সাকিব আল হাসানের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের দূরত্ব প্রসঙ্গে ভারতের ক্রীড়া সাময়িকী স্পোর্টস্টারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেন তামিম ইকবাল। বাংলাদেশ-ভারত সিরিজে ধারাভাষ্যকারের ভূমিকায় থাকা সাবেক টাইগার অধিনায়ক বিষয়টি নিয়ে বলেছেন আরো খোলামেলা কথা।
বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের সঙ্গে আগের সেই বন্ধুত্ব না থাকা প্রসঙ্গে বাংলাদেশ দলের এই ওপেনার বলেন,‘সম্পর্কের উত্থান-পতন আছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, কেউ একে অপরের ক্ষতি করছি না। কারণ, দুজনই শেষ পর্যন্ত দেশের হয়েই খেলছি। আমি মিডিয়াতে এ নিয়ে কথা বলিনি কিংবা জনসম্মুখে তাকে কিংবা অন্য কাউকে দোষারোপও করিনি।’
.png)
তামিম ও সাকিবের সম্পর্কের পথ আজ ভিন্ন। দুটি পথ, দুটি দিকে বেঁকে গেলেও মি. অলরাউন্ডারের প্রশংসায় কার্পণ্য করেননি তার এক সময়ের বন্ধু। তিনি বলেন, ‘আমি সত্যি সত্যিই বিশ্বাস করি সাকিব বাংলাদেশের জন্য যা করেছে, সেটা অসাধারণ। তার সঙ্গে সম্পর্ক ভালো থাকুক আর না থাকুক, এটা অস্বীকার করা যায় না। সে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় তারকা।’
লম্বা ক্যারিয়ারে সাকিবের সেরা পারফরম্যান্স কোনটি ছিল, সেই স্মৃতিচারণটাও সাক্ষাৎকারে জানান তামিম। তার ভাষ্য, ‘২০০৯ সাল, ঢাকায় শ্রীলংকা ও জিম্বাবুয়ের সঙ্গে ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্ট। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আমরা প্রথম ম্যাচে হেরে যাই। ফাইনালে উঠতে আমাদের শ্রীলংকাকে বোনাস পয়েন্টসহ হারাতে হতো। বৃষ্টি নামায় ম্যাচের দৈর্ঘ্য ৩১ ওভারে নামিয়ে আনা হয়। বোনাস পয়েন্টসহ জিততে ২৫ ওভারের মধ্যে শ্রীলংকার ১৪৭ রান তাড়া করতে হতো।’
‘বোনাস পয়েন্টসহ জয় ছিল তখন আমাদের কল্পনার অতীত। ১১ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর সাকিব ব্যাটিংয়ে নামে। সে ৬৯ বলে ৯২ রানের অবিশ্বাস্য ইনিংস খেলে ২৩.৫ ওভারে দলকে জিতিয়ে দেয়। আমরা শুধু ম্যাচটাই জিতিনি, বোনাস পয়েন্টসহ ফাইনালেও উঠেছিলাম। ড্রেসিংরুমে বসে মনে হয়েছিল জয়ের সুযোগ আছে, তবে ভাবিনি আমরা বোনাস পয়েন্টসহ জিতব। কিন্তু সাকিবের মাথায় অন্য কিছু ছিল। আমি সত্যিই মনে করি, সেই অপরাজিত ৯২ রান বাংলাদেশের যেকোনো ক্রিকেটারেরই সেরা ওয়ানডে ইনিংস। আসলে এটাই সাকিব আল হাসান। অন্যভাবে ভাবতে পারার ক্ষমতাই তাকে আজ এই পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। ঐ ইনিংসটি আমার কাছে খুব খুব উঁচুমানের।’
কানপুর টেস্টের আগে টেস্ট থেকে সাকিবের অবসরের সিদ্ধান্তের ব্যাপারেও নিজের মতামত জানান তামিম। তার ভাষ্য, ‘গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে অনেক কিছুই লেখা হয়েছে। লোকে এ নিয়ে অনেক কথাই বলেছে। যে কারোরই অধিনায়ক, কোচ ও বোর্ড নিয়ে নিজস্ব মতামত আছে। যখন সত্যিই মনে হবে সরে যাওয়ার এটাই সময়, তখন সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সে যদি নিজের ইচ্ছায় এই সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে সেটা সঠিক এবং আমাদের সবারই এটাকে সম্মান জানানো উচিৎ।’