ঢাকা,  শনিবার   ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

[ স্পটলাইট ]

মেয়াদোত্তীর্ণ ল্যান্ডফিলে পাহাড়সম বর্জ্য

মো. শাহজাহান মো. শাহজাহান
প্রকাশিত: ২১:৩৬, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
মেয়াদোত্তীর্ণ ল্যান্ডফিলে পাহাড়সম বর্জ্য
রাজধানীর প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র

রাজধানীর দুই প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র আমিনবাজার ও মাতুয়াইলের ধারণক্ষমতা অনেক আগেই শেষ হয়েছে। এরপরও থেমে নেই বর্জ্য ফেলা। প্রতিদিন নতুন করে জমছে হাজার হাজার টন আবর্জনা। এর প্রভাব পড়ছে আশপাশের পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য ও নগরজীবনে। কোথাও বর্জ্যের স্তূপ আকাশছোঁয়া, কোথাও আবর্জনা পোড়ানোর ধোঁয়ায় বিপর্যস্ত স্থানীয় বাসিন্দারা। চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি। সম্প্রতি কিছু উদ্যোগ আশার সঞ্চার করলেও কাঠামোগত সংকট, অনিয়ম ও দায়িত্বশীলদের অবহেলায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে।

রাজধানীর প্রায় চার কোটি মানুষ প্রতিদিন গড়ে ছয় হাজার ৫০০ থেকে সাত হাজার ৫০০ টন গৃহস্থালি বর্জ্য উৎপাদন করে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকার তিন হাজার ৫০০ থেকে চার হাজার টন বর্জ্য যায় আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে। অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকার তিন হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার টন বর্জ্য জমা হয় মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে। বাসাবাড়ি, বাজার, অফিস-আদালত ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থেকে সংগ্রহ করা এসব বর্জ্য বিভিন্ন সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) ঘুরে শেষ পর্যন্ত জমা হয় এই দুই কেন্দ্রে। প্রতিদিন শত শত বর্জ্যবাহী ট্রাক সেখানে প্রবেশ করে। কিন্তু নির্ধারিত ধারণক্ষমতা বহু আগেই অতিক্রম করেছে কেন্দ্র দুটি।

২০০৭ সালে প্রায় ৫০-৫২ একর জমির ওপর আমিনবাজার ল্যান্ডফিলের কার্যক্রম শুরু হয়। ২০১৭ সালেই এর নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হয়েছে। কিন্তু বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে না ওঠায় এখনো সেখানে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের বর্জ্য জমে স্তূপগুলো অস্বাভাবিক উঁচু হয়ে উঠেছে। কোনো কোনো স্থানে তা নিরাপদ উচ্চতার সীমাও ছাড়িয়ে গেছে। এতে বর্জ্যধস, অগ্নিকাণ্ড ও অন্যান্য দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে।

দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা বর্জ্য থেকে মিথেনসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর গ্যাস নির্গত হচ্ছে, যা পরিবেশ ও জলবায়ুর জন্য হুমকিস্বরূপ। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত বর্জ্য জমিয়ে দীর্ঘদিন ল্যান্ডফিল পরিচালনা করলে মাটির স্বাভাবিক গঠন ও পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। পাশাপাশি বর্জ্য থেকে নির্গত তরল পদার্থ বা লিচেট আশপাশের জলাধার ও ভূগর্ভস্থ পানিতে মিশে পানি দূষণের ঝুঁকি তৈরি করে।

মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলের পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। ১৯৮৯ সালে প্রায় ৫০ একর জমিতে এর কার্যক্রম শুরু হলেও বর্তমানে কেন্দ্রটি প্রায় ১৮০ একর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। এখানেও ধারণক্ষমতা অনেক আগেই শেষ হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কেন্দ্রটিতে নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য পোড়ানো হয়। বিশেষ করে প্লাস্টিক, পলিথিন ও মিশ্র আবর্জনা পোড়ানোর ফলে ঘন কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের আবাসিক এলাকায়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, অনেক সময় ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ রেখেও ধোঁয়া ও দুর্গন্ধ থেকে রেহাই পাওয়া যায় না। শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালি, পোড়া বর্জ্যের ধোঁয়া ও দূষিত বাতাস মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও অসহনীয় হয়ে ওঠে। সম্প্রতি মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলের কিছু অংশে স্থানীয়দের সবজি চাষের উদ্যোগও দেখা গেছে। তবে দূষিত পরিবেশে উৎপাদিত এসব সবজি কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

