ঢাকা,  বুধবার   ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিল্প ও সাহিত্য ]

বিস্মৃতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ

মূলঃ গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ (বই- ওয়ান হানড্রেড ইয়ার্স অফ সলিচুড)
অনুবাদঃ মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ Chabi Ghar Asad 
প্রকাশিত: ১৩:৫৬, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩
বিস্মৃতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ
ছবিঃ অন্তর্জাল, প্রতীকী

“যখন পিতা তার ভয়ের কথা  হিসেবে জানালেন যে তিনি তার শৈশবের সবচেয়ে চিত্তাকর্ষক ঘটনাগুলোও ভুলে গেছেন, তখন অরেলিয়ানো তাকে অতীতস্মৃতি মনে রাখার পদ্ধতিগুলো ব্যাখ্যা করল, এবং জোসে আরকেডিও বুয়েন্দিয়া সেগুলোকে সারাবাড়ি জুড়ে বাস্তব অনুশীলনে রূপ দিলো এবং পরবর্তীতে সেগুলোকে প্রয়োগ করল সারা গ্রামে। 

একটা কালির ব্রাশ দিয়ে সে প্রতিটি জিনিসকে চিহ্নিত করল সেটির নাম দিয়েঃ যেমন টেবিল, চেয়ার, ঘড়ি, দরজা, দেয়াল, বিছানা, পাত্র। তারপর সে খোঁয়াড়ে গেল এবং পশু গাছপালার নাম লিখলঃ গরু, ছাগল, শুকর, মুরগী, ক্যাসাভা, কচুর গাছ, কলা ইত্যাদি। 

আস্তে আস্তে স্মৃতি হারানোর অসীম সম্ভাবনা নীরিক্ষা করে সে বুঝতে পারল যে, এমন একদিন আসতে পারে, যেদিন জিনিসপত্রকে শনাক্ত করা হবে তাদের  গায়ে উৎকীর্ণ লেখা হতে, তবে তখন কেউই সেগুলোর ব্যবহার বা কাজ কী তা মনে রাখবে না। তখন সে আরও  স্পষ্টভাবে সেগুলোকে লিপিবদ্ধ করল এবং  যে সংকেত সে গরুর গলায় ঝুলিয়ে দিলো তা ছিল মাকোন্ডোর অধিবাসীদের জন্যে বিস্মৃতির বিরুদ্ধে যুদ্ধপ্রস্তুতির অনুকরণীয় প্রমাণঃ

Advertisement

‘এটি হলো গরু। প্রতিদিন সকালে এর দুধ দোহাতে হবে যাতে সে দুধ উৎপন্ন করতে পারে, এবং দুধকে সিদ্ধ ও  কফির সাথে মিশ্রিত করতে হবে কফি ও দুধ তৈরি করার জন্যে।’

এভাবেই তারা বসবাস করতে লাগল এমন এক বাস্তবতার ভেতরে যা চুপচাপ পালিয়ে যাচ্ছিল, যাকে তারা শব্দ দিয়ে মুহূর্তের জন্যে ধরে রাখছিল, কিন্তু যা অপ্রত্যাবর্তনীয়ভাবে হারিয়ে যাবে যখন তারা লিখিত শব্দের মূল্য ভুলে যাবে।”

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!