শুক্রবার (১৪ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানিয়েছে ফিফা। ফিফার এমন সিদ্ধান্তে কারণে বাফুফের অভ্যন্তরীণ চলছে তোলপাড়। ২০০৮ সাল থেকে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন সভাপতি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। ২০০৯ সালে বাফুফেতে পেশাদার সাধারণ সম্পাদক নিয়োগ দেয়া হয়। সে সময় সাবেক ক্রীড়া সাংবাদিক আল মুসাব্বির সাদী পামেল প্রথম সাধারণ সম্পাদক হিসাবে নিয়োগ পান।
এরপর ঠিক দুই বছর পর তিনি মারা যান। সে সময় কম্পিটিশন ম্যানেজার আবু নাইম সোহাগকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়। এরপর ২০১৩ সাল থেকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে এ বছরের জুনে তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল।
.png)
গত এক দশকের বেশি সময় ফুটবলের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে কাজ করছিলেন আবু নাইম সোহাগ। সাম্প্রতিক সময় তার আচার-আচরণ নিয়ে ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটির অনেকের মধ্যে অসন্তোষ ছিল প্রবল। পাশাপাশি আর্থিক বিষয় নিয়ে অসঙ্গতি প্রকাশ করেছিল ফিফা। বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা তদন্ত করে বাফুফে সাধারণ সম্পাদককে এই শাস্তি দিয়েছেন।
সাধারণ সম্পাদকের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি বাফুফের সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী। তিনি বলেন, ‘সাধারণ সম্পাদকের সুপারিশকৃত স্বাক্ষর ফাইলের ওপরেই ফিন্যান্স কমিটির অনুমোদন হয়। আর্থিক সব ডকুমেন্টস সাধারণ সম্পাদকই তৈরি করেন।’
ফুটবল ফেডারেশনের প্রয়াত সহ-সভাপতি বাদল রায় আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ এনেছিলেন। তার সঙ্গে ছিলেন বর্তমান সহ-সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ মহী। সোহাগের ওপর ফিফার নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে তার মন্তব্য, ‘আমাদের নির্বাহী কমিটির সভায় এটি আলোচনা হবে। নির্বাহী কমিটির একজন হিসেবে আমি এই বিষয়ে বাফুফের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটির দাবি জানাব। ফিফা তাদের মতো সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনেও এই ব্যাপারে একটু খতিয়ে দেখা দরকার।’
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য ও মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জাকির হোসেন চৌধুরি বলেন, ‘এটা আমাদের জন্য খুবই দুঃখজনক ঘটনা এবং ফেডারেশনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার বিষয়। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এই সিদ্ধান্ত দিয়েছে আমাদের সেটাই অনুসরণ করতে হবে।’
এদিকে আবু নাইম সোহাগ বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের আস্থাভাজন হিসেবে পুরো ক্রীড়াঙ্গনে পরিচিত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কমিটির এক সদস্য বলেন, ‘সভাপতি মহোদয় সাধারণ সম্পাদকের প্রতি অতিমাত্রায় নির্ভরশীল ছিলেন। আমরা নির্বাচিত কর্মকর্তা, এরপরও তিনি সাধারণ সম্পাদকে অনেক ক্ষেত্রে গুরুত্ব দিয়েছেন। আজকের এই অবস্থার পেছনে সভাপতির অতিরিক্ত নির্ভরশীলতাই কারণ।’