ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ রাজধানী ]

ওদের মুখেও লেগে আছে ঈদের হাসি

আসমাউল মুত্তাকিন ও শব্দনীল
প্রকাশিত: ১৯:৪৮, ২১ এপ্রিল ২০২৩
ওদের মুখেও লেগে আছে ঈদের হাসি
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

রাজধানীর বিভিন্ন মোড়ে কিংবা বাসস্ট্যান্ডে দেখা মেলে তাদের। কখনো কখনো ট্রাফিক সিগন্যাল অথবা পার্কেও দেখা যায়। রঙিন পোশাক আর নানা অঙ্গভঙ্গিতে করেন আবদার। বলেন, ‘এই ট্যাকা দে, দে...না, দেও না। ১০টা ট্যাকা দে? দিবি না’। রাস্তাঘাটে চলতে ফিরতে এমন আওয়াজ কানে প্রায়ই আসে। যাদের কথা বলা হচ্ছে, তারা তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ। সমাজে তারা ‘হিজড়া’ হিসেবে বেশি পরিচিত। 

গত বুধবার সরেজমিন এমন কয়েকজনের দেখা মেলে ধানমন্ডি লেকের পার্কে। প্রচণ্ড রোদ। একটু স্বস্তির আশায় পার্কে বসে আছেন বহু মানুষ। এমন সময় দল বেঁধে তারা হাজির। আবদার করলেন টাকা। পার্কে বসে থাকা মানুষও যা পারলেন তাদের দিলেন। এ সময় কথা বলার জন্য তাদের কাছে গেলে লজ্জা পেয়ে তারা চলে গেলেন।

এমন একজনের নাম শ্রাবন্তী খন্দকার। বয়স ৩৯ বছর। থাকেন পুরান ঢাকার বংশালে। ভালো নাম সেলিম খন্দকার। তিনি তৃতীয় লিঙ্গের সর্দার। সামনে ঈদ। তিনি বাড়ি যাবেন। তাই শেষদিনে এক সঙ্গে জমায়েত হয়েছেন। শুধু শ্রাবন্তীনই নন, আরো এক সঙ্গে জড়ো হয়েছেন মাহী, নওশিন আক্তার সিলভিয়া, পরীমনি, বিপাশা, অ্যামি। প্রত্যেকেই ঢাকায় আছেন। এবারের ঈদে পরিবারের সঙ্গে ঈদ কাটাতে ঢাকায় ছাড়ার পরিকল্পনা করছেন।

Advertisement

শ্রীবন্তীর গ্রামের বাড়ি সিলেটের শায়েস্তাগঞ্জে। গতবারের ঈদ করতে সেখানে গিয়েছিলেন। এবারোও যাচ্ছেন। ঈদ প্রসঙ্গে ডেইলি বাংলাদেশকে তিনি বলেন, ‘সবাই চায় সে যেখানে জন্মগ্রহণ করেছে সেখানে ঈদ করতে। কারণ গ্রামের বাড়িতে ঈদ করার মজাই আলাদা। আমি সব সময় আমার বাবা-মায়ের সঙ্গে ঈদ করি। প্রত্যেকবার ঈদে মা-বাবার সঙ্গে থাকি। এবার সেটি হচ্ছে না। কারণ বাবা আছে, মা নেই। মা মারা গেছে। ঈদের দিন কোথাও বের হই না। আমার পরিবারের যারা, আছে তাদের সঙ্গে ঘরেই থাকি।’

ছোটবেলার ঈদ অনেক ভালো হতো। এখনকার ঈদ তেমন হয় না জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘ছোট্টবেলায় আনন্দ উল্লাস করা হতো। এখনকার ঈদে সেটি করতে পারি না। বাইরে বের হলে অনেকেই নানা কথা বলেন। যা ভালো লাগে না। তারপরও ঈদ করে ঢাকায় ফিরে আসি।’

ঈদে পরিবারে জন্য কিছু করতে না পারলেও বঙ্গবাজারের মানুষের জন্য সাহায্য করতে পারায় ভালো লাগছে শ্রাবন্তীর। ডেইলি বাংলাদেশকে তিনি জানান, ‘বহু বছর ধরে আমরা বঙ্গবাজারের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছি। এখন তারা বিপদে পড়েছেন। তাই চিন্তা করেছি এবার ঈদের কেনাকাটা না করে সেই অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দেবো। সেখানে থেকে দিয়েছিও।’

২০ লাখ টাকা কম নয়। সেগুলো কীভাবে তুলেছেন- এসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা মানুষের কাছ থেকে এক-দুই টাকা করে উঠিয়ে উঠিয়ে এই টাকা জমিয়েছি। সারা দেশের হিজড়ারা এক হয়ে ২০ লাখ টাকা তুলেছি। এখন আমরা সেটা মানবতার কল্যাণেই দিয়ে দেব। এ টাকা কোনো ব্যবসায়ীর হাতে হাতে দেওয়া হবে না। পুরোটাই ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সহায়তা তহবিলে জমা দেওয়া হবে। সেখান থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের হাতে হাতে এ টাকা পৌঁছে যাবে।’

অনেক সময় রাস্তায় আবদার করার নামে জনভোগান্তির পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে বিব্রতকর অবস্থায়ও ফেলেন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষেরা। এ বিষয়ে শ্রাবন্তী জানান, ‘সব জায়গায় ভালো-মন্দ মানুষ রয়েছে। আমরা সবাইকে বিরক্ত করি না। যে দিলে দিলো। না হলে নাই। আমরা জোর করে টাকা নিই না। আমরা সুন্দর ব্যবহার করি। সে ব্যবহারে মানুষ টাকা দেয়। কয়েকজন আছেন, যারা এমন করে। তাদের দেখে বলা যাবে না সব হিজড়া খারাপ।’

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!