ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ ধর্ম ]

পূর্বসূরীদের হজ কেমন ছিল? (শেষ পর্ব)

ওমর শাহ
প্রকাশিত: ১০:২৮, ১৩ জুন ২০২২
পূর্বসূরীদের হজ কেমন ছিল? (শেষ পর্ব)
ফাইল ছবি

পূণ্যবান পূর্বসূরি মনীষীরা হজ ও ওমরাহ আদায়ে খুবই আগ্রহী ও যত্নবান ছিলেন। হজ পালনে তাদের যে স্পৃহা, অভিপ্রায় ও প্রাণবন্ততা ছিল; তা এককথায় অতুলনীয়। আমাদের হয়তো এখন সেগুলো কল্পনা করাও কঠিন। অনেক আলেম এই বিষয়ে স্বতন্ত্র বই রচনা করেছেন। এর মধ্যে শায়খ হোসাইন আল আফানির ‘সালাহুল উম্মাহ ফি উলুওয়িল হিম্মাহ’ নামক বইটি উল্লেখযোগ্য। সে বইয়ে লেখক এজাতীয় অনেক দুর্লভ ও সুখপাঠ্য তথ্য সন্নিবেশিত করেছেন।

খতিব বাগদাদির হজ

আবুল ফারজ ইসফারাইনি বলেন, খতিব বাগদাদি (রহ.)-এর সঙ্গে আমরা হজে ছিলাম। তিনি প্রত্যহ ধীরস্থিরভাবে কোরআন তেলাওয়াত করে এক খতম করতেন। এরপর হাদিস শিখতে আগ্রহীরা তার পাশে জড়ো হতেন এবং বলতেন, আপনি আমাদের হাদিস শোনান। তিনি সবাইকে হাদিসও শোনাতেন। (তাজকিরাতুল হুফফাজ)

Advertisement

ইবনুল কায়্যিমের হজ

আল্লামা ইবনে রাজাব হাম্বলি (রহ.) বলেন, হাফিজ ইবনুল কায়্যিম (রহ.) বহুবার হজ করেছেন। তিনি মক্কায় পড়ে থাকতেন। মক্কাবাসী তার অত্যধিক ইবাদত ও প্রচুর তাওয়াফের কথা মুগ্ধতার সঙ্গে বর্ণনা করত। ‘মিফতাহু দারিস সাআদাহ’ নামক মূল্যবান গ্রন্থটি তিনি মক্কায় বসেই লিখেন। তার বক্তব্য হলো, এটি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে এক বিরাট উপঢৌকন যে আমি যখন দুনিয়ার সব কিছু পেছনে ফেলে তার দরবারে এসে হাজির হলাম এবং নিজের সব কিছু তার কাছে সোপর্দ করে দিলাম, তখনই তিনি আমার হৃদয়ে এমন একটি গ্রন্থ রচনার সুযোগ-সৌভাগ্য দান করেন। (জায়লু তাবাকাতিল হানাবিলা : ২/৪৪৮)

ডুব দিয়ে হাজরে আসওয়াদ চুমু!

ইমাম ইবনে জামাআহ (রহ.) বলেন, আমার দাদা বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করেছেন সাঁতার দিয়ে। মক্কা তখন বন্যায় প্লাবিত ছিল। প্রত্যেক চক্করে যখন তিনি হাজরে আসওয়াদের কাছে আসতেন, তখন ডুব দিতেন হাজরে আসওয়াদে চুমু খাওয়ার জন্য! (হেদায়াতুস সালিক : ১/১০১) মুজাহিদ (রহ.) বলেন, ইবাদতের সম্ভাব্য এমন কোনো পথ নেই, যা সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনুজ জুবাইর (রা.) অতিক্রম করেননি। একবার বায়তুল্লায় বন্যা হয়েছিল, তখন সাঁতার দিয়ে তিনি তাওয়াফ করেছিলেন! (সিয়ারু আলামিন নুবালা : ৩/৩৭০)

মক্কায় কোরআন খতম

তাবেয়ি ইবরাহিম নাখায়ি (রহ.) বলেন, সলফে সালেহিনের আগ্রহ থাকত যে, মক্কায় গেলে সেখানে কোরআন খতম না করে যেন বের না হন। (আখবারু মক্কা : ২/১৩২)

হজের সফরে গ্রন্থ রচনা

যুগশ্রেষ্ঠ হাদিস বিশারদ আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মীরি (রহ.) বলেন, হাফিজ ইবনে হাজার (রহ.) হাদিসের মূলনীতিবিষয়ক তার ‘নুখবাতুল ফিকার’ গ্রন্থটি এবং আল্লামা ইবনুল হুমাম (রহ.) নামাজের মাসায়েলবিষয়ক তার ‘জাদুল ফকির’ গ্রন্থটি হজের সফরে রচনা করেন। (ফায়জুল বারি : ৩/১০১)

ডেইলি-বাংলাদেশ/এনকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!