কবিরাজের কথায় কবরস্থান থেকে কঙ্কাল চুরি করতো হান্নান
রাজধানীর পল্লবী এলাকার একটি কবরস্থান থেকে মানুষের কঙ্কাল চুরির সময় মো. হান্নান মিয়া (২৩) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে মানুষের তিনটি মাথার খুলি, আটটি পায়ের হাড়, ১৩টি হাতের হাড় ও ছয়টি মাজার হাড় উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার হান্নানকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পল্লবী থানার ওসি মো. পারভেজ ইসলাম।
তিনি বলেন, গ্রেফতার মো. হান্নানের বাড়ি শেরপুরের নালিতাবাড়ি। সে রাজধানীর বালুরমাঠ এলাকায় বসবাস করে। গত মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে তাকে কঙ্কাল চুরির সময় পল্লবীর কালশী কবরস্থানের বাউন্ডারির ভেতর থেকে গ্রেফতার করা হয়।
.png)
ওসি মো. পারভেজ বলেন, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে একটি টহল টিম জানতে পারে যে, পল্লবীর ১১ নং সেকশনে কালশী কবরস্থানে মানুষের কঙ্কালসহ এক ব্যক্তিকে আটক করে রাখা হয়েছে। টহল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হান্নান নামের একজনকে হেফাজতে নেয়। এ সময় তার কাছ থেকে মানুষের তিনটি মাথার খুলি, আটটি পায়ের হাড়, ১৩টি হাতের হাড় ও ছয়টি মাজার হাড় উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি মামলা হয়েছে।
পুলিশের এ কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কবিরাজ এসব কঙ্কাল দিয়ে ভুয়া তন্ত্র-মন্ত্র খেলা দেখিয়ে মানুষকে ঠকিয়ে থাকতে পারে। তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী কবিরাজকে গ্রেফতারের চেষ্টা করা হচ্ছে। তাকে গ্রেফতার করতে পারলে জানা যাবে কঙ্কাল দিয়ে কি করা হতো।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই মো. সামিউল ইসলাম বলেন, চার-পাঁচ বছরের পুরনো কবরের উপরে নতুন কবর তৈরি করতে সাধারণত মাটি ফেলা হয়। মাটি ফেলার সময় পুরনো কিছু কবর থেকে মানুষের হাড় বেরিয়ে আসে। পরে সেগুলো সংগ্রহ করে আবার মাটি দিতে এক জায়গায় রাখা হয়। সেই জায়গার মাটি খুঁড়ে হান্নান এখন পর্যন্ত দুইবার কঙ্কাল চুরি করেছে।
সে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, এক কবিরাজ তার কাছ থেকে তিন হাজার টাকায় চুরি করা কঙ্কালগুলো কিনে নিতো। সে এখন পর্যন্ত একবার ওই কবিরাজের কাছে কঙ্কাল বিক্রি করেছে। ওই কবিরাজের কথায় সে কবরস্থান থেকে মানুষের কঙ্কাল চুরি করতে নামে। দ্বিতীয়বার চুরি করার সময় স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের হাতে ধরা পড়ে।