জবির ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে শিক্ষক নিয়োগে সিজিপিএ শর্ত নিয়ে বৈষম্যের অভিযোগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কলা অনুষদভুক্ত ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের যোগ্যতার ক্ষেত্রে সিজিপিএ শর্ত নিয়ে বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর সম্মিলিতভাবে লিখিত আবেদন দিয়েছেন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, একই অনুষদের অন্যান্য বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে যে যোগ্যতার শর্ত প্রযোজ্য, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ক্ষেত্রে তা ভিন্নভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর দেওয়া আবেদনপত্রে শিক্ষার্থীরা জানান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদে মোট ছয়টি বিভাগ রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ের যেকোনো একটিতে ন্যূনতম সিজিপিএ ৩.৭৫ থাকলেই আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। তবে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ক্ষেত্রে অনার্স ও মাস্টার্স—উভয় পর্যায়েই ন্যূনতম সিজিপিএ ৩.৭৫ থাকার শর্ত আরোপ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
শিক্ষার্থীদের দাবি, একই অনুষদের অন্তর্ভুক্ত বিভাগগুলোর শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালায় এমন ভিন্ন শর্ত আরোপের ফলে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যের মুখোমুখি হচ্ছেন। তাদের ভাষ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অনুষদ-অনুষদভুক্ত বিভাগের জন্য শিক্ষক নিয়োগের যোগ্যতার ক্ষেত্রে অভিন্ন নীতি অনুসরণ করা হলেও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ক্ষেত্রে সিজিপিএর শর্ত আলাদাভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
আবেদনপত্রে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, অতিরিক্ত সিজিপিএ শর্তের কারণে বিভাগের অনেক মেধাবী ও যোগ্য শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতাসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে আবেদন করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে এবং তাদের একাডেমিক ও পেশাগত বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, যদি ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও অন্যান্য বিভাগের মতো যেকোনো একটি পর্যায়ে ন্যূনতম ৩.৭৫ সিজিপিএ শর্ত রাখা হয়, তাহলে বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থীরা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সমান সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে অন্যান্য বিভাগের সঙ্গে বিদ্যমান যোগ্যতার বৈষম্যও কমবে বলে মনে করেন তারা।
আরও বলা হয়, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদভুক্ত একটি বিভাগ এবং দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে অবদান রেখে আসছে। ফলে বিভাগের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও একাডেমিক সমতার বিষয়টি বিবেচনা করে শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালায় প্রয়োজনীয় সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা তাদের আবেদনে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে অন্যান্য বিভাগের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সিজিপিএ নির্ধারণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
আবেদনের শেষে বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে স্বাক্ষর করা হয়। এর অনুলিপি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার, রেজিস্ট্রার, কলা অনুষদের ডিন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছেও দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের এই সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে শিক্ষক নিয়োগের যোগ্যতার ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
.png)