পরিবেশবিদদের মতে, যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলা ও শিল্পকারখানার দূষণের পাশাপাশি অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও ঢাকার বায়ুদূষণের অন্যতম কারণ। খোলা জায়গায় বর্জ্য পোড়ালে বাতাসে ক্ষতিকর সূক্ষ্ম কণা ছড়িয়ে পড়ে, যা দীর্ঘমেয়াদে মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

পরিবেশবিদ অধ্যাপক আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেছেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের ব্যর্থতার কারণে নগরবাসীর স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বড় ল্যান্ডফিলের পাশাপাশি ছোট ছোট ডাম্পিং সাইটে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বর্জ্য পোড়ানোও দূষণ বাড়াচ্ছে।

নগর পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ল্যান্ডফিলের আশপাশে বসবাসকারী মানুষের দুর্ভোগ দীর্ঘদিনের। একটি এলাকার মানুষকে বছরের পর বছর এমন পরিবেশে রাখা যায় না। দ্রুত বিকল্প ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা প্রয়োজন। শুধু পরিকল্পনা ঘোষণা করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। প্রতিদিন যেভাবে বর্জ্যের পরিমাণ বাড়ছে, তাতে পুরোনো পদ্ধতিতে এই সংকট মোকাবিলা করা কঠিন। বর্জ্য উৎসেই পৃথক করা, পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপাদান উদ্ধার, জৈব বর্জ্য থেকে কম্পোস্ট তৈরি এবং আধুনিক স্যানিটারি ল্যান্ডফিল গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

সংকট শুধু ল্যান্ডফিলের ধারণক্ষমতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহ, পরিবহন এবং শেষ পর্যন্ত ল্যান্ডফিলে ফেলা পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহের দায়িত্ব অনেক ক্ষেত্রে বেসরকারি ঠিকাদারদের হাতে। এ খাত থেকে সিটি করপোরেশন বছরে প্রায় ১২ কোটি টাকা পায় বলে হিসাব রয়েছে। তবে বাস্তবে নাগরিকদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থের পরিমাণ এর চেয়ে অনেক বেশি। একটি প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হাতে কয়েকশ কোটি টাকা যাওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। নির্ধারিত ফির চেয়ে বেশি অর্থ আদায়, পরিচ্ছন্নতা কর দেওয়ার পরও আলাদা বিল নেওয়াসহ নানা অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশনের নজরেও এসেছে। সম্প্রতি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে এ-সংক্রান্ত অভিযানও চালানো হয়েছে।

বর্জ্যবাহী ট্রাক পরিচালনায়ও রয়েছে নানা অনিয়ম। অভিযোগ রয়েছে, অনেক গাড়ি নির্ধারিত চালকের পরিবর্তে প্রক্সি চালক দিয়ে চালানো হয়। এতে জ্বালানি তেল চুরির সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এক হিসাবে, মাসে প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার লিটার জ্বালানি তেল চুরির অভিযোগ উঠেছে, যার বাজারমূল্য লাখ লাখ টাকা। সম্প্রতি আমিনবাজার ল্যান্ডফিল থেকে ৮০০ লিটার ডিজেল চুরির ঘটনায় এক চালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ ছাড়া বর্জ্যবাহী ট্রাকের বেপরোয়া চলাচলে দুর্ঘটনাও ঘটছে। দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ময়লাবাহী গাড়ির চাপায় গত কয়েক বছরে একাধিক মানুষের মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হয়েছে। ফলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি যানবাহন পরিচালনা ও নিরাপত্তা তদারকির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

দায়িত্বশীলদের অবহেলা ও যথাযথ তদারকির অভাবে ল্যান্ডফিল ব্যবস্থাপনায়ও নানা ঘাটতি রয়েছে। নিয়মিত মাটি দিয়ে বর্জ্য ঢেকে রাখা, লিচেট ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশগত প্রভাব পর্যবেক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ যথাযথভাবে হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে দুর্গন্ধ, বায়ুদূষণ ও পানিদূষণের ঝুঁকি অব্যাহত রয়েছে।

