ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ ধর্ম ]

ইসলামে রোগীর সেবা করার ফজিলত 

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৪:৫৪, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২
ইসলামে রোগীর সেবা করার ফজিলত 
ছবি: সংগৃহীত

সলাম মানবতার ধর্ম। অসুস্থ কোনো ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়া, তার সেবা করা মহানবী হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুমহান আদর্শ, ইহকাল ও পরকালে উত্তম বিনিময় লাভের অন্যতম উপায়। মুসলমান হিসেবে অন্য মুসলমানের ওপর বিশেষ একটি অধিকার। রোগী অমুসলিম হলে তাকে দেখতে যাওয়ার মধ্যেও অনেক কল্যাণ নিহিত রয়েছে। 

হযরত আনাস রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, এক ইহুদি যুবক রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সেবায় নিয়োজিত ছিল। একদা সে অসুস্থ হয়ে যায়। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পৌঁছে যান সেই যুবকের কুটিরে তাকে দেখার জন্য। তাকে তিনি ইসলামের দাওয়াত প্রদান করেন। সে তার পিতার দিকে দৃষ্টি দেয়। তার পিতা তাকে বলল, তুমি আবুল কাসেমের অনুসরণ কর। এরপর সে ইসলাম গ্রহণ করে। বুখারি। 

আরো পড়ুন >>> বন্ধুর সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রী, আটক ৩

Advertisement

আলী রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি সকালবেলা কোনো অসুস্থ মুসলমানকে দেখতে যায় ৭০ হাজার ফেরেশতা বিকেল পর্যন্ত তার জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করতে থাকে। আর বিকেলে রোগী দেখতে গেলে সকাল পর্যন্ত ৭০ হাজার ফেরেশতা তার জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করতে থাকে এবং তার জন্য জান্নাতে একটি ফলের বাগান তৈরি করা হয়।’ আবু দাউদ। 

রোগী দেখতে যাওয়ার সুন্নত নিয়ম হলো অজু করে যাওয়া। হযরত আনাস রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি অজু করে সওয়াবের উদ্দেশ্যে কোনো অসুস্থ মুসলমানকে দেখতে যায় তাকে জাহান্নাম থেকে ৬০ বছর সমপথ দূরে রাখা হবে।’ আবু দাউদ। 

আরো পড়ুন >>> ৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বললেন ‘আমাকে মেরে ফেলল, তোরা এসে বাঁচা’

রোগী দেখার অন্যতম সুন্নত নিয়ম হলো রোগীর শরীরে হাত রেখে তার অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা। রোগীকে সান্ত্বনার বাণী শোনানো। রোগীর কাছে বেশি সময় না বসা। উঁচু আওয়াজে কথা না বলা। এ ছাড়া রোগীর কাছে নিজের জন্য দোয়া চাওয়া, রোগীর আরোগ্যতার জন্য মাসনুন দোয়া পড়া এবং মুমূর্ষুর কাছে সুরা ইয়াসিন পাঠ করা।  

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ ইরশাদ করেন, মুমূর্ষু রোগী ছাড়া যে কোনো রোগীর কাছে নিম্নের দোয়াটি সাতবার পাঠ করলে সে রোগী অবশ্যই ওই রোগ থেকে মুক্তি লাভ করবে। দোয়াটি হলো ‘আসআলুল্লাহাল আজিম রাব্বাল আরশিল আজিম, আইয়াশফিয়াক।’ আবু দাউদ। 

মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ-এর অনুপম আদর্শ অনুসরণ করে এ মহৎ সেবার মাধ্যমে আমরা ইহকাল ও পরকালের মহাকল্যাণ অর্জন করতে পারি। মহান আল্লাহ আমাদের সহায় হোন। আমিন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!