ঝাঁকের পুঁটি সরষের তেলে লালচে ভেজে তোলে কালের মুদ্রায়
পুঁটিমাছ
অগভীরে থেকে যে জীবন ভাসে- কালের মুদ্রায় কখনও ডুব দেয়।
পুনরায় ভেসে ওঠে সে জীবন জলের না হাওয়ার বোঝার আগেই
ঝাঁক বাধে, ভেসে চলে জীবনের মূল ধারা থেকে বিচ্ছিন্ন এক জীবন!
কখনও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বর্ণপরিচয় তারা পড়েনি।
তারা বহুদিন আগে বটতলার চটি বই ভাদ্রের অতলে পড়েছে,
দেশ স্বাধীনের পরে তারা লোকাল ট্রেনের রিফিউজি ফেরিওয়ালার
থেকে জিলকাগজে ল্যাপটানো ঘুঘুওয়ালা বই পড়েছে। জলদাসের
পাতা জালে ধরা পরে যায় ক- এ কাকাতুয়া থেকে ট-এ টুনটুনিও!
এইসব পুঁটিমাছেরা পাইকারি ঝাঁকে জেলেদের থেকে হাতবদল
হয়, মেছোয়ানি পেট টিপে, ফ্যাকাসে কানকুয়ো দেখিয়ে কম দামে কেনে,
তারপরে ছোট আর বড় আলাদা করে ভাগা দেয় গোলাকার ডালায়।
সাদা চকচকে ধুতি, নাগর বাবুরা কিনে আনে। সেজো আর ছোট বউ
মিলে ঝাঁকের পুঁটি সরষের তেলে লালচে ভেজে তোলে কালের মুদ্রায়!
.png)
গাঙ ঘাউড়া
চিকচিকে সাদা মানে তার মন সাফ-সুতরো নয় মোটেও
ঝাঁকবেঁধে থাকে এবং দুদিকেই থাকে লোভে আর মোহে!
সহজে ধরা দেয়না। কতিপয় জেলেরাই জানে সে কৌশল।
বড় নদীর কুঁচকুচো ঢেউয়ে লুকিয়ে চলে ঘাউড়া মাছ,
সেখানেই নৌকো করে ওৎ পেতে থাকে জেলেরা। চর্বি জাতীয়
খাবার দিয়ে ফাঁদটা পাতে। প্লেন বড়শি দিয়ে নৌকোয় তোলে
হাত দিয়ে না ধরে। কানের কাছে শক্ত কাঁটা। সাবধান হই!
যতবার এদের খেতে মন চাইবে, ঠিক ততবার শুধু
কাঁচা লঙ্কা দিয়ে রান্না করবেন। অবশ্যই মনে রাখবেন
শিল-নোড়ায় কাঁচালঙ্কা বাটার সময় যত রাগ রয়েছে
সব উগরে দিন। যার উপরে গোপন রাগ রয়েছে, তাকে
মন উজাড় করে গালি দিন- তিন-চারটে, হাতের কব্জিতে
রাগের সমস্ত ভর রেখে কাঁচালঙ্কা মিহি করে পিষে নিতে
হবে। স্বাদ জীবনের একটা অধ্যায় মাত্র, এর বেশি হলে
মৃত্যু খুব কাছে রয়েছে, জানতে হবে!
ধারাবতী
এইমাত্র যখন তুমি ঘুমের ভিতরে পাশ ফিরলে, আর
তোমার বুকের থেকে শাড়ির আঁচল এলিয়ে পড়ল চুপে।
আমি তোমার বাড়ির পথ ছেড়ে
উঠে এসেছি এক্সপ্রেস রাস্তায়, যেন
এক চিরদিনের শ্রী শ্রী চৈতন্য দেব
তুমি বিষ্ণুপ্রিয়া!
সকালে উঠেই তুমি ধারাবতী নদীতে স্নান করতে যাবে।
স্নান শেষে শাড়ি ধুয়ে নেবে। দুইহাতে মুচড়ে জল ঝরাবে।
মনে হবে আষাঢ়ের প্রথম দিবস। মাটি আজ রজস্বলা।
নাভিমূল ছুঁয়ে উঠে আসে তুমুল উথল, আর
এলোমেলো হয়ে আছে- বেহাগের তাল, লয়
তোমার স্তনের গোলাপী বোঁটায় চুম্বনের দাগ
মৈথুনের কালপর্ব জেগে থাকে,
নিঃশ্বাসের উষ্ণ তাপ...
আমি একবুক বুভুক্ষু, খিদের সম্ভার নিয়ে ফিরে এসেছি
চৈত্য পর্যটক!
তুমি একটি বৃষ্টি ফোঁটা
মেঘে এতো ভার জমে আছে যেন এখনই ঝাঁপিয়ে পড়বে।
এক ভীরু কাপুরুষের মতো পালিয়ে বেঁচেছি, আর
সেই বাঁচতে বাঁচতে তিনটে জন্ম হেঁটেছি।
দুপায়ে কয়েক লক্ষ্য টুকরো পাথর মাড়িয়ে
বিদীর্ণ, রক্ত মেখে, আর
তীব্র দহণের ছাতা মাথায় এসেছি;
- মনোরম, ও মনোরম, নীলফুলের উপত্যকা
একটু উপরে স্রোতস্বীনি নদী;
পচে যাওয়া গণতন্ত্র, একদল হিংস্র কুকুরের
সেই পৃষ্ঠা জুড়ে দাপাদাপি, আর
লোভী একদল অন্ধকারের মানুষ, দম বন্ধ হয়ে আসা
সেই নরক থেকে এসেছি।
- মনোরম, ও মনোরম, তোমার চুলের খোঁপা খুলে দাও
বুক ভরে শ্বাস নেবো।
মেঘ-অভিমানী- দেখো খুলেছি মুখোশ, আর
এক এক করে সমস্ত পোশাক।
দাওয়ায় বাঁশের খুঁটি ধরে দাঁড়িয়ে দেখছো স্বলজ্জ,
তোমার গোলাপী স্তন বোঁটায় প্রজাপতি,
নাভিমূলে নদীমোহনা, উপত্যকায় নীল ফুল!
- মনোরম, ও মনোরম, তুমি একটি বৃষ্টি ফোঁটা হয়ে নামো,
ভিজতে চাই তোমার সঙ্গে একজীবনের অনন্ত সঙ্গমে!