মেলা ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন স্টলের সামনে আশ্রয় নেন দর্শনার্থীরা। অন্যদিকে লিটন ম্যাগ চত্বরে জুড়ে দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা গেছে।
হঠাৎ ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিতে থেমে যায় বই বিক্রি। অনেক স্টলের সামনে বৃষ্টির পানি জমতে দেখা গেছে। তবে বৃষ্টিতে বিক্রি ছাড়া তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি বলে জানান প্রকাশকরা।
.png)
গতিধারা প্রকাশনের আহমেদ কাওসার বলেন, বৃষ্টি বা বৈরি প্রকৃতির জন্য আমাদের আগে থেকেই ব্যবস্থা নেয়া ছিল। তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি। কারণ বৃষ্টি শুরু হতেই আমরা ত্রিপল দিয়ে স্টল ঢেকে দেই। পাঠক-দর্শনার্থীদের আসা সময় থেকেই শুরু হয় বৃষ্টি। আজ বিক্রি হয়নি। বৃষ্টি থামলে হয়তো কিছুটা বিক্রি বাড়তে পারে।
বৃষ্টি থামতেই মেলাজুড়ে নেমে আসে নিস্তব্ধতা। পাঠক-দর্শনার্থীরা যার যার গন্তব্যে ছুটতে শুরু করে। এ দেখে ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশনের আদিত্য অন্তর বলেন, হঠাৎ বৃষ্টিতে আমাদের সবারই নাকাল অবস্থা। মেলার শুরুতে বৃষ্টি আসায় আজ বিক্রি হয়নি। ভেবেছিলাম বৃষ্টি থামলে কিছুটা বিক্রি হবে; কিন্তু বৃষ্টি থামলেই বইমেলার প্রাঙ্গণ ফাঁকা হতে থাকায় কিছুটা হতাশ হয়েছি। আগামীকাল যেহেতু আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এবং একুশে ফেব্রুয়ারি সেহেতু আজকের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার আশা করছি।
অন্যদিকে বৃষ্টি থামতেই লিটল ম্যাগ চত্বর ফাঁকা হয়ে যায়। বৃষ্টিতে স্টলগুলো ভিজে যাওয়া অনেকে আর স্টল সাজাতে পারেনি সংশ্লিষ্টরা।
দেয়াঙ-এর সম্পাদক মাহমুদ নোমান বলেন, হঠাৎ বৃষ্টিতে স্টলগুলো ভিজে গেছে। ঠিকমতো বই গোছানোর সময় পাইনি। অন্যদিকে স্টলের উপরে যে ত্রিপল দেওয়া হয়েছে সেখান থেকে বৃষ্টির পানি ভেতরে চুইয়ে চুইয়ে পড়ছে। আমার মনে হয়, কর্তৃপক্ষের এদিকে আরো একটু দৃষ্টি দেওয়া উচিৎ।
এদিকে, বৃষ্টি শুরু থেকেই বাংলা একাডেমি থেকে বলা হয়- লেখকমঞ্চ এবং বই উন্মোচনের স্থানটিতে লেখক-পাঠক-দর্শনার্থীরা আশ্রয় নিতে পারবে। আরো বলা হয়, আগামীকাল আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এবং একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে সকাল ১১টা থেকে মেলা শুরু হবে।
উল্লেখ, করোনার কারণে বইমেলায় শিশুপ্রহর না থাকলেও থাকছে লেখক মঞ্চ, সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। থাকছে বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের ব্যবস্থা। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার জন্য রাখা হয়েছে মোবাইল কোর্ট। রয়েছে তথ্যকেন্দ্র, টয়লেট ও খাবারের ব্যবস্থা। মেলায় প্রবেশের জন্য রয়েছে চারটি পথ ও বের হওয়ার জন্য রয়েছে তিনটি পথ।