ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ বিজ্ঞান বিস্ময় ]

যে গ্রহে ১০ মিনিটে এক দিন, বেতন পাবেন পাঁচ ঘণ্টা পর পর

জিজে-৭৪০
বিজ্ঞান ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৮:৩৮, ২৪ মে ২০২১
যে গ্রহে ১০ মিনিটে এক দিন, বেতন পাবেন পাঁচ ঘণ্টা পর পর
জিজে-৭৪০। ছবি: সংগৃহীত

প্রচলিত রীতিতে পৃথিবীতে ৩৬৫ দিনে এক বছর। ঘণ্টা হিসেবে যা ৮ হাজার ৭৬০। কিন্তু ৩৬ আলোকবর্ষ দূরে নতুন গ্রহের সন্ধান পেয়েছে মহাকাশ বিজ্ঞানীরা; যেখানে আড়াই দিনে এক বছর!

জিজে-৭৪০ নামক গ্রহটি তার সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে মাত্র ২ দিন ৯ ঘণ্টা ৩০ মিনিটে। আড়াই দিনে বছর মানে মোটামুটি পাঁচ ঘণ্টায় এক একটা মাস। সেখানে সময়ের দাম কী হতে পারে ভেবে দেখুন একবার!

নতুন এই ১০ মিনিটে এক দিন। মানে ১০ মিনিটে সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত দেখে ফেলতে পারবেন। পাঁচ মিনিট দিন আর পাঁচ মিনিট রাত। ঋতু পরিবর্তনও হবে কিছু বুঝে ওঠার আগেই। বয়সের হিসাব রাখাটাই হবে সবথেকে মজার। পৃথিবীর নিয়মে এক বছরের শিশুর বয়স গিয়ে দাঁড়াবে প্রায় ৪৮ বছর!

Advertisement

ভাবুন তো সেই গ্রহে বসবাস করলে কত্ত মজা হতো! চাকুরিজীবীদের পাঁচ ঘণ্টা অন্তর মাসিক বেতন পকেটে ঢুকবে। তবে ছুটির দিন বলে আদৌ কিছু থাকবে কি-না সন্দেহ। ছুটির মজা নিতে হবে মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে! আড়াই দিন পর পর জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকী পালন করতে হবে। তাতে যেমন চিন্তা থাকবে, তেমনি টাকাও খরচ হবে। তবে বেতন তো পাচ্ছেন পাঁচ ঘণ্টা অন্তর!

ধরুন সেই গ্রহ থেকে পৃথিবীতে ঘুরতে আসার প্ল্যান করছেন। পৃথিবীর নিয়মে সাতদিনের ছুটি নেয়া মানে তো এখানে আপনাকে প্রায় তিন বছরের ছুটি নিতে হবে। এতবড় ছুটি কোনো ‘দয়ালু বস’ অনুমোদন করবে কি? তারপরও যদি ছুটিটা পেয়ে যান ঢাকা শহরের জ্যামেই কেটে যাবে দুদিন! তাই, সুন্দরবর ঘোরার পরামর্শ দিচ্ছি!

একে সুপার আর্থ বলা হচ্ছে কেন? আমাদের পৃথিবীর দ্বিগুণ থেকে ১০ গুণ আকারের গ্রহদের বলা হয় সুপার আর্থ। এই গ্রহটির ভর পৃথিবীর তিন গুণ। সৌরজগতের চতুর্থ বড় নেপচুনের থেকে আকারে সামান্য ছোট। বড় হলেও সুপার আর্থ যে মাটি পাথর দিয়ে তৈরি তা নয়, গ্যাসের গোলাও হতে পারে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি মানুষের বসবাসের যোগ্য কি-না তা অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করছে। সমস্যা হল বাসযোগ্য জোন খুবই ছোট। গ্রহটি তারার যত বেশি কাছে থাকবে দু’জনের একই বেগে ঘূর্ণনের সম্ভাবনা হবে তত বেশি। এ কারণে গ্রহের একদিক সবসময় ফুটন্ত গরম অন্যদিক সবকিছু বরফের মতো হবে। একদিকে সবসময় দিন অন্যদিকে রাত।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, আরও বেশ কিছু বিষয় অনুকূল হলে সেখানে প্রাণের সঞ্চার হতেই পারে। ‘সূর্য’ অবশ্য অনেক বড় দেখাবে এবং গাছপালা সবুজ নয় দেখতে হবে কালো রঙের। কিন্তু মানুষ বেঁচে থাকতে পারবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!