বাঁশ কোড়ল পাহাড়িদের জনপ্রিয় খাবার
পার্বত্য জেলাগুলোতে পাওয়া যায় বিভিন্ন পাহাড়ি সবজি। এসব সবজির বেশিরভাগই স্বাদে-পুষ্টিগুণে অনন্য। তেমনই একটি সবজি বাঁশ কোড়ল। অবশ্য বাঁশ কোড়ল সম্পর্কে অনেকেরই অজানা। অনেক ক্ষত্রে সমতল মানুষ বাঁশ যে খাওয়া যায় এ কথা বিশ্বাস করতে চান না। তবে বাঁশ কোড়ল পাহাড়ি জেলাগুলোতে বসবাসরত জনগোষ্ঠীর কাছে এক সুস্বাদু খাবার।
বাঁশ কোড়ল শুধু সুস্বাদু খাবারই নয়, এর রয়েছে বিভিন্ন পুষ্টিগুণ। তাই পাহাড়িদের কাছে জনপ্রিয় খাবার হিসেবেই পরিগণিত হয়ে আসছে এটি। অন্যান্য পার্বত্য জেলার মতো রাঙ্গামাটিতেও ঐতিহ্যবাহী সুস্বাদু সবজির নাম বাঁশ কোড়ল। ইংরেজিতে বাঁশ কোড়লকে বলা হয় ‘ব্যাম্বু শ্যুট’।
এ বাঁশ কোড়লের রয়েছে বিভিন্ন নাম। মারমাদের কাছে এটি মহ্ই, চাকমাদের কাছে বাচ্ছুরি এবং ত্রিপুরাদের কাছে মেওয়া নামে পরিচিত। বাঁশ কোড়ল মূলত কচি বাঁশ, যা সবজি হিসেবে খাওয়া যায়। বাঁশের কচি চারার পাঁচ থেকে ছয় ইঞ্চি পর্যন্ত ছোবরার ভেতরে যে কচি অংশটি থাকে মূলত সেটিই বাঁশ কোড়ল। সবজি হিসেবে ঐ অংশ খাওয়া হয়। বাঁশের ঝাড় থেকে সংগ্রহ করে আনার পর এটির খোসা ছড়িয়ে তারপর মূল অংশটি বের করে আনা হয়।
.png)
সারা বছর বাঁশ কোড়ল পাওয়া গেলেও মে থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত পাহাড়ের বাজারগুলোতে এটি বেশি পাওয়া যায়। বাঁশ কোড়লে রয়েছে বিভিন্ন প্রকারভেদ। পাহাড়ে মিতিঙ্গা, ফারুয়া, মুলি, বাইজ্জ্যে, ডলু, কালিছুরি বাঁশসহ বিভিন্ন রকম বাঁশ পাওয়া যায়। মুলি বাঁশ কোড়ল সবচেয়ে বেশি সুস্বাদু। বাজারে এর চাহিদা এবং দামও বেশি। মুলি বাঁশ কোড়ল দিয়ে অনেকগুলো রেসিপি তৈরি করা যায়। এছাড়া পাহাড়ি এলাকায় যেসব বাঁশ কোড়ল দেখা যায়, এর প্রতিটি প্রজাতিই প্রায় খাওয়ার যোগ্য।
বাঁশ কোড়ল শুধু পারিবারিক খাদ্য তালিকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। এখন এটি রাঙ্গামাটির বিভিন্ন রেস্টুরেন্টের প্রধান আকর্ষণে পরিণত হতে শুরু করেছে। পর্যটকদের কাছেও দিনদিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এটি।
রাঙ্গামাটির সমাজ্জ্যে রেস্টুরেন্টের ব্যবস্থাপক মাইকেল চাকমা জানান, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি বাঙালিদের মধ্যেও বাঁশ কোড়ল খাওয়ার প্রবণতা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাঁশ কোড়ল খেতে যেমন সুস্বাদু হওয়ারা পাশাপাশি অনেক রোগের জন্যও এটি খুব ভালো। এছাড়া এটি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখাতে সাহায্য করে।
জেলা শহরের সবচেয়ে বড় কাঁচাবাজার বনরুপা বাজারে বাঁশ কোড়ল বিক্রি করতে আসা পাহাড়ি নারী জয়া চাকমা বলেন, আমরা পাহাড় থেকে বাঁশ কোড়ল সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করতে আনি। বর্ষাকালে বেশি বাঁশ কোড়ল হয়।
রাঙ্গামাটির পরিবেশবাদী সংগঠন গ্লোবাল ভিলেজের পরিচালক ফজলে এলাহী জানান, পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে বাঁশ কোড়ল নিবিড়ভাবে জড়িত। এটি পাহাড়ের খুবই জনপ্রিয় একটি খাবার। তবে বেশি পরিমাণে বাঁশ আহরণের ফলে এখানকার কর্ণফুলী পেপার মিল, বাঁশের আসবাবপত্রসহ বাঁশের ওপর নির্ভরশীল শিল্পগুলো হুমকির মুখে পড়ছে। এজন্য বাঁশ শিল্পকে বাঁচাতে হলে অত্যধিক পরিমাণে বাঁশ আহরণে নিরুৎসাহিত করতে হবে সচেতন মহলকে।