মহাবিশ্বের রহস্য খুঁজবে নাসার ‘প্রাইমা’
মহাবিশ্বের সৃষ্টি ও বিবর্তনের ইতিহাস অনুসন্ধানে নাসার বহুল প্রতীক্ষিত ‘প্রাইমা’ (PRIMA—PRobe far-Infrared Mission for Astrophysics) স্পেস টেলিস্কোপ প্রকল্প নতুন ধাপে প্রবেশ করেছে। নাসা জানিয়েছে, ঐতিহাসিক এক্সপ্লোরার্স প্রোগ্রামের নতুন ‘প্রোব এক্সপ্লোরার’ শ্রেণির প্রথম মিশন হিসেবে প্রাইমা আনুষ্ঠানিকভাবে উন্নয়নের ফেজ বি পর্যায়ে পৌঁছেছে।
ফেজ বি পর্যায়ে মিশনটির প্রাথমিক নকশা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়া হবে। পরবর্তী সময়ে প্রযুক্তিগত, কর্মসূচিগত ও ব্যয়সংক্রান্ত মূল্যায়নের ভিত্তিতে ফেজ সিতে যাওয়ার অনুমোদন দেওয়া হবে। নাসার হিসাবে, প্রকল্পটির ব্যয় সর্বোচ্চ ১.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে উৎক্ষেপণসহ অন্যান্য প্রকল্প-বহির্ভূত ব্যয় অন্তর্ভুক্ত নয়। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০৩৩ সালে পাঁচ বছরের মিশনের জন্য প্রাইমা উৎক্ষেপণের লক্ষ্য রয়েছে।
.png)
প্রায় ৫.৯ ফুট (১.৮ মিটার) ব্যাসের এই টেলিস্কোপ দূর-অবলোহিত বা ফার-ইনফ্রারেড তরঙ্গদৈর্ঘ্যে মহাবিশ্ব পর্যবেক্ষণ করবে। এটি জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের মতো ইনফ্রারেড পর্যবেক্ষণাগার এবং রেডিও টেলিস্কোপের সক্ষমতার মধ্যকার একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতি পূরণে কাজ করবে।
ফার-ইনফ্রারেড আলো পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রাইমা মহাবিশ্বের ধূলিকণায় আড়াল থাকা বিভিন্ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করবে। এর মাধ্যমে গ্রহ ও নক্ষত্রের সৃষ্টি, ছায়াপথ ও তাদের ব্ল্যাকহোলের বিকাশ এবং মহাবিশ্বে ধূলিকণা ও ভারী মৌলের গঠন ও বিস্তার নিয়ে গবেষণা করা হবে। পাশাপাশি গ্রহের উৎপত্তি এবং পৃথিবীতে পানির উৎস সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মিশনটি পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরি (JPL)। এর সঙ্গে নাসার গডার্ড ও মার্শাল স্পেস ফ্লাইট সেন্টার এবং আন্তর্জাতিক অংশীদার হিসেবে ফ্রান্সের CNES, ইতালির ASI, জার্মানির DLR, কানাডার CSA, দক্ষিণ কোরিয়ার KASI, জাপানের JAXA ও যুক্তরাজ্যের UK Space Agency যুক্ত রয়েছে।