গ্রেফতারকৃতরা হলেন- সূত্রাপুরের বাসিন্দা জুয়েল ও নজরুল। তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডের ব্যবহৃত ১টি নোজ প্লায়ার্স, ২টি স্ক্রু ড্রাইভার ও নিহতের চুরি হওয়া বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় পিবিআই।
.png)
বিজ্ঞপ্তিতে সম্মেলনে বলা হয়, গত ১০ সেপ্টেম্বর রাতে নটরডেম কলেজের অফিস সহকারী লিপিকা গোমেজ ঢাকার সূত্রাপুরে নিজ বাসায় খুন হন। তার মাথায় ভোতা অস্ত্রের আঘাত (কাটা দাগ) ও বিছানা-বালিশে জমাট বাঁধা রক্ত দেখা গেছে। ঐ বাসায় একাই বসবাস করতেন তিনি। প্রায় ১৮ বছর আগে স্বামী মাহাবুবুল আলমের সঙ্গে তার ডিভোর্স হয়ে যায়।
পিবিআই জানায়, গত ১০ সেপ্টেম্বর লিপিকা গোমেজ কলেজ ছুটির পর বাসায় চলে যান। পরদিন কর্মস্থলে না যাওয়ায় তার খবর সংগ্রহের জন্য জনি ও জয়দেব নামে দুই কর্মচারীকে লিপিকার বাসায় পাঠান কলেজের অধ্যক্ষ ফাদার হেমন্ত পিউস রোজারিও। তারা লিপিকা গোমেজের বাসায় গিয়ে তাকে শয়ন কক্ষের খাটের উপর মৃত অবস্থায় দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে নিহতের মামাতো ভাই প্রিন্স গোমেজ দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। এরপর পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার ও সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় প্রিন্স গোমেজ বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে সূত্রাপুর থানায় মামলা করেন।
মামলার পর ছায়া তদন্ত শুরু করে পিবিআই। এক পর্যায়ে তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে জুয়েল ও নজরুল নামে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে তাদের দেওয়া তথ্যে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র ও নিহতের চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার করা হয়।
আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, সূত্রাপুরে নজরুলদের বাসায় মেস হিসেবে খেতেন জুয়েল। সেখান থেকেই তাদের পরিচয় এবং ৭-৮ বছরের বন্ধুত্ব। একদিন জুয়েল নজরুলকে জানান, তার পাশের বিল্ডিংয়ের চতুর্থ তলায় একজন মহিলা একা থাকেন। তার কোনো স্বামী ও সন্তান নেই। তার বাসায় চুরি করলে অনেক টাকা পয়সা পাওয়া যাবে। এরপর জুয়েল তার স্ত্রীকে বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ১টার দিকে নজরুলকে সঙ্গে নিয়ে লিপিকা গোমেজের বাসায় যান জুয়েল। ছাদ থেকে রশির সাহায্যে ঝুলে ভেন্টিলেটর ভেঙে বাসার ভেতরে প্রবেশ করেন নজরুল। পরে বাসার মেইন দরজা খুলে ছাদে গিয়ে জুয়েলকে ডেকে আনেন। এরপর চুরির এক পর্যায়ে লিপিকা টের পেয়ে গেলে নজরুল একটি লোহার পাইপ দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন এবং জুয়েল বালিশ দিয়ে মুখ চেপে ধরেন। এতে তাৎক্ষণিক লিপিকা মারা যান। এরপর তার দুটি মোবাইল, হাত ব্যাগ নিয়ে দরজায় বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে চাবি নিয়ে চলে যান নজরুল ও জুয়েল। পরে লিপিকার ব্যাগে থাকা ২৬ হাজার ৩৫০ টাকা ভাগ করে নেন। পরবর্তীতে নিহতের মোবাইল ফোন দুটি ৩ হাজার ৫০০ টাকায় শিবলু হোসেন জয় নামে একজনের কাছে বিক্রি করে সেই টাকাও ভাগ করে নেন।
আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণের জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে বলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে পিবিআই।