এই রবীন্দ্রকে দেখে আফসোস হতে পারে ভারতের
মানিক চিনল না ভারত। বাবা-মা ভারতীয় হলেও চাকরির সুবাদে নিউজিল্যান্ডে স্থায়ী হন। তবুও শেকড় ভোলেননি তারা। ছেলের নাম থেকে শুরু করে তার বেড়ে উঠা এমনকি ভারতের পরিবেশ পরিস্থিতির সঙ্গে কিভাবে মানিয়ে নিতে হয় সেটা বুঝিয়ে দেন। নিউজিল্যান্ডের ওয়েলিংটন শহরে জন্ম নেয়া সেই রাচিন রবীন্দ্রর ক্রিকেটের হাতেখড়িও বাপ দাদার ভিটা ব্যাঙ্গালুরু থেকে। কিন্তু আফসোস, ভারতীয়রা তাকে পাত্তাই দিলো না। গিল-জসওয়ালদের দেশে রবীন্দ্রও যে হতে পারতেন আরেকজন সুপারস্টার, তা অনুমেয়ই।
তবে ভারত না চিনলেও নিউজিল্যান্ড ঠিকই চিনেছে। আর তাদের আস্থার প্রতিদানও দিয়ে যাচ্ছেন এই তরুণ। বৃহস্পতিবার আহমেদাবাদে তো বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডকে দেখালেন তার আসল খেল! তাকে সঙ্গ দেন ডেভন কনওয়ে। এই দু’জন মিলে বিশ্বকাপের যাত্রা ম্যাচে যেন লর্ডসের ঝাল মেটাল।
উইল ইয়ংকে শূন্যতে ফেরানোর পর বেশ উদযাপন করেছিলেন ইংলিশরা। সেই উদযাপনের পরের দৃশ্যটা এতটা হতাশার হবে, কে জানত! রবীন্দ্র ও কনওয়ে– দু’জনেরই প্রথম বিশ্বকাপ। আর প্রথমটিকে করলেন স্মরণীয়, সাজালেন সেঞ্চুরির রং দিয়ে। তাতে ম্যাচটা ৯ উইকেটে জিতে নেয় নিউজিল্যান্ড।
.png)
ব্যাঙ্গালুরুর ছেলে রবীন্দ্র। ক্লাব পর্যায়ে নিজ শহর ব্যাঙ্গালুরুতে খেলেছেন। এরপর নিউজিল্যান্ড দলের বয়সভিত্তিক দলে ডাক পান। বাবা রবি কৃষ্ণমূর্তি একজন সফটওয়্যার আর্কিটেকট। তার ইচ্ছা ছিল, ছেলে ভারতের হয়ে খেলুক। কিন্তু এত এত ভারতীয় খেলোয়াড়ের ভিড়ে নিজেকে চেনাতে ব্যর্থ হন রবীন্দ্র। এ নিয়ে অবশ্য বিতর্ক রয়েছে।
কেউ বলছেন, রবীন্দ্রকে সেভাবে পাত্তা দেয়নি ভারতীয়রা। শেষমেষ নিউজিল্যান্ড দলে নাম লেখান। এবারের বিশ্বকাপে তিনি যে কিউইদের ট্রাম্পকার্ড হবেন, সেটা ধারণা করা হয়েছিল। বাস্তবে সেটাই করে দেখালেন তিনি। আহমেদাবাদে ব্যাট হাতে নামলেন তিন নম্বরে। সেখানেও তার ভয়ংকর রূপ দেখলেন ইংলিশ বোলাররা। ওয়ানডেকে বানিয়ে নিলেন টি-২০। চার-ছয়ের ঝলক দেখিয়ে পূর্ণ করলেন শতক। সেখানেই থামেননি। নিজের ইনিংস টেনে নিয়ে গেলেন আরো সামনে। তাতে ইংলিশ বোলারদের অসহায় আত্মসমর্পণ ছাড়া কিছুই করার ছিল না। একমাত্র উইকেট শিকারি স্যাম কুরান।
খুব বেশি ওয়ানডে খেলার অভিজ্ঞতা নেই রবীন্দ্রর। এ বছরের মার্চে অকল্যান্ডে লংকানদের বিপক্ষে প্রথম ৫০ ওভারের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন। সেই থেকে গতকালের আগ পর্যন্ত খেলেন ১২ ম্যাচ। যেখানে সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল ৬১। এবার সেটা হলো দ্বিগুণ। রবীন্দ্রর সঙ্গে সমানতালে হাঁটা কনওয়ে ছিলেন আরো ভয়ংকর। দু’জন বিশ্বকাপে কিউইদের দ্রুততম সেঞ্চুরির খাতায়ও নাম লেখান। যে তালিকার একে প্রবেশ করেন ৮২ বলে সেঞ্চুরি হাঁকানো ২৩ বছর বয়সী রবীন্দ্র। আর দ্বিতীয় আসনটি দখলে নেন ৮৩ বলে শতক উদযাপন করা কনওয়ে।
কিউইদের দুঃখের গল্পের শেষ নেই। বড় আসরে তারা যেন রানার্সআপে আটকা। এবার অন্তত সেই বৃত্তটা ভাঙতে চান। কনওয়ে-রবীন্দ্ররা যেভাবে ঝলক দেখালেন তাতে কিউইদের আশাটা আরো পোক্ত হলো। এখন সামনের পথটা এভাবে শেষ করলেই হলো। শিগগিরই ফিরবেন তাদের অভিজ্ঞ সেনানি ও দলনেতা কেন উইলিয়ামসন। তিনি ফিরলে নিশ্চয়ই আরো শক্তিশালী হবে নিউজিল্যান্ড ব্রিগেড।