ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ বিজ্ঞান বিস্ময় ]

মেটাভার্সের দুনিয়ায় মানুষ আদৌ কি সুরক্ষিত?

বিজ্ঞান ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৪:০৩, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২২
মেটাভার্সের দুনিয়ায় মানুষ আদৌ কি সুরক্ষিত?
কাল্পনিক জগতকে বাস্তব মনে করে সেই অনুযায়ী হাঁটাচলা, দৌড়ানো বা অন্য সমস্ত কাজ করতে থাকেন এই জগতের সদস্যরা।

মেটাভার্সের দুনিয়ায় এখন প্রতিযোগিতা তুঙ্গে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু সংস্থা ব্যবসায় নেমেও পড়েছে। কিন্তু প্রযুক্তির এই চরম ব্যবহারের বিষয়ে সংশয় এখনও কাটেনি। আর সেইসব সংশয়কেই উস্কে দিচ্ছে সাম্প্রতিক বেশ কিছু ঘটনা।

মার্কিং সংবাদ সংস্থা ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল (Wallstreet Journal) সামনে এনেছে সেইসব তথ্য। দেখা গিয়েছে, মেটাভার্সের (Metaverse) দুনিয়ায় অপরাধ শুরু হয়ে গিয়েছে ইতোমধ্যেই। আর তার চেয়েও বেশি ঘটছে দুর্ঘটনা। হাত-পা ভাঙার মতো ঘটনা তো ঘটছেই। এমনকি মরণাপন্ন অবস্থাতেও হাসপাতালে ছুটছেন অনেকে।

সম্প্রতি জার্মানির এক ৩১ বছরের যুবক প্রায় মৃত অবস্থাতেই ছুটেছিলেন হাসপাতালে। ঘাড়ের কাছের হাড় ভয়ানকভাবে ভেঙে গিয়েছে, গলায় শ্বাসনালি ছিড়ে গিয়েছে, তখন হুঁশ ফিরেছিল তার। ততক্ষণ পর্যন্ত এক ভার্চুয়াল রিয়েলিটি নির্ভর গেমের মধ্যে নিমগ্ন ছিলেন। এটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।

Advertisement

ওয়ালস্ট্রিট জার্নালের পক্ষ থেকে আমেরিকা এবং ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলের ২০টি মারাত্মক দুর্ঘটনার কথা জানানো হয়েছে। এ ছাড়া ছোটোখাটো দুর্ঘটনা তো লেগেই রয়েছে।

আরো পড়ুন : র‍্যানসমওয়্যার হামলা আরো বাড়বে

অনেকের মতে, এই সমস্ত দুর্ঘটনার জন্য দায়ি বর্তমান সময়ের অনুন্নত প্রযুক্তি। এখনও ভার্চুয়াল রিয়েলিটি বা কাল্পনিক বাস্তবতার জগতে যেতে গেলে চোখ ঢাকা ভারী যন্ত্র মাথায় পরতে হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই যন্ত্রের ওজন এবং আয়তন কমিয়ে আনা হচ্ছে। কিন্তু এই ব্যখ্যা মানতে রাজি নন অনেকেই। কারণ ভার্চুয়াল রিয়েলিটির অর্থই হলো সেখানে পৌঁছে গেলে বাস্তব জগতের সমস্ত অনুভূতি হারিয়ে যাবে। প্রযুক্তি উন্নত হতে থাকলে এই বিচ্ছেদ আরো বেশি করে ঘটবে। দুর্ঘটনার জন্য দায়ী আসলে এই বিচ্ছেদই।

আরো পড়ুন : হাতিদের ক্যানসার হয় না, সম্ভাবনাও নেই, কেন?

কাল্পনিক জগতকে বাস্তব মনে করে সেই অনুযায়ী হাঁটাচলা, দৌড়ানো বা অন্য সমস্ত কাজ করতে থাকেন এই জগতের সদস্যরা। অথচ তার শরীরটাতো থেকে যায় বাস্তব জগতেই। সেখানে ধাক্কা খেতে হয়। এভাবেই রোজ কারোর না কারোর হাত-পা ভাঙছে। আরো বড়ো দুর্ঘটনা ঘটাও অসম্ভব নয়।

সেইসঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরো একটি সমস্যা। ইতোমধ্যে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির সদস্য বহু মহিলা অভিযোগ জানিয়েছেন, বিভিন্ন পুরুষ সদস্যের কাছে যৌন নিগ্রহের শিকার হয়েছেন তিনি। অথচ এই জগতে আইন নেই, পুলিশ নেই। মেটাভার্সের দুনিয়ায় মানুষ আদৌ কতোটা সুরক্ষিত থাকবে, তাই নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে ইতোমধ্যে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!