ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ ধর্ম ]

বৃষ্টির জন্য দোয়া, প্রশংসায় ভাসছেন শায়খ আহমাদুল্লাহ

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩:৪৪, ১৭ এপ্রিল ২০২৩
বৃষ্টির জন্য দোয়া, প্রশংসায় ভাসছেন শায়খ আহমাদুল্লাহ
ছবি: সংগৃহীত

তীব্র গরমে সারাদেশের জনজীবন বিপর্যস্ত এখন। এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য বৃষ্টির জন্য খোলা আকাশের নিচে মুসল্লিদের সঙ্গে নিয়ে বিশেষ নামাজ (সালাতুল ইস্তিসকার) আদায় করেছেন জনপ্রিয় ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ।

তীব্র রোদের মধ্যে সালাতুল ইস্তিসকার নামাজের ব্যবস্থা করায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশংসায় ভাসছেন আহমাদুল্লাহ।

এদিকে নিয়াজ মাহমুদ সোহেল নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারী জানান, হুজুর আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ!!! আমরা যেখানে তাপমাত্রা নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে দিন পার করছি, সেখানে আজ সকাল ১০টায় আফতাবনগর খেলার মাঠে সালাতুল ইস্তিসকার নামাজ আদায় করা হয়।

Advertisement

ছবি: সংগৃহীত

শায়েখ আহমাদুল্লাহর ইমামতিতে এসময় মুসল্লিরা অংশ নেন। নামাজ শেষে বৃষ্টির পাশাপাশি দেশ ও জাতির কল্যাণে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। হুজুর আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শাহাদাত সাকিব নামের আরেকজন জানান, শায়খ Ahmadullah হাফি: এর ইমামতিতে আফতাবনগরে ইস্তেসকার নামাজ হচ্ছে (বৃষ্টির জন্য বিশেষ নামাজ) আল্লাহ তাআলা কবুল করুন…

জুবায়ের আহমেদ সাব্বির নামের একজন জানান, গরমের তীব্রতা থেকে বাঁচাতে শায়খ আহমাদুল্লাহর আয়োজনে বৃষ্টি প্রার্থনার নামাজ ইস্তিসকার সালাত। নামাজে অংশগ্রহণ করা মুসল্লিরা জানান, দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় মানুষ ভোগান্তিতে আছে। বৃষ্টি বা পানির জন্য আল্লাহ সালাতের মাধ্যমে চাইতে বলেছেন। আল্লাহর কাছে চাওয়া সুন্নত। তাই আমরা সবাই একত্র হয়ে এ নামাজ আদায় করেছি।

আরো এক মুসল্লি জানান, আমাদের পাপের কারণেই এ অবস্থা। দোয়ার মাধ্যমে এ অবস্থার পরিবর্তন সম্ভব। অনেকেরই এ দোয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ ছিল। কিন্তু আসেনি। তারপরও তীব্র রোদের মধ্যে বৃষ্টি ও শান্তি কামনার দোয়ায় শরিক হয়েছে। আরেক মুসল্লি জানান, কুরআনেই বলা আছে অনাবৃষ্টিতে দোয়া করার কথা। আমাদের পাপ বেশি। পাপ কমে গেলে আল্লাহর রহমত এমনিতেই আসবে। তাছাড়া মুহম্মদ স. অনাবৃষ্টিতে সম্মিলিতভাবে দোয়া করেছেন। সেই সুন্নতকে পুনর্জীবিত করতে দোয়ায় শরিক হয়েছি।

মাইনুল হক নামের একজন জানান, আলহামদুলিল্লাহ। হারিয়ে যাওয়া সুন্নাত পুনর্জীবিত হোক। ইয়া আল্লাহ! সেই সঙ্গে আমাদেরকে ক্ষমা ও আপনার দয়া দিয়ে শান্তিময় করে দিন আমিন। এছাড়া শিবিল আহমেদ, শাফায়েত জেরিন, মাসুদ রানা, জিন্দার খানসহ অনেকে বিশেষ এই নামাজের প্রশংসা করেন।

আজ সোমবার ১৭ এপ্রিল সকাল ১০টায় রাজধানীর আফতাবনগর এল ব্লক খেলার মাঠে এ নামাজ হয়। নামাজে শতাধিক মুসল্লি অংশ নেন। নামাজ শেষে অনাবৃষ্টি এবং গরম থেকে মুক্তির জন্য মহান আল্লাহর রহমত কামনা করে মোনাজাত করা হয়। এ সময় মুসল্লিদের অঝোরে কাঁদতে দেখা যায়।

উল্লেখ্য, অনাবৃষ্টি ও তীব্র গরম থেকে মুক্তি চেয়ে বৃষ্টির প্রার্থনায় নামাজ পড়া সুন্নাত। হাদিস গ্রন্থে রাসূল (সা.) এর এই আমলের কথা বিবৃত হয়েছে। ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বিনয়ী ও বিনম্রভাবে সাধারণ পোশাক পরে ভীত হয়ে বের হন। অতঃপর দুই রাকাত নামাজ পড়েন যেভাবে তিনি ঈদের নামাজ পড়েন। তবে তিনি তোমাদের এই খুতবার মতো কোনো খুতবা দেননি। (তিরমিজি, হাদিস : ১৫০৮)

অন্য হাদিসে এসেছে, আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) একদিন বৃষ্টি প্রার্থনার জন্য বের হন। তিনি আমাদের সঙ্গে নিয়ে আজান ও ইকামত ছাড়া দুই রাকাত নামাজ পড়েন। অতঃপর আমাদের উদ্দেশে খুতবা দেন। এরপর তার মুখ কিবলামুখী করে উভয় হাত ওপরে তুলে আল্লাহর কাছে দোয়া করেন। তিনি তাঁর চাঁদর উল্টাপাল্টা করে পরেন। চাঁদরের ডান দিক বামে এবং বাম দিক ডানে নেন। (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ৮১২৮)

ডেইলি-বাংলাদেশ/জিআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!