শিক্ষক দম্পতির মৃত্যুর কারণ জানাল বিড়াল!
গাজীপুরে প্রাইভেটকারে শিক্ষক দম্পতির মৃত্যুর কারণ প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করতে পেরেছে পুলিশ। তাদের মৃত্যুর কারণ শনাক্তে বিড়াল দিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে।
মৃত শিক্ষক দম্পতি গাজীপুর টঙ্গীর শহিদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ কে এম জিয়াউর রহমান (৫১) ও তার স্ত্রী টঙ্গীর আমজাদ আলী সরকার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মাহমুদা আক্তার জলি (৩৫)। তারা গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের কামাড়জুরী এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ আগস্ট ভোরে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের খাইলকুর বগারটেক এলাকা থেকে ব্যক্তিগত গাড়ি থেকে ঐ শিক্ষক দম্পতির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঐ সময় মৃতদের মুখ দিয়ে সামান্য লালা বের হচ্ছিল। এছাড়া তাদের শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন ছিল না। বিভিন্ন স্থান থেকে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে এবং বিভিন্নভাবে অনুসন্ধান ও তদন্ত করেও শিক্ষক দম্পতির মৃত্যুর কারণ খুঁজে পাচ্ছিল না পুলিশ।
শিক্ষক দম্পতির মৃত্যুর দুই মাস পর তাদের ব্যবহৃত গাড়িতে একটি বিড়াল রেখে এসি ছেড়ে গাড়ির দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। ১০-১২ মিনিট পর বিড়ালটি দুর্বল হয়ে নুয়ে পড়তে থাকে। ২৫-২৬ মিনিট পর বিড়ালটি মারা যায়। শিক্ষক দম্পতির স্কুল থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধারের স্থান খাইলকুর বগারটেক এলাকা অনুমানিক ২৫-২৬ মিনিটের দূরত্ব। এ পরীক্ষা থেকে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শিক্ষক দম্পতির মৃত্যু গাড়ির বিষাক্ত গ্যাস থেকেই হয়েছে।
প্রায় আড়াই মাস ধরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ, ডিবি পুলিশ, পিবিআই, সিআইডি ও র্যাব-১ সহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা শিক্ষক দম্পতির মৃত্যুর ঘটনাটি তদন্ত করছেন। গাড়ি ও গাড়ির ভেতরে থাকা বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করে পরীক্ষার জন্য বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর), বিআরটিএ এবং ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সসহ কয়েকটি সংস্থায় পাঠানো হয়েছে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটনের গাছা থানার এসআই নাদির উজ্জ-জামান বলেন, বিড়াল দিয়ে পরীক্ষা করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শিক্ষক দম্পতির মৃত্যু তাদের ব্যবহৃত গাড়ির বিষাক্ত গ্যাস থেকেই হয়েছে। জব্দ করা আলমতের পরীক্ষা করা হচ্ছে।
গত ১৭ আগস্ট স্কুলে গিয়ে সন্ধ্যায় বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়ে ঐ শিক্ষক দম্পতি আর বাড়ি ফেরেননি। পরের দিন ভোরে তাদের ব্যবহৃত ব্যক্তিগত গাড়ি থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় মৃতের বড় ভাই স্কুল শিক্ষক আতিকুর রহমান বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার আড়াই মাস হয়ে গেলেও ঘটনার কারণ খুঁজে বের করতে পারেনি পুলিশ। এখন পর্যন্ত ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।
গাজীপুর শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান শাফি মোহাইমেন জানান, এখন পর্যন্ত ভিসেরা প্রতিবেদন আসেনি। যার কারণে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়নি। ভিসেরা প্রতিবেদনের জন্য সর্বোচ্চ ৩ মাস সময় লাগে।