ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ রাজধানী ]

প্রথমে কম্বোডিয়ায় পাচার, পরে সাইবার প্রতারণা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৮:০৬, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২২
প্রথমে কম্বোডিয়ায় পাচার, পরে সাইবার প্রতারণা
মানব পাচারকারী চক্রের হোতাসহ গ্রেফতারকৃত তিনজন- ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কম্বোডিয়ায় মানবপাচার ও জোরপূর্বক প্রতারণা করানোর অভিযোগে একটি চক্রের ৩ সদস্যকে আটক করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। পরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলো- মানবপাচার চক্রের মূল হোতা কম্বোডিয়া প্রবাসী নাজমুল ইসলাম, নূর ইসলাম সাজ্জাদ ও  মো. সিরাজুল ইসলাম।

র‍্যাব সূত্রে জানা গেছে, এ চক্রটি পাঁচ শতাধিক বাংলাদেশিকে সাইবার ক্রীতদাস হিসেবে কম্বোডিয়ায় পাচার করেছে। এছাড়া তারা সংঘবদ্ধ প্রতারণা ও মানবপাচার করে বিপুল অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

Advertisement

র‍্যাব-৩ এর এএসপি (মিডিয়া) ফারজানা হক জানান, সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর পল্টন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মূল হোতাসহ এ চক্রের তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে তিনটি পাসপোর্ট, চারটি মোবাইল, মানবপাচার সংক্রান্ত বিভিন্ন কাগজপত্র ও টাকা উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক অনুসন্ধান ও আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, এ মানবপাচার চক্রের মূল হোতা কম্বোডিয়া প্রবাসী নাজমুল ইসলাম। সে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন দালালের মাধ্যমে উচ্চ বেতনে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে চাকরি দেওয়ার নামে ভুক্তভোগী এবং তাদের অভিভাবককে প্রলুব্ধ করে। শিক্ষিত, বেকার তরুণ-তরুণীদের প্রলুব্ধ করে কম্বোডিয়ায় পাঠানোর খরচ বাবদ প্রাথমিকভাবে তারা ৪-৫ লাখ টাকা নিয়ে থাকে। পরে তাদের পরীক্ষা নেয়া হয়। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে কম্বোডিয়া প্রবাসী আলীম ও শরিফুলের সহায়তায় তাদের জন্য কম্বোডিয়ান ট্যুরিস্ট ই-ভিসা করা হয়। এরপর তাদের প্লেনে কম্বোডিয়ায় পাঠানো হয়।

এএসপি ফারজানা হক জানান, কম্বোডিয়ায় যাওয়ার পর নাজমুল তার সহযোগী প্রবাসী রাকিব ও রফিকের সহায়তায় প্রথমে ভুক্তভোগীদের প্রবাসী আরিফের হোটেলে নিয়ে যায়। এরপর তাদের পাসপোর্ট ছিনিয়ে নিয়ে কিছুদিন হোটেলে রাখে। পরে তাদের কম্পিউটার প্রশিক্ষণের জন্য প্রবাসী কামাল ওরফে লায়ন কামাল ও আতিকের সহায়তায় একটি বিদেশি ট্রেনিং সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বিদেশি প্রশিক্ষকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুক্তভোগীদের ছদ্মনামে অ্যাকাউন্ট খোলে। এরপর সেই অ্যাকাউন্ট দিয়ে অন্যদের সঙ্গে প্রতারণার কৌশল শেখায়।

কৌশলগুলোর মধ্যে রয়েছে ভুয়া বা ক্লোন ওয়েবসাইট ব্যবহার করে ক্রেডিট কার্ড থেকে টাকা আত্মসাৎ, ভুয়া নাম্বার থেকে কল বা চ্যাটিং করে স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ার নামে ডিপোজিট হাতিয়ে নেয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভয়েস কল ও ভিডিও কল রেকর্ডিং করে পরবর্তীতে ব্ল্যাকমেইল ও অর্থ আত্মসাৎ। মানব পাচারকারীদের ভাষায় এ ধরনের সাইবার প্রতারণার বিষয়টি স্ক্যামার হিসেবে পরিচিত।

র‍্যাব বলছে, ট্রেনিং শেষে ভিকটিমদের একটি বিদেশি কোম্পানির কাছে ২-৩ হাজার ডলারে বিনিময়ে বিক্রি করে দেওয়া হয়। এরপর তাদের একটি সুরক্ষিত ভবনে নিয়ে কম্পিউটার ল্যাবে কাজ করানো হয়। মানব পাচারকারীদের ভাষায় এ ল্যাবকে ক্যাসিনো বা প্ল্যাটফর্ম বলা হয়। বিদেশি এ চক্রটি এভাবে ৬-৭ মাস একটি ক্যাসিনো বা প্ল্যাটফর্ম চালিয়ে যাওয়ার পর ঠিকানা, ফেইক অ্যাকাউন্ট, ডোমেইন ও ডিভাইস পরিবর্তন করে। একটি প্ল্যাটফর্মে একজন ভুক্তভোগীকে বিরতিহীনভাবে ১৪-১৬ ঘণ্টা কম্পিউটারের মাধ্যমে নানাভাবে প্রতারণা চালিয়ে যেতে হয়।

র‍্যাব কর্মকর্তা ফারজানা হক বলেন, কেউ টার্গেট সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হলে বা কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। তার খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়। ক্যাসিনোগুলো কঠোর নিরাপত্তার চাদরে আবৃত্ত থাকে বিধায় ঐসব স্থান থেকে কারো পক্ষে পালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। কেউ কাজ থেকে অব্যাহতি চাইলে তার পেছনে ব্যয় করা ডলারের দ্বিগুণ ফেরত চাওয়া হয় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ করবে না বলে অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর নেয়া হয়।

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে পল্টন থানায় মানবপাচার আইনে মামলা হয়েছে। তাদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানান এএসপি ফারজানা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!