এরআগেও ডেইলি বাংলাদেশে তার নামে ফেডারেশনে একনায়কতন্ত্র, অনিয়ম ও অর্থ কেলেঙ্কারির প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে।
কিশোরীর চাচা হীরা লাল বাদী হয়ে গতকাল বুধবার গুলশান থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন একটি মামলা দায়ের করেন।
.png)
মামলার বিবরণীতে জানা যায়, সম্প্রতি ঢাকায় অনুষ্ঠিত আইটিএফ আন্তর্জাতিক টেনিস টুর্নামেন্টে ১৬ দেশের প্রায় অর্ধশত খেলোয়াড় অংশ নেয়। এদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশের বর্ষীয়ান টেনিস খেলোয়াড় ও কোচ শিবু লালের মেয়ে রেনা লাল দেশের হয়ে খেলার জন্য ঢাকা আসে। তিনি টেনিস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোরশেদের মাধ্যমে ঢাকা ক্লাবের গেস্ট হাউজে ওঠে।
গত ৪ নভেম্বর সন্ধ্যায় গোলাম মোরশেদ ভুক্তভোগী রেনা লালকে নৈশভোজের প্রস্তাব দেন। রাজি হওয়ায় মোরশেদ নিজে গাড়িতে করে গুলশানের ৯০ নম্বর রোডের এনই (এল) বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে তাকে মদ ও সিগারেট খাওয়ার প্রস্তাব দেন। গাড়িতে গোলাম মোরশেদ রেনাকে শ্লীলতাহানি করেন এবং অশ্লীল কথাবার্তা বলেন। তাকে বার বার বাধা দিলে রেনাকে কফিশপে নিয়ে যান। কফি খাওয়া শেষে তাকে ক্লাবে নামিয়ে দেয়ার কথা বলে আবারো গুলশানের বাসায় নিয়ে যান মোরশেদ। পরে ফের কুপ্রস্তাব দেন।
রেনা লাল সব ধরনের কুপ্রস্তাব প্রত্যাখান করে এবং রাগান্বিত হয়ে চিল্লাচিল্লি করে। তখন গোলাম মোরশেদ ভুক্তভোগীকে একটি গাড়ি ঠিক করে দেন। রাত ১১টায় ক্লাবে পৌঁছে রেনা তার বাবাকে ঘটনা জানায়।
ঢাকা, রাজশাহী ও খুলনায় খেলার কথা ছিল ভুক্তভোগী টেনিস খেলোয়াড়ের। কিন্তু মোরশেদের যৌন হয়রানিতে আতঙ্কিত হয়ে কাউকে কিছু না জানিয়েই ১৪ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান।
এরইমধ্যে ভুক্তভোগীর বাবা যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসেছিলেন বাংলাদেশে। ঢাকা থেকে তিনি সরাসরি চলে যান খুলনায়। পরিকল্পনা ছিল খুলনায় মেয়ের সঙ্গে দেখা করবেন। কিন্তু বাবা-মেয়ের আর দেখা হয়নি। ভুক্তভোগী কিশোরী যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে বাবাকে বিস্তারিত জানিয়ে ই-মেইল করেন। সে ই-মেইলের কপি ডেইলি বাংলাদেশের কাছে রয়েছে।
আরো পড়ুন> একনায়কতন্ত্রে চলছে টেনিস ফেডারেশন!
ভুক্তভোগী রেনা লাল ওই ই-মেইলেই গোলাম মোরশেদের শাস্তি চেয়েছে। গোলাম মোরশেদের কারণে অনেক নারী টেনিস খেলোয়াড় অস্বস্তিতে পড়েন বলেও উল্লেখ করে সে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছেন। ভাবতেই পারছেন না, নিজের মেয়ের ওপর দিয়ে কী ধরনের ঝড় গেছে। তিনি এর বিচার চান। আর কোনো মেয়ে যেন মোরশেদের যৌন হয়রানির শিকার না হয়, তা নিশ্চিত করার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অনুরোধ জানিয়েছেন বাংলাদেশের টেনিসের এ কিংবদন্তি।
এ ব্যাপারে বাদী হীরা লাল ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, গতকাল গুলশান থানায় মামলা করেছি। ওসি আশ্বস্ত করেছেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আসামিকে গ্রেফতার করা হবে।
গুলশান থানা সূত্রে জানা গেছে, অপারেশন অফিসার আমিরুল ইসলাম বিষয়টি নিয়ে এরইমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে টেনিস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোরশেদ ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, এটা একটা জঘন্য অভিযোগ। আইনিভাবেই এর মোকাবিলা করব। আমি আমার লিগ্যাল টিমের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলছি।