ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ বইমেলা ]

আশা-নিরাশার লিটল ম্যাগাজিন চত্বর

বইমেলা প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৭:৫৭, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২২
আশা-নিরাশার লিটল ম্যাগাজিন চত্বর
লিটল ম্যাগাজিন চত্বর। ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

লিটল ম্যাগাজিনকে বলা হয় সাহিত্যের আঁতুড় ঘর। লিটল অর্থ ছোট হলেও বিষয়টি বেশ বড়। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান দখল করে আছে লিটল ম্যাগাজিন। এই মাধ্যমে ব্যতিক্রমধর্মী চিন্তাধারা ও অকুতোভয় মতামতের চর্চা করা হয়। অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘লিটল ম্যাগাজিন আর ব্যবসা একসাথে হয় না’।

লিটল ম্যাগাজিন বরাবরই হার না মানা এক বারুদ। যার জন্ম হয়েছে, সমাজের অসঙ্গতিকে আঙুল দিয়ে স্পষ্ট ভাষায় দেখিয়ে দেওয়ার জন্য। অথচ প্রতি বছর অমর একুশে গ্রন্থমেলার সাজসজ্জায় অবহেলার পাত্র বনে যায় লিটল ম্যাগাজিন চত্বর।

এ বিষয়ে কথা হলে কবিতাভূমির সম্পাদক অনিরুদ্ধ দিলওয়ার বলেন, প্রতিবছর বাংলা একাডেমি আমাদের একটি স্থান দেয়। কিছুটা সাজিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। বাকিটা আমাদেরই করতে হবে। মেলার যতগুলো স্টল দেখা যাবে এগুলো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগ সাজানো হয়েছে। আমরা সাধারণ একটি ব্যানার করতে দুবার চিন্তা করি। তাহলে লিটল ম্যাগাজিন চত্বর কি শুধু বাংলা একাডেমির? প্রশ্ন কিন্তু থেকে যায়।

Advertisement

তিনি আরো বলেন, আমরা যেহেতু প্রতিষ্ঠান বিরোধী চর্চা করে থাকি তবুও যুগের সঙ্গে কিছুটা তাল মেলানোর প্রয়োজনও বোধ করি। আরো সাজানো গোছানো হলে আমাদের পাঠক সংখ্যাও বাড়বে বলে বিশ্বাস রাখি।

লিটল ম্যাগাজিন চত্বর। ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

অমর একুশে গ্রন্থমেলার ৩৮তম আসরের লিটল ম্যাগাজিন চত্বর নিয়ে ‘প্রান্তস্বর’ সম্পাদক ইকতিজা আহসান বলেন, ‘অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর আমারা যেটা প্রত্যাশা করেছি সেরকমই হয়েছে। গত বছর যেমন আন্দোলন করতে হয়েছে। এ বছর এ ধরণের কোনো ঝামেলা হয়নি। মেলার প্রথম দিন থেকেই লাইট থেকে শুরু করে অন্যান্য সব ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে সব সময়ের মতো একটি আক্ষেপ তো থাকেই বিক্রি নিয়ে।

লিটল ম্যাগাজিন নিয়ে আশা বা আক্ষেপের কোনোটাই প্রকাশ করতে চাননি ‘মাদুলি’র সম্পাদক অরবিন্দ চক্রবর্তী। তার মতে, সাহিত্য চর্চা করতে এসেছি। এখানে চাওয়া-পাওয়ার ব্যাপারে কথা বলা ঠিক না। হ্যাঁ, গত বছরের তুলনায় এবারের সাজসজ্জা ভালো। তবে প্রতি বছর অনেক স্টল বরাদ্দ থাকলেও অধিকাংশ ফাঁকা থাকে। এক্ষেত্রে বাংলা একাডেমি চাইলে লিটল ম্যাগাজিন চত্বরে স্টল বরাদ্দের সময় কিছুটা সতর্ক মনোভাব নিতে পারে।

এ বছরের বইমেলায় করোনার কারণে শিশুপ্রহর না থাকলেও, থাকছে লেখক মঞ্চ, সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। থাকছে বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের ব্যবস্থা। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার জন্য রাখা হয়েছে মোবাইল কোর্ট। রয়েছে তথ্য কেন্দ্র, টয়লেট ও খাবারের ব্যবস্থা। মেলায় ঢোকার জন্য রয়েছে চারটি প্রবেশ পথ ও বের হওয়ার জন্য রয়েছে তিনটি পথ। স্বাস্থ্যবিধি মানারও কড়াকড়ি লক্ষণীয়।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!