এক ঘরে আছে আমার প্রথম চিঠি,
যেখানে ভালোবাসা লেখা হয়নি,
তবু আঙুলের ছোঁয়ায় জ্বলে ওঠে কাগজ।
এক ঘরে বসে আছে এক নারী,
চুল খুলে দিয়েছে, চোখে ঘূর্ণি,
তার ঠোঁটের কোণে এমন এক নিরবতা
যা শব্দের থেকেও বেশি তীক্ষ্ণ।
.png)
এক ঘরে আমার রাগ,
গরম লোহার মতো
যে লোহার গন্ধে দগ্ধ হয়েছে
অনেক অপ্রকাশিত কবিতা।
আর এক ঘরে
বাঁধানো অ্যালবামে মুখহীন মানুষদের ভিড়,
সবাই একে অপরের মত,
সবাই আমি।
চৌষট্টি ঘরের কোথাও শুয়ে আছে এক কুকুর,
তার গলায় বাঁধা নীল রুমাল
আমি নাম দিয়েছিলাম অপেক্ষা।
সে ঘুমায় না, শুধু আমার প্রতিধ্বনি শুনে
ঘেউ ঘেউ করে ওঠে।
এক ঘরে, রাত্রির মতো কালো জল,
আমি মাঝে মাঝে ডুবে যাই তাতে,
আমার ভিতরের মৃত শরীরগুলো
নড়েচড়ে ওঠে তখন।
তাদের চোখে আগুন,
তাদের ঠোঁটে পাথর,
তারা জানে, আমি আবার বাঁচব না।
সবচেয়ে গভীর ঘরে রাখা আছে
এক ফোঁটা রক্ত,
যেটা আমি লিখে ফেলেছিলাম
কবিতার বদলে,
একটা নামের জায়গায়।
চৌষট্টি ঘর
প্রতিটা ঘরে আমি নিজের ছাই হয়ে বসে আছি।
কেউ ঢোকে না, কেউ বের হয় না।
শুধু ভিতরের ঘড়ি টিক টিক করে চলে
মৃত সময়ের মতো,
যেন বুকের ভেতরেই তৈরি হয়েছে
একটা অমর জাদুঘর,
যার দেয়ালে ঝুলছে
আমার সমস্ত জন্মের প্রতিচ্ছবি।
বল তো,
মানুষের বুক কি সত্যিই এতটা বড় হতে পারে
যে তাতে পুরো এক মহাকাব্য ঘর বেঁধে ফেলে?