ন্যু ক্যাম্পে মঙ্গলবার সিংহভাগ সময় দশ জন নিয়ে রক্ষণ আগলে রাখলেও শেষ রক্ষা হয়নি ওসাসুনার। শেষ দিকের গোলে তাদেরকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে বার্সেলোনা। ৩৩ ম্যাচে ৮২ পয়েন্ট নিয়ে লিগ জয়ের আরো কাছে পৌঁছে গেছে বার্সেলোনা। একই রাতে রিয়াল সোসিয়েদাদের কাছে হেরে ৩৩ ম্যাচে ৬৮ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আছে রিয়াল মাদ্রিদ।
প্রথমার্ধে ৭৭ শতাংশ বলের নিয়ন্ত্রণ থাকলেও ওসাসুনা গোলরক্ষককে তেমন কোনো পরীক্ষায় ফেলতে ব্যর্থ লেভানদোভস্কি-রাফিনহারা। সফরকারীরাও ছিল বিবর্ণ। বিরতির আগে কোনো দল একটি শটও পোস্টে রাখতে পারেনি।
.png)
নবম মিনিটে তালগোল পাকিয়ে ঠিকঠাক শট নিতে পারেননি বক্সের ডান দিকে কিছুটা দুরূহ কোণে থাকা রাফিনহা। ২৬তম মিনিটে প্রথম ভালো সুযোগটি তৈরি করে বার্সেলোনা। বালদের ক্রসে পেদ্রি ছুটে গিয়ে টোকা দিয়েছিলেন বটে, কিন্তু সংযোগ ঠিকঠাক না হওয়ায় বল যায় বাইরে।
এরপরই বড় ধাক্কা খায় ওসাসুনা। পেদ্রিকে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন হোর্সে এররান্দো। ফ্রি কিক কাজে লাগাতে পারেননি রাফিনহা। ৩২তম মিনিটে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের দুর্বল শট থাকেনি লক্ষ্যের ধারেকাছেও।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে গোলের জন্য বার্সেলোনার মরিয়া প্রচেষ্টার ছাপ ফুটে ওঠে। কিন্তু ওসাসুনার রক্ষণে চাপ দিলেও জালের নাগাল পাচ্ছিল না স্বাগতিকরা। এই অর্ধের শুরুর দশ মিনিটে লেভান্দোভস্কির একটি উড়ে যায় ক্রসবারের উপর দিয়ে, অন্যটি জমে যায় গোলরক্ষকের গ্লাভসে।
৫৬তম মিনিটে আবারও ওসাসুনার ত্রাতা গোলরক্ষক। এবার পেদ্রির ক্রসে ডি ইংয়ের শট কোনোমতে গ্লাভসের ছোঁয়ায় ক্রসবারের উপর দিয়ে বের করে দেন ফের্নান্দেস। গোলরক্ষক বরাবর না গিয়ে ডাচ মিডফিল্ডারের শট একটু এদিক-ওদিক হলেই এগিয়ে যেতে পারত বার্সেলোনা।
একটু পর ফাতির নিচু শট আটকান গোলরক্ষক, উসমান দেম্বেলের সাইড ভলি যায় পোস্টের বাইরে। ৬৮তম মিনিটে দ্রুত বল বাড়িয়েছিলেন সার্জি বুসকেটস। তা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিচু শট নেন লেভানদোভস্কি, নাগালের মধ্যে থাকায় সহজে বিপদমুক্ত করেন গোলরক্ষক। একটু পর ফাতির জোরাল শটের গন্তব্যও পোস্টের বেশ বাইরে।
৭৬তম মিনিটে সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট হয় বার্সেলোনার। পেদ্রির থ্রু পাস ছুটে এসে ক্লিয়ার করেন গোলরক্ষক ফের্নান্দেস। বল সোজা যায় ফেরান তরেসের পায়ে। চলন্ত বলে এই ফরোয়ার্ডের শট যায় বাইরে। পোস্টে রাখতে পারলেই হত গোল। একটু পর লেভানদোভস্কির কারিকুরিতে জালে বল জড়ালেও তরেস অফসাইডে থাকায় গোল হয়নি।
অবশেষে ৮৫তম মিনিটে খোলে ম্যাচের ডেডলক। লেভানদোভস্কির ব্যাক পাসে ডি ইং হেডে বল বাড়িয়ে দেন বক্সের ভেতরে বাঁ দিকে থাকা আলবাকে। বাঁ পায়ের ভলিতেই জাল খুঁজে নেন তিনি। হতাশায় মুষড়ে পড়া বার্সেলোনা সমর্থকরা জেগে ওঠে আনন্দে। এতক্ষণ পোস্ট আগলে রাখা ওসাসুনা গোল হজমের হতাশায় ভেঙে পড়ে।
শেষ পর্যন্ত এই গোল নিয়েই জয়ের আনন্দে মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা। ৩৩ ম্যাচে ৪৪ পয়েন্ট নিয়ে নবম স্থানে আছে ওসাসুনা।