কবিরাজির আড়ালে প্রতারণা, রোগী সেজে খুনিকে ধরল র্যাব
মিরপুরে থাকতেই কবিরাজি পেশার আড়ালে প্রতারণা শুরু করেন হেমায়েত ওরফে জাহিদ কবিরাজ। ২০০৮ সাল থেকে পাঁচ বছর সেখানে অবস্থানের পর জনরোষের মুখে মোহাম্মদপুরের বছিলায় অবস্থান নেন। সেখানেও শুরু প্রতারণা।
এমন একটি প্রতারণার অভিযোগের তদন্তে রোগীর ছদ্মবেশে হেমায়েত কবিরাজের দরবারে যায় র্যাব। সেখান থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। হেমায়েত খানের কাছে বিভিন্ন ধরনের আংটি, শঙ্খ, চেরাগ, ক্রেস্ট, কবিরাজি সংক্রান্ত বই পাওয়া যায়।
জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তিনি একটি হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। র্যাব বলছে, ২০০৫ সালে বাগেরহাটের চাঞ্চল্যকর মনু হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হেমায়েত। গত ১৭ বছর তিনি দেশে ও পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে কবিরাজের ছদ্মবেশে পলাতক জীবনযাপন করেছেন।
.png)
বৃহস্পতিবার দুপুরে কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।
তিনি বলেন, ২০০৫ সালের অক্টোবর মাসে বাগেরহাট জেলার সদর এলাকায় মনু বেগম নামে এক নারীর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়। ২০০৯ সালে ঐ হত্যাকাণ্ডে হেমায়েতকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত।
জিজ্ঞাসাবাদে হেমায়েত জানায়, তিনি ১৫-১৬ বছর বয়স থেকে কবিরাজি শুরু করেন। এ পেশার মাধ্যমে নানা মানুষের সঙ্গে আর্থিক প্রতারণা করতেন। নারীরাই ছিল তার প্রতারণার মূল টার্গেট। ২০০৩ সালে স্ত্রী-সন্তানসহ পিরোজপুর থেকে বাগেরহাটে এসে কবিরাজি ব্যবসা শুরু করেন।
এ পেশায় তার অন্যতম সহযোগী ছিল হত্যা মামলার আরেক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোবহান। হেমায়েতের কাছে মনুকে চিকিৎসার জন্য এনেছিলেন এই সোবহান। মনুর কাছে থাকা টাকা-পয়সায় নজর পড়েছিল হেমায়েতের। সে মোতাবেক পরিকল্পনা করে মনুকে চেতনানাশক খাইয়ে দলিলে টিপসই নেয়ার চেষ্টা করে হেমায়েত ও সোবহান। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে মনুকে কুপিয়ে এবং গলা কেটে হত্যা করে লাশ ধান ক্ষেতে লুকিয়ে রাখে হেমায়েত।
এ ঘটনায় মামলা হওয়ার পর গ্রেফতার এড়াতে হেঁটে অবৈধভাবে ভারত যায় হেমায়েত। আজমীর শরীফে ৩ বছর থাকার পর বাংলাদেশে ফিরে এসে রাজধানীর মিরপুরে বসবাস শুরু করে। লম্বা চুল ও দাড়িওয়ালা ছবি ব্যবহার করে, আসল নাম ও স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন করে জাহিদুল ইসলাম ছদ্মনাম ব্যবহারে নতুন জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে। মিরপুরে প্রতারণা করে ৫ বছর বছিলায় বিভিন্ন স্থানে বসবাস করছিল।
২০১২ সালে দারুসসালাম থানায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে। এছাড়া ২০১৭ সালে সে কবিরাজি কাজে ব্যবহৃত কষ্টি পাথরের মূর্তি রাখার দায়ে চোরাকারবারী হিসেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেফতারের পর দেড়মাস কারাভোগ করে।