জাকসুর শিক্ষক মূল্যায়ন ওয়েবসাইটে প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণের দাবি শিক্ষক সমিতির
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে শিক্ষক মূল্যায়নের জন্য জাকসুর উদ্যোগে তৈরি ওয়েবসাইট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাহাঙ্গীরননগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। একইসঙ্গে শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালুর ক্ষেত্রে যথাযথ বিধিমালা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) শিক্ষক সমিতির সম্পাদক অধ্যাপক ড. আইরীন আক্তারের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।
.png)
বিবৃতিতে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে প্রচারিত তথ্যের মাধ্যমে শিক্ষক সমিতি জানতে পেরেছে, শিক্ষার্থীদের দ্বারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মূল্যায়নের জন্য জাকসুর উদ্যোগে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করা হয়েছে এবং ১৮ সেপ্টেম্বর জাকসুর সমাপনী সভায় ওয়েবসাইটটি উদ্বোধন করা হয়। এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে শিক্ষক সমিতি।
শিক্ষক সমিতি মনে করে, শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মূল্যায়নের একটি কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা থাকা অত্যন্ত জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও অনেক আগেই শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু হওয়া প্রয়োজন ছিল বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
তবে শিক্ষক মূল্যায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিষয় কোনো ছাত্রসংগঠন বা ছাত্র সংসদের নিজস্ব উদ্যোগে পরিচালিত হওয়ার বিষয় নয় বলে জানিয়েছে শিক্ষক সমিতি। তাদের মতে, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি-বিধান, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও একাডেমিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা অত্যাবশ্যক।
শিক্ষক মূল্যায়নের পদ্ধতি এবং মূল্যায়ন-সংক্রান্ত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সুস্পষ্ট নীতিমালা থাকা প্রয়োজন বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। একইসঙ্গে মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মতামতের স্বাধীনতা ও গোপনীয়তার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের মর্যাদা এবং ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক গোপনীয়তাও কঠোরভাবে রক্ষা করার আহ্বান জানানো হয়।
এর আগে, শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালুর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে জাকসুর উদ্যোগে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করা হয়। ১৮ সেপ্টেম্বর জাকসুর মেয়াদের শেষ দিনে ওয়েবসাইটটি উপাচার্যের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে পরদিন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এক বিবৃতিতে জানায়, শিক্ষক মূল্যায়নের ওয়েবসাইট তৈরির এখতিয়ার জাকসুর নেই। প্রশাসন জানায়, জাকসুর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি একাডেমিক কাউন্সিলে আলোচিত হয়েছে এবং ১৩ সেপ্টেম্বরের সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষক সমিতিও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ১৯ সেপ্টেম্বরের ওই বিবৃতির বিষয়টি উল্লেখ করেছে। সমিতি বলেছে, শিক্ষক মূল্যায়নের মতো স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি, ভুল বোঝাবুঝি কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্ক সৃষ্টি হওয়া সমীচীন নয়।
একইসঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ প্রচলিত একাডেমিক নিয়ম-কানুনের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করবে বলে আশা প্রকাশ করেছে শিক্ষক সমিতি।
বিবৃতিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি দাবি জানিয়ে বলা হয়, যথাযথ বিধিমালা অনুসরণ করে শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে গঠিত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি কার্যকর ও যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়নের পাশাপাশি একাডেমিক পরিবেশ আরও সমৃদ্ধ হবে বলে মনে করে শিক্ষক সমিতি।