ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ শিল্প ও সাহিত্য ]
মূল: দ্য ড্রিমস, লেখক নাগিব মাহফুজ 

সাক্ষ্য

অনুবাদ: মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ
প্রকাশিত: ১৪:৫৭, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২
সাক্ষ্য
ছবি: অন্তর্জাল

ছোট্ট সড়কটির ওপরে কোনো পথচারীর ভিড় ছিল না। পাশের বাসাগুলোর ঝুল-বারান্দাগুলোতেও তেমন কোনো মানুষজন ছিল না। মেয়েটি ধীরে ধীরে হাঁটছিল। কখনো কখনো সে ফ্যাশনের প্রদর্শনীগুলোর সামনে থামছিল।
   
চারজন যুবক তার দিকে এগিয়ে গেল। কারো বয়সই বিশ হবে না। মেয়েটি রেগে গিয়ে তাদেরকে ভ্রূকুটি করল। কিন্তু তারা ওপরে ঝাঁপিয়ে পড়ল এবং উৎপীড়ন করল। মেয়েটি সাধ্যমতো প্রতিরোধ করল। কিন্তু চারপাশের লোকজন বাধা না দিয়ে শুধু শুধু তাকিয়ে তাকিয়ে দেখল। যুবকেরা তার পোশাক ছিঁড়ল। শরীরের অংশগুলোকে অনাবৃত করল। মেয়েটি তখন ভয়ে চিৎকার করতে লাগল। আমি পথের ওপরে দাঁড়িয়ে দৃশ্যপটটি দেখছিলাম। প্রবল ঘৃণা ও মানসিক আঘাতে আমি কুঁকড়ে গেলাম। আমার শরীর অবশ হয়ে এলো। আমি চাইলাম কিছু একটা  করতে। অথবা চাইলাম যে, কেউ কিছু একটা করুক। কিন্তু কেউ এগিয়ে গেল না। বেদনাদায়ক ঘটনাটি ঘটানোর পর দুষ্কৃতকারী যুবকেরা পালিয়ে গেল। তারপর পুলিশ এলো। জায়গাটিতে স্বাভাবিকতা ফিরে এলো।

আমি নিজেকে আবিষ্কার করলাম একদল যুবকের সাথে। অফিসারের ডেস্কের সামনে। আমাদের সবার সাক্ষ্য ছিল পরস্পরের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। আমাদেরকে জিগ্যেস করা হলো আমরা কী করেছি। আমরা সবাই একবাক্যে জবাব দিলাম, ‌‍“কিছুই না।”

আমি খুবই বিব্রত হলাম ও বিশৃঙ্খল অনুভব করলাম। অফিসিয়াল প্রতিবেদনে নিজের স্বাক্ষর দেওয়ার সময়ে আমার হাত কাঁপছিল।

আরো পড়ুন> ভিকটিম
আরো পড়ুন> নৌ-যাত্রা

Advertisement
ডেইলি-বাংলাদেশ/এমএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!