সরকার প্রতিবছর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শত শত কোটি টাকা ব্যয় করছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের এ খাতে বরাদ্দ প্রায় ৫১১ কোটি টাকা এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রায় ৩২৭ কোটি টাকা। দুই সিটি করপোরেশন মিলিয়ে বরাদ্দের পরিমাণ প্রায় ৮৩৮ কোটি টাকা। আমিনবাজার ল্যান্ডফিল সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নেও কয়েকশ কোটি টাকার প্রকল্প চলমান। এরপরও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কাঙ্ক্ষিত উন্নতি দৃশ্যমান নয়।

প্রতিবছর ড্রেন পরিষ্কারে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা ও বর্জ্যজনিত সমস্যা ফিরে আসে। ড্রেন থেকে উত্তোলন করা বর্জ্য দ্রুত অপসারণ না করায় তা আবার ড্রেনে গিয়ে জমা হয়। ফলে একই কাজে বারবার অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে, যা সরকারি অর্থের অপচয় বাড়াচ্ছে।

সংকটের মধ্যেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে দীর্ঘ দুই দশক ধরে জমে থাকা বর্জ্যের স্তূপ সরিয়ে প্রায় চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ‘রূপান্তর’ নামে একটি বাগান গড়ে তোলা হয়েছে। ২০২৬ সালের ১৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর উদ্বোধন করেন। ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের তত্ত্বাবধানে মাত্র তিন মাসে বর্জ্য অপসারণ করে সেখানে হাজার হাজার গাছ লাগানো হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিকল্পনা ও সদিচ্ছা থাকলে একটি এলাকাকে মানুষের কল্যাণে সুন্দর করে গড়ে তোলা সম্ভব।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম জানিয়েছেন, বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর এবং তা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন উৎপাদিত বর্জ্যের বড় অংশ প্রক্রিয়াজাত করে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি দুর্গন্ধ ও পরিবেশদূষণ কমানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মাতুয়াইলকে ‘রিসোর্স সার্কুলেশন পার্ক’ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ চলছে। সেখান থেকে মিথেন গ্যাস সংগ্রহ করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন নগর উন্নয়নে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, নগরবাসীকে একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য শহর উপহার দিতে চান। এ লক্ষ্যে খাল খনন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সবুজায়নের কাজ চলছে।

আমিনবাজারে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি প্রকল্পও এগিয়ে যাচ্ছে। প্রকল্পটির লক্ষ্য প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার টন বর্জ্য ব্যবহার করে ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা। ২০২৮ সালের আগস্টের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর আশা করা হচ্ছে। মাতুয়াইলেও দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অনুরূপ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এখনই সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেওয়া না হলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সংকট ভবিষ্যতে বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে। জনসংখ্যা ও ভোগের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিদিন বাড়ছে বর্জ্যের পরিমাণও। তাই শুধু ল্যান্ডফিলের আয়তন বাড়িয়ে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

এ জন্য উৎস পর্যায়ে বর্জ্য পৃথকীকরণ, পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপাদান উদ্ধার, জৈব বর্জ্য থেকে কম্পোস্ট উৎপাদন এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি আধুনিক স্যানিটারি ল্যান্ডফিল গড়ে তোলা, লিচেট ও গ্যাস নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত পরিবেশগত পর্যবেক্ষণ এবং বর্জ্য পোড়ানো বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি। একই সঙ্গে বর্জ্য সংগ্রহ ও পরিবহন ব্যবস্থায় দুর্নীতি-অনিয়ম বন্ধ করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। নাগরিকদের সচেতনতা ও অংশগ্রহণও এ ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, আমিনবাজারের মহাসড়কসংলগ্ন দীর্ঘদিনের বর্জ্যের স্তূপ সরিয়ে সেখানে সবুজ বাগান গড়ে তোলা হয়েছে। নতুন প্রকল্পও এগিয়ে চলছে। তবে মূল ল্যান্ডফিল দুটির অতিরিক্ত চাপ, দুর্গন্ধ, পরিবেশদূষণ ও ব্যবস্থাপনাগত অনিয়ম এখনো কাটেনি। ফলে একটি বর্জ্যের স্তূপ সরিয়ে বাগান গড়ে তোলাই যথেষ্ট নয়; পুরো নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক কাঠামোর মধ্যে আনতে হবে। দায়িত্বশীলদের কার্যকর উদ্যোগ, কঠোর তদারকি এবং নাগরিকদের সহযোগিতাই পারে ঢাকাকে বাসযোগ্য করে তুলতে। অন্যথায় ময়লার পাহাড় আরও উঁচু হবে, আর তার চাপে বিপর্যস্ত হবে নগরজীবন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমএস/একেকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!