বসের রস, অধস্তনের কষ
বস, আপনাকে যতই ভালোবাসেন বলে মনে করুন না কেন, মনে রাখবেন তিনি আপনার সব কাজ কখনও সমর্থন করবেন না। কেবল সেসব কাজই সমর্থন করবেন, যেসব কাজে তিনি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে উপকৃত হবেন মনে করেন।
আপনি জাহান্নমে গেলেও বসের কিছু যায় আসে না— অথচ ভাব দেখান, আপনি তার কলজের টুকরো। এটি হচ্ছে বসের দেওয়া নিম্নমুখী তেল। এ তেলে গলে গেলে একদম মিশে যাবেন। মিশে যাবেন তো পিষে যাবেন।
অতএব, সাবধান। গৃহস্থ কি গবাদি পশুকে কম ভালোবাসে? প্রত্যেক সম্পর্কের মতো এখানেও প্রতিক্রিয়া আছে। তিনি টিল মারবেন, আপনি পাটকেল কি বসে বসে আঙুল চুষবেন?
বুড়ো শয়তান বস গাছে-পাকা মর্তমান কলাটা আরাম করে খেয়ে খেয়ে এগিয়ে যেতে থাকবেন। আর খোসাটা পেছনে পেলে আপনার উত্তরণের পথকে কণ্টকাকীর্ণ করে দেবেন।
আপনি মালয় দ্বীপের শেয়ালের মতো কলার ভাবনায় বুঁদ হয়ে বুড়ো আঙুল চুষবেন—
“মালয় দ্বীপের এক যে বোকা শেয়ালে
লাগলে খিদে মুরগি এঁকে দেয়ালে,
আপন মনে চাটতে থাকে খেয়ালে।”
বসের উদ্দেশ্য কী?
আপনি বসের ইচ্ছা-পূরণের হাতিয়ার এবং ওপরে উঠার সিঁড়ি বই কিছুই নন। বসের উদ্দেশ্য একটাই— আপনাকে দলিত করে লক্ষ্যস্থলে পৌঁছা।
আপনি কী করবেন?
বসকে তেল দেবেন।এটি হচ্ছে বসকে দেওয়া ঊর্ধ্বমুখী তেল। প্রয়োজনে পিচকিরির সাহায্য নিতে পারেন। বসকে তেল দিতে দিতে তাঁর পথকে এমন পিচ্ছিল করে দেবেন যাতে দু-পা এগিয়ে তিন-পা যেতে মড়াৎ করে পা পিছলে আলুর দম হয়ে যান। তাঁর কলার খোসা আপনার তেলে ডুবে যাবে। বুড়া পড়ে যাওয়া মাত্র তাঁকে মাড়িয়ে এগিয়ে যাবেন।
মনে মনে গাইতে থাকবেন বিশ্বকবি—
“ওরে নবীন, ওরে আমার কাঁচা,
ওরে সবুজ, ওরে অবুঝ,
আধমরাদের ঘা মেরে তুই বাঁচা।”
বেচারা বসের কী হবে?
বস জাহান্নমে যাক, পা পিছলে কোমর ভেঙে লুলা হয়ে যাক, হাত ভেঙে ফুটবল হয়ে যাক, রাস্তায় পড়ে মাগুক, অসহায় দৃষ্টিতে অশ্রু এনে হাহাকারের বৃষ্টি ঝড়াক, ওই বৃষ্টির জলে নদী হোক, নদীতে হাজার লোক মৎস্য নিধন করুক —
তাতে আপনার কী!
উপদেশ: বউ আর বস — এ দুই ব-য়ের কাছে মিউট থাকাই কিউট।
লেখক : ড. মোহাম্মদ আমীন, ভিজিটিং প্রফেসর, ইউনিভার্সিটি অব অটোয়া, কানাডা