ওয়েল্ডিংয়ের ফুলকি থেকে আগুনের অভিযোগ বই ব্যবসায়ীদের
ওয়েল্ডিং বা ঝালাই কাজের ফুলকি থেকে রাজধানীর নীলক্ষেত বইয়ের মার্কেটে আগুন লাগার অভিযোগ করেছেন বই ব্যবসায়ীরা।
প্রত্যক্ষদর্শী খাজা বুক হাউসের মালিক আব্দুর রহিমের অভিযোগ করে বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে ফ্রেন্ডস বুক কর্নার নামে বইয়ের দোকানে ওয়াল্ডিংয়ের কাজ চলছিল। এ সময় পাশের দোকান চারুকলা স্টেশনারিতে ওয়াল্ডিংয়ের ফুলকি পরে। একটু পরেই চারুকলা স্টেশনারিতে আগুন বের হতে দেখা যায়।
তিনি বলেন, দোকানটি বন্ধ থাকায় আগুন নেভানো সম্ভব হয়নি। মুহুর্তের মধ্যে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। কি করবো বুঝে ওঠতে পারছিলাম না। আমার দোকান খোলা থাকলেও তেমন কিছু বের করতে পারিনি।
.png)

ফ্রেন্ডস বুক কর্নারের সামনের দোকান প্রগ্রেসিভ বুক কর্নারের মালিক মাসুদ বলেন, আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি। কিছুই নেই। সব শেষ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, মঙ্গলবার বার সাপ্তাহিক বন্ধের দিন ছিল। তারপরও কেন মার্কেট খোলা ছিল? এটা পরিকল্পিত হতে পারে। ফ্রেন্ডস বুক কর্নারের মালিকে বারবার ওয়াল্ডিংয়ের কাজ না করার জন্য বলা হয়েছে। তিনি কারো কথা শোনেননি। আমার দোকানে প্রায় ১৫ লাখ টাকার বইপত্র ছিল, সব ছাই হয়ে গেছে দেখতেই পারছেন।
এ অভিযোগের বিষয়ে ফ্রেন্ডস বুক কর্নারের মালিক নুরু আলম চৌধুরীকে বার বার ফোন দিয়ে পাওয়া যায়নি।
নীলক্ষেত মোড়ের শাহজালাল বইয়ের মার্কেটের সাধারণ সম্পাদক ও বাবুল বুকস কর্নারের মালিক রাসেল রহমান বলেন, আগুনে কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে এখন বলা সম্ভব না। প্রায় ২৫টি দোকানের সব বই পুড়ে গেছে। প্রতিটা দোকানে ১৫- ২০ লাখ টাকার বই ছিল।

মার্কেটের সভাপতি রাজু বলেন, কার কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা এখনও তালিকা করা হয়নি। ঢাকা জেলা প্রশাসক তালিকা করছে। তবে প্রতিটা দোকানে ১৫ লাখ টাকার ওপরে বই ছিল।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার রাত পৌনে ৮টায় রাজধানীর নীলক্ষেত মোড়ের শাহজালাল বইয়ের মার্কেটে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট ১ ঘণ্টার চেষ্টা শেষে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ততক্ষণে ২৫টি বইয়ের দোকান আগুন পুড়ে যায়।
ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহজাহান সিকদার বলেন, ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট এক ঘণ্টা চেষ্টা করে নীলক্ষেত বইয়ের মার্কেটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে আগুন লাগার কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে কিছুই বলা সম্ভব না।