথা যমুনা,
তোমার হাতে তুলে দেওয়া ভেজা রুমাল,
তার ভেতরে বহু জন্ম ধরে নিঃশব্দে পুড়ে যাওয়া—
জাফরানময়,
হিজাবময়,
বৃষ্টিময়
একা আর একা...