তাজিংডং নাকি সাকা হাফং, কোনটি সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ?
বান্দরবানের তাজিংডং নাকি সাকা হাফং, দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কোনটি? এ নিয়ে বিতর্ক চলছে এক যুগ ধরেই। এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে কাজ শুরু করেছে জরিপ অধিদফতর। নতুন করে সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ নির্ধারণে চলছে জরিপ।
শুক্রবার জরিপ অধিদফতরের ৩৫ জনের একটি দল দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ নির্ধারণে কাজ শুরু করেছে। জরিপ দলের সদস্যরা ৪০ দিন ধরে রুমা ও থানচি উপজেলার পাহাড়গুলো পরিমাপ করে সর্বোচ্চ পাহাড়ের শীর্ষবিন্দু নির্ণয় করবেন।
জেলার দুর্গম রুমা উপজেলায় অবস্থিত কেওক্রাডংকে সরকারিভাবে এক সময় দেশের সর্বোচ্চ পাহাড় হিসেবে গণ্য করা হতো। বর্তমানে সরকারিভাবে তাজিংডং পাহাড়কে সর্বোচ্চ বলা হচ্ছে। তবে পাহাড়ের গহীনে যারা ভ্রমণ করেন তাদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন তাজিংডং নয়, সাকা হাফং দেশের সবচেয়ে উঁচু পর্বতশৃঙ্গ। এই বিতর্ক নিরসনে জরিপ অধিদফতর থেকে দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ নির্ণয়ের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
.png)
এর আগে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ পর্বতারোহী ২০১০ সালের ২৩ নভেম্বর থেকে ১০ দিন বান্দরবানের বিভিন্ন পর্বতে আরোহণ করেন। গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেমসহ ভৌগোলিক অবস্থান নির্ণয়ের সব আধুনিক সরঞ্জাম ও জিপিএস দিয়ে তারা পর্বতগুলোর উচ্চতা রেকর্ড করেন। সেই সময় তারা জরিপ করে সাকা হাফংকে দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ হিসেবে ঘোষণা করেন। এরপর থেকে মূলত দেশের সবচেয়ে উঁচু পর্বত নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়।

জানা যায়, বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিন্দু বা পর্বতশৃঙ্গ সরকারিভাবে পরিমাপের জন্য ২০২২ সালের ১৭ মে বাংলাদেশ জরিপ অধিদফতরের কাছে একটি চিঠি পাঠান বান্দরবানের জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজি। সেখানে তিনি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিন্দু বা পর্বতশৃঙ্গ নির্ধারণ ও অন্যান্য পর্বতগুলোকে সরকারিভাবে পরিমাপ করে গেজেট প্রণয়নের জন্য অনুরোধ জানান।
এদিকে, সম্প্রতি জরিপ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক (জরিপ) দেবাশীষ সরকার জেলা প্রশাসককে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে তিনি থানচি ও রুমা এলাকার পাহাড়সহ দুর্গম এলাকায় অবস্থিত পাহাড়গুলো পরিমাপের কথা জানান।
ইংরেজ পর্বতারোহী জিনজে ফোলেন ২০০৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জিপিএস দিয়ে সাকা হাফংয়ের উচ্চতা রেকর্ড করেন ১০৬৪ মিটার। এই রেকর্ড রাশিয়া-পরিচালিত এসআরটিএম উপাত্তের সঙ্গে মিলে যায়। ঐ উপাত্তে সাকা হাফংয়ের উচ্চতা বলা হয় ১০৫২ মিটার। বাংলাদেশেরও একটি পর্বতারোহী দল সাকা হাফংয়ের উচ্চতা রেকর্ড করেন ১০৬২ মিটার। এসব উপাত্ত যাচাই-বাছাই করে দেখা যায়, সাকা হাফংই দেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ।
বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুরাইয়া আক্তার সুইটি জানান, ২৫ নভেম্বর জরিপ অধিদফতরের ৩৫ জনের একটি দল বান্দরবানে এসে দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ নির্ধারণে কাজ শুরু করেছে। এই দলের নেতৃত্ব দেবেন অধিদফতরের উপ-সহকারী তত্ত্বাবধায়ক এরশাদুল হক মণ্ডল। দলটি থানচি ও রুমা উপজেলায় ৪০ দিন ধরে বিভিন্ন পাহাড়ের উচ্চতা পরিমাপ করবেন।