ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ ধর্ম ]

সর্বজনীন ও একমাত্র গ্রহণযোগ্য ধর্ম ইসলাম

মুফতি আবু ইয়ামীন কাসেমী 
প্রকাশিত: ১৫:০৬, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২২
সর্বজনীন ও একমাত্র গ্রহণযোগ্য ধর্ম ইসলাম
ছবি: সংগৃহীত

মানব জাতি আল্লাহ তাআলার সর্বশ্রেষ্ঠ ও সম্মানিত সৃষ্টি। যাদেরকে তিনি নিজের হাতে সর্ব সেরা ও সবচেয়ে সুন্দর আকৃতি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। সেই মানবজাতিসহ সকল জীবজন্তুর যখন যেটার, যতটুকু এবং যেমনটা প্রয়োজন তখন সেটা ততটুকু সেভাবেই ব্যবস্থা যিনি করেন তিনি হলেন রব ও প্রতিপালক। 

সন্তান মাতৃগর্ভে কি খাবে কেমন খাবে কিভাবে খাবে এবং দুনিয়াতে আসার পর কখন কোন বয়সে কি খাবে কেমন খাবে কিভাবে খাবে সেটার ব্যবস্থা এবং জিম্মাদারী যিনি গ্রহণ করেছেন এবং পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে ব্যবস্থা করছেন তিনি হলেন বিশ্ব জাহানের সমস্ত কিছুর রব ও পালনকর্তা।    

সেই রব আল্লাহ তাআলা শুধু আমাদের (মুসলমানদের) রব নন, বরং তিনি রাব্বুল আলামিন অর্থাৎ সারা জাহানের প্রতিপালক বা রব। 

Advertisement

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে কারীমে ২২ জায়গায় আল্লাহ তায়ালা শব্দটি উল্লেখ করেছেন:

 الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} [الفاتحة: 2

‘সমস্ত প্রশংসা সারা জাহানের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য’। এখানে সারা জাহানের প্রতিপালক বলা হয়েছে। শুধু মুসলমানের রব বলা হয়নি। অর্থাৎ পুরো দুনিয়াতে মানবজাতী সহ যতকিছু রয়েছে তাদের সকলের প্রতিপালক।  

সূরা বাকারার ২১ নং আয়াতে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:

{يَاأَيُّهَا النَّاسُ اعْبُدُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ وَالَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ} [البقرة: 21] 

‘হে মানুষ সম্প্রদায়! তোমরা তোমাদের সেই প্রতিপালকের উপাসনা কর, যিনি তোমাদেরকে ও তোমাদের পূর্ববর্তীগণকে সৃষ্টি করেছেন; যাতে তোমরা পরহেজগার (খোদাভীরু) হতে পার’। (সূরা বাকারা: ২১) এখানে النَّاسُ (নাস) দ্বারা সমস্ত মানবজাতি বলা হয়েছে। যার মধ্যে হিন্দু, বোদ্ধ, ইয়াহুদি, খ্রিষ্টান সহ সকল ধর্মের লোক শামিল রয়েছেন। 

সূরা নাসে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন:  
 
قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ (1) مَلِكِ النَّاسِ (2) إِلَهِ النَّاسِ (3) 

‘বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করিতেছি মানুষের পালনকর্তার, মানুষের অধিপতির। মানুষের মা’বুদের”। (সূরা নাস: ১-৩)

এখানেও النَّاسُ (নাস) দ্বারা সমস্ত মানবজাতিকেই উদ্দেশ্য নেয়া হয়েছে। যার মধ্যে হিন্দু, বোদ্ধ, ইয়াহুদি, খ্রিষ্টান সহ সকল ধর্মের লোক শামিল রয়েছেন। 

সুতরাং আমাদের পালনকর্তা যেমনিভাবে সমস্ত মানবজাতীসহ সকল কিছুর রব/পালনকর্তা তাই সকলেই কিভাবে সেই আল্লাহ তাআলার হুকুম মানতে পারে সেই জন্য আমাদেরকে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। তেমনিভাবে আমাদের নবী মুহাম্মদ (সা.) সমগ্র মানবজাতির নবী এবং সর্বশেষ নবী। 

আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারীমে ইরশাদ করেছেন:  
  
{قُلْ يَاأَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ جَمِيعًا} [الأعراف: 158]

‘হে নবী আপনি বলুন, হে মানব মন্ডলী! তোমাদের সবার প্রতি আমি আল্লাহর প্রেরিত রসূল’। (সূরা আ’রাফ: ১৫৮) এখানে النَّاسُ (নাস) দ্বারা সমস্ত মানবজাতির রাসূল বলা হয়েছে। 

সূরা আম্বিয়ার ১৫৮ তম আয়াতে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: 

{وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ} [الأنبياء: 107]

‘আমি আপনাকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমত স্বরূপ প্রেরণ করেছি’। (সূরা আম্বিয়া: ১৫৮)

এখানে সমগ্র মানবজাতির জন্য রহমত বলা হয়েছে। যার মধ্যে হিন্দু, বোদ্ধ, ইয়াহুদি, খ্রিষ্টানসহ সকল ধর্মের লোক শামিল রয়েছেন। শুধু মুসলমানের বলা হয়নি।

সূরা সাবার ২৮ তম আয়াতে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: 

{وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا كَافَّةً لِلنَّاسِ بَشِيرًا وَنَذِيرًا وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ} [سبأ: 28]

‘আমি আপনাকে সমগ্র মানবজাতির জন্য সুসংবাদাতা ও সতর্ককারী রূপে পাঠিয়েছি; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না’। সূরা সাবা ৩৪:২৮

এখানে كَافَّةً দ্বারা সমগ্র মানবজাতির জন্য সুসংবাদাতা ও সতর্ককারী হিসাবে আমাদের নবী মুহাম্মদ (সা.) কে পাঠানো হয়েছে। 

আল্লাহ তাআলা সমগ্র মানবজাতির হেদায়েতের জন্য নবী-রাসুলদের কাছে তাঁর পয়গাম সম্বলিত কিতাব বা সহিফা (ছোট কিতাব) পাঠাতেন। সেই ধারাবাহিকতায় আমাদের শেষ নবীর কাছে সর্বশেষ কিতাব হিসাবে আল-কুরআন নাযিল করেন। সমস্ত নবীর কিতাব তাদের ইন্তেকালের সঙ্গে বিলুপ্ত এবং বিকৃত সাধিত হয়। তবে আখেরী কিতাব যেহেতু আল্লাহ তাআলা স্বয়ং তাঁর জিম্মাদারী নিয়েছেন তাই কিয়ামত পর্যন্ত এই কিতাব কোন প্রকার রদবদল ব্যতীত বাকি আছে এবং থাকবে। সুতরাং এই কিতাব কিয়ামত পর্যন্ত আনেওয়ালা সমস্ত মানবজাতির জন্যই পথ পদর্শক। 

আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারীমে ইরশাদ করেছেন:    

{ شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِنَ الْهُدَى وَالْفُرْقَانِ } [البقرة: 185] 

‘রমযান মাস হল সেই মাস, যাতে নাযিল করা হয়েছে আল-কুরআন, যা সমগ্র মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্যপথ যাত্রীদের জন্য সুষ্পষ্ট পথ নির্দেশ আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী’। (সূরা বাকারা: ১৮৫) এই আয়াতে هُدًى لِلنَّاسِ (হুদান লিননাস) দ্বারা সমস্ত মানবজাতির হেদায়েতের কিতাব বলা হয়েছে। 

আমাদের রব (আল্লাহ তাআলা), তার রাসুল (সা.) এবং তার উপর প্রেরিত কিতাব আল কুরআন যেমনিভাবে কোন নির্দিষ্ট কোন দেশ, জাতি বা ব্যক্তিগত নয় বরং সমগ্র মানবজাতির জন্যই, তেমনিভাবে ইসলাম ধর্মও নির্দিষ্ট কোন দেশ, জাতি বা ব্যক্তিগত ধর্ম নয় বরং সমগ্র মানবজাতির জন্যই একমাত্র ধর্ম বা জীবন ব্যবস্থা। যা কিয়ামত পর্যন্ত সকলের জন্যই মান্য করা আবশ্যক। তা ব্যতীত অন্য কোন দ্বীন বা ধর্ম আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য নয়। 

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কুরআনে কারীমের সূরা আল-ইমরানের ১৯ তম আয়াতে ইরশাদ করেছেন: 

{إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ } [آل عمران: 19]

‘নিঃসন্দেহে আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য দ্বীন একমাত্র ইসলাম’। সুরা ইমরান ৩:১৯

শুধুমাত্র ইসলাম ধর্মই প্রকৃত এবং সঠিক হওয়ার কারণে তা ব্যতীত অন্য কোন দ্বীন বা ধর্ম আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য নয়। 

যেমন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পবিত্র কুরআনের সূরা আল-ইমরানের ৮৫ নম্বর আয়াতে ইরশাদ করেন: 

{وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ} [آل عمران: 85]

‘যে লোক ইসলাম ছাড়া অন্য কোন ধর্ম তালাশ করে, কস্মিণকালেও তা গ্রহণ করা হবে না এবং আখেরাতে সে ক্ষতি গ্রস্ত। [সুরা ইমরান ৩:৮৫] যেহেতু ইসলাম ধর্মই হল চূড়ান্ত এবং পরিপূর্ণ, সুতরাং তারপর অন্যকোন দীন বা ধর্ম গ্রহণ করার কোন অধিকার বা যোক্তিকতা নেই।

যেমন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পবিত্র কুরআনের আল-মায়েদার ৩ নম্বর আয়াতে ইরশাদ করেন:   

{الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا} [المائدة: 3]

‘আজ আমি তোমাদের জন্যে তোমাদের দ্বীনকে পূর্নাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার অবদান সম্পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্যে দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম’। সুরা আল-মায়েদা ৫:০৩

এই সমস্ত আয়াতের মাধ্যমে বুঝতে পারলাম যে, ইসলাম ধর্মই হলো আল্লাহ তাআলার নিকট গ্রহণযোগ্য একমাত্র ধর্ম বা জীবন ব্যবস্থা। সুতরাং আমরা সকল মুসলমানদের জিম্মাদারী হলো দুনিয়ার সকল মানুষের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌছানো। আল্লাহ তাআলা সকল মুসলমানদেরকে বুঝার এবং তার ওপর আমল করার তৌফিক দান করুক। আমিন।    

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
ট্যাগ: ইসলাম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!