লর্ডসের রাজা ‘জিনিয়াস’ রুট
ক্রিকেটের প্রাচীন ও অভিজাত ভেন্যু লর্ডসে যেন রাজত্বই করছেন জো রুট। সাবেক ইংলিশ ব্যাটার গ্রাহাম গুচকে টপকে তিনিই এখন মাঠটিতে সর্বাধিক ২,০২২ রানের মালিক। সেঞ্চুরির সংখ্যাতেও তিনি সবার উপরে। সাত শতক হাঁকানো ডানহাতি ব্যাটার চলতি টেস্টে শ্রীলংকার বিপক্ষে পেয়েছেন জোড়া সেঞ্চুরি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের জর্জ হেডলি এবং ইংল্যান্ডের গ্রাহাম গুচ ও মাইকেল ভনের পর তিনিই লর্ডসে এক টেস্টে দুই ইনিংসের তিন অংকের ঘরে পৌঁছান।
ইংল্যান্ডের হয়ে টেস্টে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটাও রুটের দখলে যেতে হয়তো খুব বেশি সময় লাগবে না। সাবেক অধিনায়ক অ্যালিস্টার কুকের (১২,৪৭২) চেয়ে তিনি মাত্র ৯৬ রানে পিছিয়ে আছেন। খোদ তার কাছেই তিনি পেয়ে গেলেন ‘জিনিয়াস’ তকমা।
ক্রিকেটের জনকদের প্রতিনিধিত্ব করে যাকে ছাড়িয়ে রেকর্ড ৩৪ সেঞ্চুরির অধিকারী রুট, সেই কুক বিবিসিকে দিয়েছেন সাক্ষাৎকার। অবলীলায় বললেন, ‘সহজ বিচারে তিনি ইংল্যান্ডের সর্বকালের শ্রেষ্ঠ এবং তার এই রেকর্ড থাকা উচিৎ। আমরা একজন জিনিয়াসকে দেখছি।’
‘আমার মনে হয় না এমন একজন ব্যাটসম্যান আছে যাকে আমি খেলা দেখে মনে রাখতে পারি। রান অনিবার্যভাবে করবে, এমন অনুভূতি জো রুট দেন। আমি জানি সে দুর্দান্ত ফর্মে আছে। একজন মাস্টার ও কারিগরকে কাজে দেখতে পাওয়াটা আনন্দের বিষয়।’
টেস্টে রুটের চেয়ে বেশি সেঞ্চুরিও পাঁচজনের রয়েছে। ধরাছোঁয়ার বাইরে আছেন কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকার, তার শতক সংখ্যা ৫১টি। দ্বিতীয় স্থানে সাবেক প্রোটিয়া অলরাউন্ডার জ্যাক ক্যালিসের নামের পাশে ৪৫টি সেঞ্চুরি। অজি কিংবদন্তি রিকি পন্টিংয়ের সেঞ্চুরি ৪১টি, কুমার সাঙ্গাকারার ৩৮টি ও রাহুল দ্রাবিড়ের ৩৬ সেঞ্চুরি রয়েছে।
রুট যখন ১৩ বছর বয়সী বালক, তখনই তার ব্যাটিংটা কুকের মনে ধরেছিল। সেই স্মৃতিচারণে তিনি বলেন, ‘আমি তাকে প্রথম কয়েকটি বল খেলতে দেখেছিলাম। মনে হয়েছিল, এই মানুষটা টিকে থাকার জন্য এসেছে। আমি সততার সঙ্গে বলেছিলাম, তিনি টেস্টে ১০ হাজার রান করতে যাচ্ছে। আমি তখন জানতাম না কাকে কথাটা বলেছিলাম। তবে এটুকু জানি আমি এমনটাই বলেছিলাম।’