কাতার বিশ্বকাপের পর আরেকটি শিরোপা উঁচিয়ে ধরার সুযোগ ছিল আলভারেজের সামনে। অবশ্য সেই সুযোগটা মিস করেননি তিনি।
শনিবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলের কামাল আতাতুর্ক স্টেডিয়ামে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ইন্টার মিলানের মুখোমুখি হয়েছিল ম্যানচেস্টার সিটি। এ ম্যাচে মিলানকে ১-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো উয়েফার শিরোপা জিতেছে সিটি। এদিন সিটিজেনদের হয়ে জয়সূচক একমাত্র গোলটি করেন স্প্যানিশ মিডফিল্ডার রদ্রি।
.png)
চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে অন্যতম আকর্ষণ ছিল হুলিয়ান আলভারেজ ও প্রতিপক্ষ ইন্টারের তারকা লাউতারো মার্টিনেজের লড়াই। কাতার বিশ্বকাপের শিরোপাজয়ী আর্জেন্টিনা দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন মার্টিনেজ ও আলভারেজ। সেই সঙ্গে তাদের সামনে সুযোগ ছিল দারুণ এক মাইলফলক ছোঁয়ার।
এবারের আগে একই মৌসুমে বিশ্বকাপ ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের সৌভাগ্য হয়েছে মোটে নয়জনের। পশ্চিম জার্মানি ও বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে ১৯৭৪ মৌসুমে ওই কীর্তি গড়েন ছয় খেলোয়াড়। তারা হলেন - সেপ মাইয়ের, পল ব্রেইটনার, হ্যান্স-জর্জ শোয়ার্জেনবেক, ফ্রাঙ্ক বেকেনবাওয়ার, জার্ড মুলার ও উলি হোইনেস।
এরপর ১৯৯৮ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদ ও ফ্রান্সের ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার ক্রিস্টিয়ান কারেম্বু তালিকায় যুক্ত হন। ২০০২ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের লেফট ব্যাক রর্বাতো কার্লোস বিশ্বকাপ ও ইউরোপ সেরার শিরোপা স্পর্শ করেন। ২০১৮ মৌসুমে ফ্রান্স ও রিয়াল মাদ্রিদের সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার রাফায়েল ভারানে নবম ফুটবলার হিসেবে ডাবল জেতেন।
দশম খেলোয়াড় হওয়ার সুযোগ ছিল এবারের দুই ফাইনালিস্ট ম্যানচেস্টার সিটি ও ইন্টার মিলানে খেলা দুই আর্জেন্টাইনের যেকোনো একজনের সামনে। যার জন্য দরকার ছিল জাতীয় দলের সতীর্থের ক্লাবকে হারানো। যে সুযোগটা কাজে লাগিয়ে দশম ফুটবলার হিসেবে একই মৌসুমে বিশ্বকাপ ও চ্যাম্পিয়ন্সলিগের শিরোপা জেতার কৃতিত্ব দেখালেন হুলিয়ান আলভারেজ।
তবে নিজেকে একদিক দিয়ে অভাগা ভাবতে পারেন আলভারেজ। কাতার বিশ্বকাপে তারকাখ্যাতি পাওয়া এই আর্জেন্টাইনকে যে ফাইনালে মাঠেই নামাননি কোচ গার্দিওলা। বেঞ্চে বসেই তাই দলের ইতিহাসগড়া মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। ক্লাবে প্রথম মৌসুমেই পেয়েছেন ট্রেবলের স্বাদ। যেখানে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ১০ ম্যাচে মাঠে নেমে করেছেন ৩ গোল, যার একটি আবার সেমিফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে।
আলভারেজ ফাইনালে মাঠে না নেমেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের স্বাদ পেলেও সেই সৌভাগ্য হয়নি লাউতারো মার্টিনেজের। ফাইনালে ইন্টারের আক্রমণভাগের প্রধান অস্ত্র তিনিই ছিলেন। কিন্তু সুযোগ পেয়েও সিটির গোলরক্ষক এদারসনের গায়ে মেরে সুযোগ নষ্ট করেছেন তিনি। যার মাশুল গুণতে হয়েছে দলের হারে।