ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ রাজধানী ]

অবৈধ অটোরিকশায় বেপরোয়া চাঁদাবাজি

আব্দুল্লাহ আল মামুন
প্রকাশিত: ১৭:৪৪, ১৮ মার্চ ২০২৪
অবৈধ অটোরিকশায় বেপরোয়া চাঁদাবাজি
অবৈধ অটোরিকশায় বেপরোয়া চাঁদাবাজি

* হাইকোর্টের নির্দেশনা মানছে না কেউ
* দাপিয়ে বেড়ায় অবৈধ যান, নেয়া হয় না ব্যবস্থা 
* নীরব ভূমিকায় ট্রাফিক পুলিশ 
* প্রতি মাসে কোটি টাকা চাঁদাবাজি
* চাঁদা না দিলে হয়রানি
* টোকেন বাণিজ্য তুঙ্গে

রাজধানীজুড়ে অবৈধ অটোরিকশার ছড়াছড়ি। প্রায় প্রতিটি পাড়া-মহল্লার অলিগলি দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এসব অবৈধ অটোরিকশা। এতে সাধারণ মানুষের চলাচলে উপকার যতটুকু হচ্ছে, তার চেয়ে ভোগান্তি হচ্ছে বেশি। আর বেপরোয়াভাবে চলাচলের কারণে দিনদিন দুর্ঘটনাও বাড়ছে। ট্রাফিক-সার্জেন্টদের চোখের সামনে এসব অবৈধ যান চলাচল করলেও তারা না দেখার ভান করে থাকেন। অনেকে আবার প্রতিদিন, সাপ্তাহিক বা মাসিক চুক্তিতে মাসোহারাও নেন। 

হাইকোর্ট থেকে এসব অটোরিকশা বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হলেও তা কোথাও মানা হচ্ছে না। রাজধানীর মিরপুর, উত্তরা, খিলক্ষেত, বাড্ডা, রামপুরা-বনশ্রী, খিলগাঁও, পুরান ঢাকাসহ প্রায় সব এলাকার প্রধান সড়কগুলোতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ব্যাটারিচালিত এসব অবৈধ অটোরিকশা।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিন ঘুরে ব্যাটারিচালিত এসব অটোরিকশার দাপট দেখা গেছে। অথচ প্রায় সব জায়গায়ই ট্রাফিক পুলিশ দায়িত্ব পালন করে। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে এদিকে তারা নজর দেন না।

Advertisement

সূত্র জানায়, মিরপুর ১০, ১১, ১২ ও ১৩ নম্বর, পল্লবী, রূপনগর, ভাষানটেক, শাহআলী, শিয়াল বাড়ি মোড়, প্রশিকা মোড়, চিড়িয়াখানা রোড, চলন্তিকা মোড়, মিল্কভিটা মোড়, গুদারাঘাট, দুয়ারীপাড়া, ইস্টার্ন হাউজিং, লালমাটিয়া, বাউনিয়াবাঁধ, জুটপট্টি, ডিসি অফিস গলি, পপুলার এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১৬ থেকে ২০ হাজার অটোরিকশা চলাচল করে। এসব অটোরিকশা ট্রাফিক পুলিশের সামনেই সড়কে দাপিয়ে বেড়ায়। এর পেছনে রয়েছে কোটি কোটি টাকার টোকেন বাণিজ্য। এই চাঁদা ক্ষমতাসীন দলের নেতার পাশাপাশি ট্রাফিক পুলিশের টিআই, সার্জেন্টসহ স্থানীয় থানা-পুলিশের  অনেকেরই  পকেটেই যায় বলে স্বয়ং অটোরিকশার চালকরাই জানিয়েছেন।

সূত্র আরো জানায়, ২০ হাজার বেশি অটোরিকশার প্রত্যেকটি থেকে প্রতিমাসে ১৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা করে চাঁদা তোলা হয়। সে হিসাব অনুযায়ী, প্রতিমাসে কোটি টাকার বেশি চাঁদা ওঠে। কোনো অটোরিকশাচালক যেন অলিগলির ফাঁকে চাঁদাবিহীন চলতে না পারে, সেজন্য মাসে মাসে ট্রাফিক সার্জেন্টদের মনোনীত চাঁদাবাজাদের লোগো সংবলিত টোকেন দেওয়ার নিয়ম তৈরি করা হয়েছে। এক মাসের চাঁদা দিলে পরের মাসের জন্য দেওয়া হয় লোগো সংবলিত টোকেন। 

অটোরিকশা চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে গত বছরের ১১ অক্টোবর রূপনগর থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা করা হয়। মামলা নং-৮। মামলায় একজন গ্রেফতার হলেও বাকিরা জামিন নিয়ে পুনরায় অটোরিকশা টোকেন ব্যবসার নামে চাঁদাবাজিতে লিপ্ত হয়। 

এ এলাকার কয়েকজন গ্যারেজ মালিক অভিযোগ করেন, এই চাঁদাবাজদের পেছনে রূপনগর থানার এক পুলিশের হাত রয়েছে। এ কারণেই তাদের দমানো যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে গ্যারেজ মালিকদেরও অটোরিকশার কার্ড নিতে হচ্ছে। কয়েকদিন আগে কার্ড নিতে অস্বীকার করলে বিভিন্ন গ্যারেজ থেকে চার্জার এবং অটোরিকশার সরঞ্জামাদি নিয়ে আসে রুপনগর থানা পুলিশ। এ বিষয়ে স্থানীয় থানা-পুলিশের কাছ থেকে তারা কোনো প্রতিকার পাচ্ছে না। উল্টো হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে রূপনগর থানার পরিদর্শক (ওসি) আব্দুল মজিদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। 

এ বিষয়ে মিরপুর ট্রাফিক বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার জসীমউদ্দীন বলেন, অবৈধ রিকশা চালাতে যারাই সহযোগিতা করছে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের বিরুদ্ধে আইনআনুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, কোনো ব্যক্তির অপকর্মের দায় বাহিনী নেবে না। ট্রাফিক পুলিশের কেউ যদি এই অটোরিকশার টোকেন বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত থাকেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমএস/এমআরকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!