ঢাকা,  বুধবার   ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩

[ রাজনীতি ]

গোয়েন্দা সংস্থাকে বিরোধী দলের নজরদারিতে ব্যবহার বিপজ্জনক: হাসনাত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৩:২৫, ২১ অক্টোবর ২০২৬
গোয়েন্দা সংস্থাকে বিরোধী দলের নজরদারিতে ব্যবহার বিপজ্জনক: হাসনাত
কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। সংগৃহীত ছবি

রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবহার করে বিরোধী রাজনৈতিক দলের ওপর নজরদারি চালানোর বার্তাকে বিপজ্জনক ও ফ্যাসিবাদী চিন্তাধারার বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে এসব কথা বলেন তিনি।

পোস্টে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাকে বিরোধী দলের পেছনে লাগানো এবং নজরদারি প্রযুক্তির অপব্যবহার অতীতের স্বৈরাচারী শাসনামলের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে তাদের মৌলিক দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা বিপজ্জনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার কার্ড প্রকল্পের ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপির এই নেতা। তার দাবি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ১২৫ থেকে ১৩০ টাকায় ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড সরবরাহ সম্ভব হলেও এসব প্রকল্পে প্রতিটি কার্ডের ব্যয় ৩০০ থেকে ৩৬৫ টাকা ধরা হচ্ছে। উন্মুক্ত দরপত্রের পরিবর্তে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি অনুসরণের অভিযোগও তোলেন তিনি।

হাসনাত আবদুল্লাহর মতে, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোসহ বিভিন্ন সরকারি তথ্যভান্ডার ব্যবহার করে দরিদ্র মানুষের কার্যকর ডেটাবেজ তৈরি করা সম্ভব। তাই নতুন করে বিপুল অর্থ ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী এসব প্রকল্প সম্পর্কে অবগত নন—এমনটি বিশ্বাস করার কারণ নেই বলেও মন্তব্য করেন হাসনাত। একই সঙ্গে কার্ড কেনাকাটায় অনিয়মের দায় সামরিক বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপানো হলে তাদের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।

পোস্টের শেষাংশে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নয়। এসব প্রতিষ্ঠান ১৮ কোটি মানুষের সেবায় নিয়োজিত। সরকার ও বিরোধী দলসহ সব নাগরিকের প্রতি দায়িত্ব পালনের জন্যই রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো গঠিত হয়েছে। কোনো দলের রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত স্বার্থে এসব প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!