চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি: কোন ইউনিটে কত আসন, আবেদনের যোগ্যতা কী?
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন হাজারো শিক্ষার্থী। উচ্চমাধ্যমিক শেষে এখন তাদের সামনে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান বেছে নেওয়ার পালা। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার মান, পছন্দের বিষয়, আবাসন, যাতায়াত, গবেষণা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি ক্যাম্পাসের পরিবেশও গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিবেচনায় ভর্তিচ্ছুদের তালিকায় থাকতে পারে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি)। পাহাড়ঘেরা সবুজ ক্যাম্পাস, শাটল ট্রেন, আবাসিক হল, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ও নানা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়টিকে দিয়েছে স্বতন্ত্র পরিচিতি।
২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষা কবে?
ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) ভর্তির অনলাইন আবেদন শুরু হবে ১৫ নভেম্বর ২০২৬, চলবে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে ২০২৭ সালের ২৯ জানুয়ারি, চলবে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
ইউনিটভিত্তিক পরীক্ষার তারিখ:
• ‘সি’ ইউনিট: ২৯ জানুয়ারি
• ‘এ’ ইউনিট: ৩০ জানুয়ারি
• ‘বি-১’ উপ-ইউনিট: ৩ ফেব্রুয়ারি
• ‘বি-২’ উপ-ইউনিট: ৪ ফেব্রুয়ারি
• ‘বি’ ইউনিট: ৫ ফেব্রুয়ারি
• ‘ডি’ ইউনিট: ৬ ফেব্রুয়ারি
• ‘ডি-১’ উপ-ইউনিট: ৮ ফেব্রুয়ারি
মূল ইউনিটগুলোর পরীক্ষা চবির পাশাপাশি ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। তবে ‘বি-১’, ‘বি-২’ ও ‘ডি-১’ উপ-ইউনিটের পরীক্ষা শুধু চবি ক্যাম্পাসে নেওয়া হবে।
কোন ইউনিটে কত আসন?
সর্বশেষ প্রকাশিত ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন ইউনিট ও উপ-ইউনিটে সাধারণ আসন ছিল ৩ হাজার ৫৯৭টি। এর মধ্যে ‘এ’ ইউনিটে ১ হাজার ৯৩টি, ‘বি’ ইউনিটে ৬৯০টি, ‘সি’ ইউনিটে ৫১০টি ও ‘ডি’ ইউনিটে ৮৪৯টি। উপ-ইউনিটগুলোর মধ্যে ‘বি-১’-এ ১৩৫টি, ‘বি-২’-এ ২৮০টি এবং ‘ডি-১’-এ ৪০টি আসন ছিল। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে আসন সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকবে কি না, তা চূড়ান্ত ভর্তি নির্দেশিকা প্রকাশের পর জানা যাবে।
আবেদনে কত জিপিএ প্রয়োজন?
আবেদনের যোগ্যতা এসএসসি ও এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে ইউনিটভেদে নির্ধারিত হয়। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ‘এ’ ইউনিটে মোট জিপিএ ৭.৭৫, ‘বি’ ইউনিটে বিভাগভেদে ৭.০০ থেকে ৭.৫০, ‘সি’ ইউনিটে ৭.৫০ এবং ‘ডি’ ইউনিটে ৭.০০ প্রয়োজন ছিল।
তবে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তিতে জিপিএ, পৃথক পরীক্ষার ন্যূনতম ফল ও পাসের সাল সংক্রান্ত শর্ত পরিবর্তিত হতে পারে। তাই আবেদনের আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নির্দেশিকা দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
প্রাকৃতিক পরিবেশে শিক্ষাজীবন
চবির অন্যতম আকর্ষণ এর প্রাকৃতিক পরিবেশ। শহরের ব্যস্ততা থেকে কিছুটা দূরের এই বিস্তৃত ক্যাম্পাসে পড়াশোনা, অবসরযাপন ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ মেলে, যা শিক্ষার্থীদের কাছে আলাদা অভিজ্ঞতা তৈরি করে।
শাটল ট্রেন: যাতায়াতের পরিচিত মাধ্যম
শাটল ট্রেন চবির পরিচয়ের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। শহর থেকে ক্যাম্পাসে যাতায়াতে শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ এ ট্রেন ব্যবহার করেন। প্রতিদিনের যাতায়াতের পাশাপাশি এটিকে ঘিরে গড়ে উঠেছে শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক যোগাযোগের স্বতন্ত্র পরিসর। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসসেবাও রয়েছে।
আবাসিক হল ও শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ
শিক্ষার্থীদের জন্য একাধিক আবাসিক হল রয়েছে, যেখানে আসন বরাদ্দের মাধ্যমে থাকার সুযোগ মেলে। চট্টগ্রামের বাইরে থেকে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য এটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা। তবে শিক্ষার্থীর তুলনায় আসনসংখ্যা সীমিত হওয়ায় সবাই হলে থাকার সুযোগ পান না। ফলে অনেককে ক্যাম্পাসের আশপাশে বা শহরে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতে হয়।
গ্রন্থাগার ও গবেষণার সুযোগ
কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে বিভিন্ন বিষয়ের বই, সাময়িকী ও গবেষণাসামগ্রী ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে গবেষণা, সেমিনার, কর্মশালা ও একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এসব কার্যক্রমে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীরা নিজেদের জ্ঞান ও দক্ষতা বাড়াতে পারেন।
চিকিৎসা ও অন্যান্য সুবিধা
শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার জন্য রয়েছে চিকিৎসাকেন্দ্র। এছাড়া বিভিন্ন সংগঠন ও ক্লাবের মাধ্যমে খেলাধুলা, বিতর্ক, সাংবাদিকতা, সাহিত্যচর্চা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া যায়। এসব কার্যক্রম নেতৃত্ব, যোগাযোগ ও সাংগঠনিক দক্ষতা বিকাশে ভূমিকা রাখে।